ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৬ বছর শিক্ষকতার পর অবসর,প্রিয় শিক্ষককে বিদায়ে অশ্রুসিক্ত ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ ৩৬ বছর শিক্ষকতা শেষে প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ল হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। কেউ প্রিয় শিক্ষককে জড়িয়ে ধরে কাঁদল, কেউ আবার চোখের পানি মুছতে মুছতে শেষবারের মতো তাঁর সান্নিধ্যে সময় কাটাল। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে শিক্ষক সাকিনা বেগমের অবসর উপলক্ষে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে এ হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের দেখা মেলে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান। সহকারী শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার, সহ-সভাপতি ফজলুল হক মজুমদার, শিক্ষক ও অভিভাবক কমিটির সভাপতি সাংবাদিক এসএম মিরাজ মুন্সীসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। সাকিনা বেগম দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অবসরজীবন সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিময় হোক—এ কামনা করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, সাকিনা বেগম দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর অবসর বিদ্যালয়ের জন্য একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। একই সঙ্গে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সাকিনা বেগমকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় এবং স্মারক উপহার তুলে দেয়। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে।
বিদায়ী বক্তব্যে সাকিনা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কর্মজীবনের শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের সৎ, মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে সাকিনা বেগম স্নেহভরে শিক্ষার্থীদের মাথায় হাত রেখে তাদের জন্য দোয়া করেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালোবাসা ও আবেগে বিদ্যালয়ের পরিবেশ হয়ে ওঠে অশ্রুসিক্ত।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

৩৬ বছর শিক্ষকতার পর অবসর,প্রিয় শিক্ষককে বিদায়ে অশ্রুসিক্ত ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৯:০৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘ ৩৬ বছর শিক্ষকতা শেষে প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ল হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। কেউ প্রিয় শিক্ষককে জড়িয়ে ধরে কাঁদল, কেউ আবার চোখের পানি মুছতে মুছতে শেষবারের মতো তাঁর সান্নিধ্যে সময় কাটাল। এতে বিদ্যালয়ের পরিবেশ হয়ে ওঠে আবেগঘন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে শিক্ষক সাকিনা বেগমের অবসর উপলক্ষে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানে এ হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের দেখা মেলে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান। সহকারী শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার, সহ-সভাপতি ফজলুল হক মজুমদার, শিক্ষক ও অভিভাবক কমিটির সভাপতি সাংবাদিক এসএম মিরাজ মুন্সীসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষক শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। সাকিনা বেগম দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অবসরজীবন সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিময় হোক—এ কামনা করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার বলেন, সাকিনা বেগম দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর অবসর বিদ্যালয়ের জন্য একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। একই সঙ্গে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সাকিনা বেগমকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় এবং স্মারক উপহার তুলে দেয়। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে।
বিদায়ী বক্তব্যে সাকিনা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কর্মজীবনের শেষ দিনে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি শিক্ষার্থীদের সৎ, মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে সাকিনা বেগম স্নেহভরে শিক্ষার্থীদের মাথায় হাত রেখে তাদের জন্য দোয়া করেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভালোবাসা ও আবেগে বিদ্যালয়ের পরিবেশ হয়ে ওঠে অশ্রুসিক্ত।