ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনাতলায় নার্সারি মালিককে মারধর ও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার চারা গাছ কাটার অভিযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৩:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • 22

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক নার্সারি মালিককে মারধর, হত্যার হুমকি এবং নার্সারিতে থাকা প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার আমের চারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. রফিকুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে এর আগে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে তার ছেলে মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিবাদীরা তাদের পরিবারের আরও ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে রফিকুল ইসলাম তার বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে, বিবাদীদের বসতবাড়ি সংলগ্ন নিজ নার্সারি দেখতে যান। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া, ধারালো ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ১ নম্বর বিবাদী মো. মাসুমের নির্দেশে অন্যরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও বেদনাদায়ক জখম হয়। তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে দেখে হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার সময় তার নার্সারিতে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় নার্সারিতে থাকা বিভিন্ন জাতের আনুমানিক আড়াই থেকে তিন হাজার আমের কলমকাটা চারা গাছ কেটে ফেলা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রফিকুল ইসলাম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পুনরায় মারধরের জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করা হয়। পরে প্রাণভয়ে তিনি বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী মোছা. মনোয়ারা বেগম, ছেলে মো. মাসুদ রানা এবং ছোট ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন মফুসহ নার্সারিতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তখনও বিবাদীরা লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া ও ধারালো ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে তারা পাশের নয়া মিয়ার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিবাদীরা রফিকুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে মো. নয়া মিয়া ও মো. মোফাজ্জল হোসেন মফু-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় আরও কয়েকজন ঘটনাটি দেখেছেন, শুনেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ঘটনার পরও বিবাদীরা প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের একা পেলে পুনরায় মারধর ও খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় আসায় অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত এসব ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সোনাতলায় নার্সারি মালিককে মারধর ও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার চারা গাছ কাটার অভিযোগ

সোনাতলায় নার্সারি মালিককে মারধর ও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার চারা গাছ কাটার অভিযোগ

আপডেট : ০৩:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক নার্সারি মালিককে মারধর, হত্যার হুমকি এবং নার্সারিতে থাকা প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার আমের চারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. রফিকুল ইসলাম (৬০) নামে এক ব্যক্তি সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মাসুদ রানার বিরুদ্ধে এর আগে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে তার ছেলে মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিবাদীরা তাদের পরিবারের আরও ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে রফিকুল ইসলাম তার বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে, বিবাদীদের বসতবাড়ি সংলগ্ন নিজ নার্সারি দেখতে যান। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া, ধারালো ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ১ নম্বর বিবাদী মো. মাসুমের নির্দেশে অন্যরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও বেদনাদায়ক জখম হয়। তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে দেখে হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যাওয়ার সময় তার নার্সারিতে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় নার্সারিতে থাকা বিভিন্ন জাতের আনুমানিক আড়াই থেকে তিন হাজার আমের কলমকাটা চারা গাছ কেটে ফেলা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রফিকুল ইসলাম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পুনরায় মারধরের জন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করা হয়। পরে প্রাণভয়ে তিনি বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী মোছা. মনোয়ারা বেগম, ছেলে মো. মাসুদ রানা এবং ছোট ভাই মো. মোফাজ্জল হোসেন মফুসহ নার্সারিতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তখনও বিবাদীরা লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া ও ধারালো ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে তারা পাশের নয়া মিয়ার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিবাদীরা রফিকুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে মো. নয়া মিয়া ও মো. মোফাজ্জল হোসেন মফু-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় আরও কয়েকজন ঘটনাটি দেখেছেন, শুনেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ঘটনার পরও বিবাদীরা প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের একা পেলে পুনরায় মারধর ও খুন-জখম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় আসায় অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত এসব ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।