ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে খলিলুর রহমানের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৫:৫২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • 24

বগুড়ার সোনাতলায় মোঃ জাকিরুল ইসলামের করা সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ দাবি করে এর প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোঃ খলিলুর রহমান।

রোববার (১১ অক্টোবর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৯৭ সালে দুটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে গড়ফতেপুর মৌজায় মোট ১০ শতাংশ জমি মৃত জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে তিনি ও তার বড় ভাই হাবিবুর রহমান ক্রয় করেন। জমি বুঝে পাওয়ার পর তারা সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাটি ভরাটসহ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, পরবর্তীতে ওই জমির আরএস রেকর্ড তাদের দুই ভাইয়ের নামে প্রকাশিত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আরএস খতিয়ান নং-৭৯০, দাগ নং-৮৫ এবং সিএস দাগ নং-৩০৪-এ তাদের মালিকানা রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া জমিটি তাদের নামে নামজারি করার পর প্রায় ২৮ বছর ধরে তারা ভোগদখলে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখল ও মালিকানার বিষয়টি স্থানীয় প্রতিবেশী মোঃ জলিল মোল্লা, রবিউল ইসলাম, সঞ্জয় মিয়াসহ স্থানীয় অনেকেই অবগত।

সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বিক্রি করে দেওয়া ওই জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তবে মামলাটি বর্তমানে চলমান থাকায় এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খলিলুর রহমানের দাবি, বাড়িঘর নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে তারা জমির গাছপালা পরিষ্কার করেন। এ ঘটনায় জাকিরুল ইসলাম থানায় অভিযোগ করলে উভয় পক্ষের জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন তিনি দলিল, রেকর্ড, খাজনার কাগজপত্র এবং হালনাগাদ অনলাইন খাজনার রশিদসহ প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করেন। তবে অপর পক্ষের কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় উভয় পক্ষের প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন লোক উপস্থিত ছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

খলিলুর রহমান আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমি তিনি ও তার ভাই জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। ফলে পরবর্তীতে তার স্ত্রী ওই জমির মালিকানা দাবি করতে পারেন না বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের কাগজপত্র সঠিক থাকায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিতে নির্বিঘ্নে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাসের সুযোগ দিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় জাকিরুল ইসলাম, রাশেদ মিয়া ও বাবলা মিয়ার বিরুদ্ধে জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করার অভিযোগও করেন খলিলুর রহমান। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যার নম্বর ১৭৪৮ এবং তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

খলিলুর রহমান জানান, থানা কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষকে পুনরায় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এক মাস পর সময় দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাকিরুল ইসলাম ‘ভুয়া দলিলের মাধ্যমে’ তাদের রেকর্ডভুক্ত খতিয়ান নং-৭৯০-এর ভিত্তিতে ১২৪৬ নম্বর খারিজি খতিয়ান তৈরি করেছেন। বিষয়টি জানার পর তারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ওই খারিজি খতিয়ান বাতিলের আবেদন করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে খারিজি খতিয়ান নং-১২৪৬ বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে জমির ক্রয় দলিল, রেকর্ড, খাজনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের দীর্ঘদিনের দখলীয় জমি নিয়ে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করছি।

পরিশেষে তিনি গত ৬ অক্টোবর জাকিরুল ইসলামের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে করা বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তবে এ বিষয়ে জাকিরুল ইসলাম ও অভিযুক্ত অপর ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে খলিলুর রহমানের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে খলিলুর রহমানের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ০৫:৫২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ার সোনাতলায় মোঃ জাকিরুল ইসলামের করা সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ দাবি করে এর প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোঃ খলিলুর রহমান।

রোববার (১১ অক্টোবর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, ১৯৯৭ সালে দুটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে গড়ফতেপুর মৌজায় মোট ১০ শতাংশ জমি মৃত জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে তিনি ও তার বড় ভাই হাবিবুর রহমান ক্রয় করেন। জমি বুঝে পাওয়ার পর তারা সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, মাটি ভরাটসহ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, পরবর্তীতে ওই জমির আরএস রেকর্ড তাদের দুই ভাইয়ের নামে প্রকাশিত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আরএস খতিয়ান নং-৭৯০, দাগ নং-৮৫ এবং সিএস দাগ নং-৩০৪-এ তাদের মালিকানা রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া জমিটি তাদের নামে নামজারি করার পর প্রায় ২৮ বছর ধরে তারা ভোগদখলে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখল ও মালিকানার বিষয়টি স্থানীয় প্রতিবেশী মোঃ জলিল মোল্লা, রবিউল ইসলাম, সঞ্জয় মিয়াসহ স্থানীয় অনেকেই অবগত।

সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বিক্রি করে দেওয়া ওই জমির মালিকানা দাবি করে মামলা করেছেন। তবে মামলাটি বর্তমানে চলমান থাকায় এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খলিলুর রহমানের দাবি, বাড়িঘর নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে তারা জমির গাছপালা পরিষ্কার করেন। এ ঘটনায় জাকিরুল ইসলাম থানায় অভিযোগ করলে উভয় পক্ষের জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন তিনি দলিল, রেকর্ড, খাজনার কাগজপত্র এবং হালনাগাদ অনলাইন খাজনার রশিদসহ প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপন করেন। তবে অপর পক্ষের কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় উভয় পক্ষের প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন লোক উপস্থিত ছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

খলিলুর রহমান আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমি তিনি ও তার ভাই জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। ফলে পরবর্তীতে তার স্ত্রী ওই জমির মালিকানা দাবি করতে পারেন না বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের কাগজপত্র সঠিক থাকায় দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমিতে নির্বিঘ্নে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাসের সুযোগ দিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় জাকিরুল ইসলাম, রাশেদ মিয়া ও বাবলা মিয়ার বিরুদ্ধে জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করার অভিযোগও করেন খলিলুর রহমান। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে, যার নম্বর ১৭৪৮ এবং তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

খলিলুর রহমান জানান, থানা কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষকে পুনরায় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এক মাস পর সময় দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাকিরুল ইসলাম ‘ভুয়া দলিলের মাধ্যমে’ তাদের রেকর্ডভুক্ত খতিয়ান নং-৭৯০-এর ভিত্তিতে ১২৪৬ নম্বর খারিজি খতিয়ান তৈরি করেছেন। বিষয়টি জানার পর তারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর ওই খারিজি খতিয়ান বাতিলের আবেদন করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে খারিজি খতিয়ান নং-১২৪৬ বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে জমির ক্রয় দলিল, রেকর্ড, খাজনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের দীর্ঘদিনের দখলীয় জমি নিয়ে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করছি।

পরিশেষে তিনি গত ৬ অক্টোবর জাকিরুল ইসলামের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে করা বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

তবে এ বিষয়ে জাকিরুল ইসলাম ও অভিযুক্ত অপর ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।