এক মুহূর্তের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে চার পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই। ঘরের আসবাবপত্র, জমানো টাকা, পরনের কাপড় ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই কেড়ে নিয়েছে আগুন। চোখের সামনে আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার। এখন নিঃস্ব পরিবারগুলোর সামনে একটাই প্রশ্ন—কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন তাঁরা?
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই বাড়ির চারটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উভারামপুর গ্রামের দক্ষিণ পাটওয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, আগুনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে অটোচালক চান মিয়া, সূর্য মিয়া, দিনমজুর মো. স্বপন ও হাবিবের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বাড়ির পুরুষ সদস্যরা মসজিদে ছিলেন। এ সময় আগুনের সূত্রপাত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ঘরের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি তাঁরা। মুহূর্তেই চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাঁদের শেষ আশ্রয়টুকু।
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় লোকজন।
অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে দিশাহারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। অটোচালক চান মিয়া ও দিনমজুর মো. স্বপন বলেন, ‘আমরা জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলাম। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে দেখি, আমাদের ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, জমানো টাকা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র—কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এক মুহূর্তে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে চলব, তা বুঝতে পারছি না।’
দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সংসার হারিয়ে তাঁদের এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পরিবারগুলোর দিন কাটছে চরম দুশ্চিন্তায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরের এই আগুনে চারটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু পুড়ে গেছে। পরিবারগুলো এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, গ্রামটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানো কঠিন। তাই দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একই বাড়ির চারটি অসচ্ছল পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরিবারগুলো এখন চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। তাদের এই সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখার চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সম্বলহীন এই মানুষগুলোর পক্ষে একা একা সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন। তাঁদের প্রয়োজন জরুরি আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং নিরাপদ আশ্রয়।



















