ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোন অদৃশ্য কারনে ঝুলে আছে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নয়া কমিটি!

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩
  • 1411
রিয়াজ শাওন :
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ২০১৫ সালের ২১ জুন । ঘোষিত এই কমিটি ২০১৮ সালে এসে পূর্ণ কমিটিতে রূপ পায় । স্থানীয় রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অদৃশ্য ছায়ার কারণে গত সাত বছরে উপজেলা ছাত্রলীগের আর কোন নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি ।
এতে একদিকে যেমন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। অন্যদিকে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মাঝে বেড়েছে হতাশা। নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ার অপেক্ষায় অনেকের নেতা-কর্মীর ছাত্রলীগের রাজনীতি করার বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছরের নতুন কমিটি না হওয়ায়। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িত থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে মানসিক হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের
দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান কমিটিতে থাকা অনেকে নেতাই বিয়ে করে সংসার জীবনের দিকে ঝুঁকে গেছে। তাদের কারো কারো বাচ্চাও রয়েছে। ফলে অনেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের চেয়ে সাংসারিক কাজ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বেশি ।
এর ফলে কমিটির অনেক নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা যায় না। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। স্থবির হয়ে গেছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। নামমাত্র কার্যক্রম নিয়ে টিকে আছে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ।  ফলে উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নতুন নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করেন হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদরা।
যদিও গত ২৩ ডিসেম্বর ছয় বছর পর হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে আশার আলো দেখেছিলেন নেতাকর্মীরা। সে কর্মী সভায় উপস্থিত ছিল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ জেলার সকল স্তরের নেতাকর্মীরা। সেখানে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উভয়ই ঘোষণা দিয়েছেন অতি দ্রুতই হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ঘোষিত হয়নি হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি। এতে একপ্রকার হতাশই পড়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।
সবার মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে আদৌ কি ঘোষণা করা হবে নতুন কমিটি নাকি অতীতের মতোই কেটে যাবে বছরের পর পর? নাকি কোন অদৃশ্য শক্তির কাছে আটকে আছে নয়া কমিটি,  সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
এই বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ মোহন গাজী বলেন, মূলত কমিটি বা সম্মেলনের ঘোষণা দিবে  জেলা ছাত্রলীগ । তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে কমিটি দিবে। তবে আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এখন কোন ক্যাটাগরিতে কমিটি দিবেন কিভাবে দিবে সেটা তারা নির্ধারণ করবে, কারণ সামনে নির্বাচন ।
আমি চাই যাদেরকে নতুন নেতা বানানো হবে। তারা যেন অবশ্যই ছাত্র  এবং আমাদের ছাত্রলীগের কর্মী হয়। তবে অবশ্যই নিয়ম-নীতি মেনে কমিটি দিতে হবে । কোন কিছু না মেনে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কমিটি দিলে আমরা তো মানবো না। এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি দিতে হবে ।
নতুন কমিটি গঠন ও কমিটির নেতাদেরকে নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওবায়দুল রহমান খোকন বলেন, আমাদের এখন যাওয়ার সময় হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। নতুন নেতৃত্ব আসবে। তারা তাদের মত করে সংগঠনকে ঘুচিয়ে নিবে।
আমি বিশ্বাস করি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক অত্যন্ত দক্ষতা এবং যোগ্য নেতা। ইতিমধ্যে তারা সেটার প্রমান দিয়েছে। বেশ কয়েকটি কমিটিও তারা দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি। তারা হাজীগঞ্জ উপজেলায়ও নতুন কমিটি ঘোষণা করবে। তবে তাদের কাছে আমার অনুরোধ। যাদেরকে নতুন কমিটির নেতা বানানো হবে। তাদের বিষয়ে যেনো আগে থেকে খোঁজ খবর নেয়। তারা ছাত্র কি না? তারা বিবাহিত কি না সেটা যেনো আগে খোঁজ নেওয়া হয়। আর কোন ভাইয়ের ফোনে কিংবা কারে তদবিরে যেনো নেতা  বানানো না হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে হাজীগঞ্জের এমপি মহোদয়ের অত্যান্ত আস্থাভাযন এবং প্রভাবশালী নেতা হাজী জসিম বলেন, নতুন নেতৃত্ব আশা উচিত।  নতুন নেতা আসলে সংগঠন শক্তিশালী হয়। আর একটা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে ঝিমাইয়া পড়ে। নতুন নেতৃত্ব  যারা আসবে তারা যেনো ছাত্রলীগের নীতিমালা অনুযায়ী রানিং ছাত্র হয়। অছাত্রকে ছাত্রলীগের নেতা বানানো হলে  কমিটি দিলে সংগঠন এলোমেলো হয়ে যায়। রাজনীতিতে একটিভ এবং যারা রানিং ছাত্র তাদেরকে যেনো নতুন কমিটিতে নেতা বানানো হয়।
দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের কমিটি না হওয়ার নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাইনুদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যদি নিয়মিত নেতা নির্বাচিত হতো তাহলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো বেগবান হতো। এভাবে একটা কমিটি বছরের পর বছর থাকলে তো হয় না। আমরা বারবার তাগিদ দিচ্ছি নতুন কমিটি করার জন্য কিন্তু আমাদের কথাতো গুরুত্ব পাচ্ছে না। আমরা চাই যারা রেগুলার স্টুডেন্ট। যাদের সাথে কলেজ  কিংবা ইউনিভার্সিটির সম্পৃক্ততা রয়েছে তারাই নতুন নেতৃত্বে আসুক ।
হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজি বলেন, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগ কেন কমিটি দিচ্ছেনা। এটা তারা বলতে পারবে। আমি যতটুকু জানি জেলা ছাত্রলীগ এটা ঘুরাচ্ছে নানা রকম অজুহাত দিচ্ছে । নানা গ্রুপিং আছে একেক নেতার একেক রকম কথা বলে ঘুরাইতেছে। আমরা বলছি যারা ছাত্র এবং, যাদের  সাংগঠনিক যোগ্যতা আছে তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার জন্য।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন খাঁন বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা কেন খেলেন না?
জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বডা কি? জেলা কমিটি কেন নতুন কমিটি দেয় না। জেলা ছাত্রলীগের কাজডা কি?   নেতৃত্ব ধ্বংস হইতাছে । তার নতুন কমিটি করে না। এটা লেইখা দেন। আর লেখাবেন, হাজীগঞ্জের যারা কমিটিতে আছে তারা নিজেরা বিয়ে করছে বাচ্চা আছে। তারপরেও নেতৃত্ব ছাড়াতে চায় না। উল্টা আমাদেরকে কল দিয়ে কয় ভাই কমিটি ভাঙ্গেইন না সামনে জাতীয়  নির্বাচন  নির্বাচনটা অন্তত করি করি।  তারা কেন যেন নতুন কমিটির ব্যাপারে আগ্রহী না। তারা জেলায়  পদত্যাগ জমা দিলেই তো হয় ।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, আমরা কিছুদিন আগে কর্মীসভা করলাম নতুন কমিটি দেওয়ার জন্যই। এখন আমরা নতুন সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির সাথে কথা বলে নতুন কমিটি দিয়ে দিব। আর আমরা দেওয়ার জন্যই কর্মীসভা করছি কর্মীসভা করলে সাধারণত সাত দিন কিংবা এক মাসের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করা হয়। এখন যেহেতু সেন্ট্রালে নতুন প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি এসেছেন। তাদের সাথে আলোচনা করে দেখি তারা কি বলে। তাদের সাথে কথা বলেই আমরা সাতদিন হোক এক মাস কিংবা দুই মাসের মাঝে কিন্তু আমরা কমিটি দিয়ে দেব।
বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
আওয়ামীলীগের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা যে কোনো কর্মসূচি সফল ও সার্থক করতে ছাত্রলীগের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই  নির্বাচনের আগে হাজিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে নতুন নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার দাবি উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত নেতার জায়গা হবে না’—চাঁদপুরে শেখ ফরিদ মানিক

কোন অদৃশ্য কারনে ঝুলে আছে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নয়া কমিটি!

আপডেট : ০৮:০১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩
রিয়াজ শাওন :
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ২০১৫ সালের ২১ জুন । ঘোষিত এই কমিটি ২০১৮ সালে এসে পূর্ণ কমিটিতে রূপ পায় । স্থানীয় রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অদৃশ্য ছায়ার কারণে গত সাত বছরে উপজেলা ছাত্রলীগের আর কোন নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি ।
এতে একদিকে যেমন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না। অন্যদিকে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মাঝে বেড়েছে হতাশা। নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ার অপেক্ষায় অনেকের নেতা-কর্মীর ছাত্রলীগের রাজনীতি করার বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছরের নতুন কমিটি না হওয়ায়। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে জড়িত থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে মানসিক হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের
দীর্ঘদিন ধরে বর্তমান কমিটিতে থাকা অনেকে নেতাই বিয়ে করে সংসার জীবনের দিকে ঝুঁকে গেছে। তাদের কারো কারো বাচ্চাও রয়েছে। ফলে অনেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের চেয়ে সাংসারিক কাজ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বেশি ।
এর ফলে কমিটির অনেক নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা যায় না। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। স্থবির হয়ে গেছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। নামমাত্র কার্যক্রম নিয়ে টিকে আছে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ।  ফলে উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নতুন নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া সময়ের দাবি বলে মনে করেন হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদরা।
যদিও গত ২৩ ডিসেম্বর ছয় বছর পর হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে আশার আলো দেখেছিলেন নেতাকর্মীরা। সে কর্মী সভায় উপস্থিত ছিল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ জেলার সকল স্তরের নেতাকর্মীরা। সেখানে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উভয়ই ঘোষণা দিয়েছেন অতি দ্রুতই হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ঘোষিত হয়নি হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি। এতে একপ্রকার হতাশই পড়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা।
সবার মাঝে সংশয় তৈরি হয়েছে আদৌ কি ঘোষণা করা হবে নতুন কমিটি নাকি অতীতের মতোই কেটে যাবে বছরের পর পর? নাকি কোন অদৃশ্য শক্তির কাছে আটকে আছে নয়া কমিটি,  সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
এই বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ মোহন গাজী বলেন, মূলত কমিটি বা সম্মেলনের ঘোষণা দিবে  জেলা ছাত্রলীগ । তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে কমিটি দিবে। তবে আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এখন কোন ক্যাটাগরিতে কমিটি দিবেন কিভাবে দিবে সেটা তারা নির্ধারণ করবে, কারণ সামনে নির্বাচন ।
আমি চাই যাদেরকে নতুন নেতা বানানো হবে। তারা যেন অবশ্যই ছাত্র  এবং আমাদের ছাত্রলীগের কর্মী হয়। তবে অবশ্যই নিয়ম-নীতি মেনে কমিটি দিতে হবে । কোন কিছু না মেনে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কমিটি দিলে আমরা তো মানবো না। এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি দিতে হবে ।
নতুন কমিটি গঠন ও কমিটির নেতাদেরকে নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওবায়দুল রহমান খোকন বলেন, আমাদের এখন যাওয়ার সময় হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। নতুন নেতৃত্ব আসবে। তারা তাদের মত করে সংগঠনকে ঘুচিয়ে নিবে।
আমি বিশ্বাস করি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক অত্যন্ত দক্ষতা এবং যোগ্য নেতা। ইতিমধ্যে তারা সেটার প্রমান দিয়েছে। বেশ কয়েকটি কমিটিও তারা দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি। তারা হাজীগঞ্জ উপজেলায়ও নতুন কমিটি ঘোষণা করবে। তবে তাদের কাছে আমার অনুরোধ। যাদেরকে নতুন কমিটির নেতা বানানো হবে। তাদের বিষয়ে যেনো আগে থেকে খোঁজ খবর নেয়। তারা ছাত্র কি না? তারা বিবাহিত কি না সেটা যেনো আগে খোঁজ নেওয়া হয়। আর কোন ভাইয়ের ফোনে কিংবা কারে তদবিরে যেনো নেতা  বানানো না হয়।
হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে হাজীগঞ্জের এমপি মহোদয়ের অত্যান্ত আস্থাভাযন এবং প্রভাবশালী নেতা হাজী জসিম বলেন, নতুন নেতৃত্ব আশা উচিত।  নতুন নেতা আসলে সংগঠন শক্তিশালী হয়। আর একটা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে ঝিমাইয়া পড়ে। নতুন নেতৃত্ব  যারা আসবে তারা যেনো ছাত্রলীগের নীতিমালা অনুযায়ী রানিং ছাত্র হয়। অছাত্রকে ছাত্রলীগের নেতা বানানো হলে  কমিটি দিলে সংগঠন এলোমেলো হয়ে যায়। রাজনীতিতে একটিভ এবং যারা রানিং ছাত্র তাদেরকে যেনো নতুন কমিটিতে নেতা বানানো হয়।
দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের কমিটি না হওয়ার নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাইনুদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যদি নিয়মিত নেতা নির্বাচিত হতো তাহলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো বেগবান হতো। এভাবে একটা কমিটি বছরের পর বছর থাকলে তো হয় না। আমরা বারবার তাগিদ দিচ্ছি নতুন কমিটি করার জন্য কিন্তু আমাদের কথাতো গুরুত্ব পাচ্ছে না। আমরা চাই যারা রেগুলার স্টুডেন্ট। যাদের সাথে কলেজ  কিংবা ইউনিভার্সিটির সম্পৃক্ততা রয়েছে তারাই নতুন নেতৃত্বে আসুক ।
হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজি বলেন, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগ কেন কমিটি দিচ্ছেনা। এটা তারা বলতে পারবে। আমি যতটুকু জানি জেলা ছাত্রলীগ এটা ঘুরাচ্ছে নানা রকম অজুহাত দিচ্ছে । নানা গ্রুপিং আছে একেক নেতার একেক রকম কথা বলে ঘুরাইতেছে। আমরা বলছি যারা ছাত্র এবং, যাদের  সাংগঠনিক যোগ্যতা আছে তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার জন্য।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন খাঁন বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা কেন খেলেন না?
জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বডা কি? জেলা কমিটি কেন নতুন কমিটি দেয় না। জেলা ছাত্রলীগের কাজডা কি?   নেতৃত্ব ধ্বংস হইতাছে । তার নতুন কমিটি করে না। এটা লেইখা দেন। আর লেখাবেন, হাজীগঞ্জের যারা কমিটিতে আছে তারা নিজেরা বিয়ে করছে বাচ্চা আছে। তারপরেও নেতৃত্ব ছাড়াতে চায় না। উল্টা আমাদেরকে কল দিয়ে কয় ভাই কমিটি ভাঙ্গেইন না সামনে জাতীয়  নির্বাচন  নির্বাচনটা অন্তত করি করি।  তারা কেন যেন নতুন কমিটির ব্যাপারে আগ্রহী না। তারা জেলায়  পদত্যাগ জমা দিলেই তো হয় ।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন বলেন, আমরা কিছুদিন আগে কর্মীসভা করলাম নতুন কমিটি দেওয়ার জন্যই। এখন আমরা নতুন সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির সাথে কথা বলে নতুন কমিটি দিয়ে দিব। আর আমরা দেওয়ার জন্যই কর্মীসভা করছি কর্মীসভা করলে সাধারণত সাত দিন কিংবা এক মাসের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করা হয়। এখন যেহেতু সেন্ট্রালে নতুন প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি এসেছেন। তাদের সাথে আলোচনা করে দেখি তারা কি বলে। তাদের সাথে কথা বলেই আমরা সাতদিন হোক এক মাস কিংবা দুই মাসের মাঝে কিন্তু আমরা কমিটি দিয়ে দেব।
বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
আওয়ামীলীগের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা যে কোনো কর্মসূচি সফল ও সার্থক করতে ছাত্রলীগের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই  নির্বাচনের আগে হাজিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগকে গতিশীল ও শক্তিশালী করতে নতুন নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার দাবি উপজেলার সাবেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।