ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কচুয়ায় বসতঘরের জায়গা নিয়ে বিরোধ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৫:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • 23

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের শিলাস্থান গ্রামে পৈত্রিক জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিলাস্থান গ্রামের মৃত ছাদেক আলীর ছেলে মো. বিল্লাল হোসেনের (৫৫) সাথে একই বাড়ির মৃত মুক্তব আলীর ছেলে শহীদুল ইসলাম ও অলি উল্লাহ্ গং সহ বিবাদীদের দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। শিলাস্থান মৌজার ২৮৫ নম্বর খতিয়ানের ২৮৩ নম্বর দাগের ৮ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বিবাদীরা প্রায়ই বাদী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ৮টার দিকে বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে। অভিযুক্তরা মো. বিল্লাল হোসেনকে বেদম মারধর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী আয়েশা বেগম এবং মেয়ে শিমা আক্তারকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ১ নম্বর বিবাদী মো. শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে অন্যরা বসতঘরের আলমারি বা শোকেস ভেঙে ১ ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা) এবং নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ক্ষান্ত না হয়ে বিবাদীরা বসতঘরের টিনের বেড়া, চালের টিন, দরজাসহ বাথরুম ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। পরে আশপাশের লোকজন ও স্বাক্ষীরা এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

আহত মো. বিল্লাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে শহীদুল ইসলাম ও অলি উল্লাহ গংদের নেতৃত্বে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা শুধু আমাদের মারধরই করেনি, ঘরে ঢুকে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে এবং আমার বসতঘর ভাঙচুর করে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করেছে। আমি একজন অসহায় মানুষ, প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।

 

কান্না জড়িত কন্ঠে বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, শহীদুল, অলি উল্লাহ্  ও ইব্রাহিম গংরা আমাদের বসতঘরের আলমারি, শোকেস ভেঙে ১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তারা আমার স্বামী, ছেলে ও মেয়েদের বিভিন্ন ভাবে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।  আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য শহীদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে শহীদুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঘরে নেই, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা।  এই বলে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে চলে যান।

 

এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় বসতঘরের জায়গা নিয়ে বিরোধ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

কচুয়ায় বসতঘরের জায়গা নিয়ে বিরোধ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট : ০৫:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের শিলাস্থান গ্রামে পৈত্রিক জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিলাস্থান গ্রামের মৃত ছাদেক আলীর ছেলে মো. বিল্লাল হোসেনের (৫৫) সাথে একই বাড়ির মৃত মুক্তব আলীর ছেলে শহীদুল ইসলাম ও অলি উল্লাহ্ গং সহ বিবাদীদের দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। শিলাস্থান মৌজার ২৮৫ নম্বর খতিয়ানের ২৮৩ নম্বর দাগের ৮ শতক জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বিবাদীরা প্রায়ই বাদী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ৮টার দিকে বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাদীর বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে। অভিযুক্তরা মো. বিল্লাল হোসেনকে বেদম মারধর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী আয়েশা বেগম এবং মেয়ে শিমা আক্তারকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে ১ নম্বর বিবাদী মো. শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে অন্যরা বসতঘরের আলমারি বা শোকেস ভেঙে ১ ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা) এবং নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ক্ষান্ত না হয়ে বিবাদীরা বসতঘরের টিনের বেড়া, চালের টিন, দরজাসহ বাথরুম ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। পরে আশপাশের লোকজন ও স্বাক্ষীরা এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।

 

আহত মো. বিল্লাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে শহীদুল ইসলাম ও অলি উল্লাহ গংদের নেতৃত্বে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা শুধু আমাদের মারধরই করেনি, ঘরে ঢুকে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে এবং আমার বসতঘর ভাঙচুর করে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করেছে। আমি একজন অসহায় মানুষ, প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছি।

 

কান্না জড়িত কন্ঠে বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, শহীদুল, অলি উল্লাহ্  ও ইব্রাহিম গংরা আমাদের বসতঘরের আলমারি, শোকেস ভেঙে ১ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। তারা আমার স্বামী, ছেলে ও মেয়েদের বিভিন্ন ভাবে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।  আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য শহীদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে শহীদুল ইসলামের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঘরে নেই, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা।  এই বলে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে চলে যান।

 

এ ব্যাপারে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।