ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুরসহ পিরানহা মাছ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৯:৫৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩
  • 52
সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও গত কয়েকদিন ধরে হাজীগঞ্জে আফ্রিকান রাক্ষুসে মাগুর মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারের নির্দিষ্ট স্থান অর্থ্যাৎ মাছ বাজারে বিক্রি না হলেও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে হকারি করে বিক্রি হচ্ছে এই রাক্ষুসে মাছ। এর পাশাপাশি হাজীগঞ্জ ও বাকিলা বাজারসহ গ্রাম এলাকায় অপর নিষিদ্ধ রাক্ষুসে পিরানহা মাছ বিক্রি হতেও দেখা গেছে।
আইন অনুযায়ী, আফ্রিকান রাক্ষুসে মাগুরসহ পিরানহা মাছ আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব মাছ হরহামেশায় বিভিন্ন হাট-বাজারে ফেরি বা হকারি করে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রশাসনের কোন তৎপরতা বা কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা না যাওয়ায় এবং জনসচেতনতার অভাবে প্রকাশ্যেই এসব নিষিদ্ধ মাছ বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, বাজারে অন্য মাছের তুলনায় দামে কিছুটা কম হওয়ায় নিম্ন আয় ও অস্বচ্ছল মানুষের কাছে এসব মাছের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা জানেন না মানবদেহের জন্য কতটা তিকারক এসব মাছ, তাই বাজার থেকে সহজে কিনছেন অনেকে। এতে ভোক্তারা শুধু প্রতারিত হচ্ছেন না, তারা আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে।
আফ্রিকান মাগুর মাছগুলো দেখতে দেশি মাগুর মাছের মতো হলেও সাইজে অনেক বড় হয়ে থাকে। এক-একটা সর্বোচ্ছ ১০/১৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বড় সাইজের চেয়ে ছোট ও মাঝারি সাইজের মাছগুলো বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। আবার পিরানহা মাছগুলো দেখতে অনেকটা রূপচাঁদা মাছের মতো। তাই, আফ্রিকান ছোট মাগুর মাছগুলোকে দেশি মাগুর ও পিরানহা মাছকে রূপচাঁদা মাছ বলে বিক্রি করা হয়।
এই মাছগুলো বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এগুলো রাুসে স্বভাবের। অন্য মাছ ও জলজপ্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্র্যের জন্য এগুলো হুমকিস্বরূপ। এ কারণে সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ উৎপাদন, চাষ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
২০১৪ সালের জুন মাস থেকে আফ্রিকান মাগুর মাছ ও ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পিরানহা মাছ চাষ, উৎপাদন, পোনা উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধি, বাজারে বিক্রি এবং বাজার থেকে ক্রয় সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া বিদেশ থেকে আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ, মাছের রেণু ও পোনা আমদানি করলে জেল জরিমানার বিধান রেখে মৎস্য সংঘ নিরোধ আইন-২০১৭ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ।
এই আইন অমান্য করলে দুই বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কারণ এই দুই প্রজাতির মাছ চাষের ফলে দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। কোন ভাবে যদি পুকুর বা অবরুদ্ধ জলাশয় থেকে এই মাছ দুটি নদীতে বা মুক্ত জলাশয়ে চলে আসে তাহলে বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের জন্য মহা-বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাছাড়া এ মাছগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে। এর মধ্যে খোকন মিয়া ও আবুল বাসার নামের দুইজন ক্রেতা জানান, নিষিদ্ধ ও স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকরের বিষয়টি তারা জানেন না। অপর দিকে হারেছ ও মনা মিয়া নামের দুইজন বিক্রেতা জানান, নিষিদ্ধের কথা জানা থাকলেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরের বিষয়টি তারা জানেন না।

সচেতনমহল মনে করেন, জনগণকে এ বিষয়ে অবহিত করা উ”িত। তারা জানান, প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা দরকার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো গেলে, দ্রুত মানুষজন জানতে পারবে এবং মানুষেরাও উপকৃত হবে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক বা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে অবহিতকরণ কর্মসূচী গ্রহণ করা যেতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুরসহ পিরানহা মাছ

আপডেট : ০৯:৫৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৩
সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও গত কয়েকদিন ধরে হাজীগঞ্জে আফ্রিকান রাক্ষুসে মাগুর মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারের নির্দিষ্ট স্থান অর্থ্যাৎ মাছ বাজারে বিক্রি না হলেও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে হকারি করে বিক্রি হচ্ছে এই রাক্ষুসে মাছ। এর পাশাপাশি হাজীগঞ্জ ও বাকিলা বাজারসহ গ্রাম এলাকায় অপর নিষিদ্ধ রাক্ষুসে পিরানহা মাছ বিক্রি হতেও দেখা গেছে।
আইন অনুযায়ী, আফ্রিকান রাক্ষুসে মাগুরসহ পিরানহা মাছ আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব মাছ হরহামেশায় বিভিন্ন হাট-বাজারে ফেরি বা হকারি করে বিক্রি হয়ে থাকে। প্রশাসনের কোন তৎপরতা বা কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা না যাওয়ায় এবং জনসচেতনতার অভাবে প্রকাশ্যেই এসব নিষিদ্ধ মাছ বিক্রি হচ্ছে।
জানা গেছে, বাজারে অন্য মাছের তুলনায় দামে কিছুটা কম হওয়ায় নিম্ন আয় ও অস্বচ্ছল মানুষের কাছে এসব মাছের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ক্রেতারা জানেন না মানবদেহের জন্য কতটা তিকারক এসব মাছ, তাই বাজার থেকে সহজে কিনছেন অনেকে। এতে ভোক্তারা শুধু প্রতারিত হচ্ছেন না, তারা আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে।
আফ্রিকান মাগুর মাছগুলো দেখতে দেশি মাগুর মাছের মতো হলেও সাইজে অনেক বড় হয়ে থাকে। এক-একটা সর্বোচ্ছ ১০/১৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বড় সাইজের চেয়ে ছোট ও মাঝারি সাইজের মাছগুলো বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। আবার পিরানহা মাছগুলো দেখতে অনেকটা রূপচাঁদা মাছের মতো। তাই, আফ্রিকান ছোট মাগুর মাছগুলোকে দেশি মাগুর ও পিরানহা মাছকে রূপচাঁদা মাছ বলে বিক্রি করা হয়।
এই মাছগুলো বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এগুলো রাুসে স্বভাবের। অন্য মাছ ও জলজপ্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্র্যের জন্য এগুলো হুমকিস্বরূপ। এ কারণে সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ উৎপাদন, চাষ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
২০১৪ সালের জুন মাস থেকে আফ্রিকান মাগুর মাছ ও ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পিরানহা মাছ চাষ, উৎপাদন, পোনা উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধি, বাজারে বিক্রি এবং বাজার থেকে ক্রয় সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া বিদেশ থেকে আফ্রিকান মাগুর ও পিরানহা মাছ, মাছের রেণু ও পোনা আমদানি করলে জেল জরিমানার বিধান রেখে মৎস্য সংঘ নিরোধ আইন-২০১৭ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ।
এই আইন অমান্য করলে দুই বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কারণ এই দুই প্রজাতির মাছ চাষের ফলে দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। কোন ভাবে যদি পুকুর বা অবরুদ্ধ জলাশয় থেকে এই মাছ দুটি নদীতে বা মুক্ত জলাশয়ে চলে আসে তাহলে বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের জন্য মহা-বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাছাড়া এ মাছগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এ বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে। এর মধ্যে খোকন মিয়া ও আবুল বাসার নামের দুইজন ক্রেতা জানান, নিষিদ্ধ ও স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকরের বিষয়টি তারা জানেন না। অপর দিকে হারেছ ও মনা মিয়া নামের দুইজন বিক্রেতা জানান, নিষিদ্ধের কথা জানা থাকলেও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরের বিষয়টি তারা জানেন না।

সচেতনমহল মনে করেন, জনগণকে এ বিষয়ে অবহিত করা উ”িত। তারা জানান, প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা দরকার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো গেলে, দ্রুত মানুষজন জানতে পারবে এবং মানুষেরাও উপকৃত হবে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক বা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে অবহিতকরণ কর্মসূচী গ্রহণ করা যেতে পারে।