হাজীগঞ্জে জোড়া খুনের ঘটনায় র্যাবের হাতে আটক মো. সোহাগ (২৫) ও পুলিশের হাতে আটক মিজানুর রহমান (৫২) কে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং চুরিকৃত একটি কাসা/পিতলের মগ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাদেরকে নিয়ে পুলিশ চুরিকৃত মালামালের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যাবের হাতে আটক মো. সোহাগ ও সন্দেহভাজন হিসাবে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে ১২ জনসহ মোট ১৩ জনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে মো. সোহাগ ও মিজানুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত বলে স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তাদের সাথে অন্য যারা সম্পৃক্ত ছিলেন বা আটকৃতদের মধ্যে আছেন, তদন্তের স্বার্থে র্যাব ও পুলিশ এমন তথ্য জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মো. সোহাগ ও মিজানুর রহমানসহ চোর চক্র মদ পান করে চুরির উদ্যোশে জানালার গ্রিল কেটে দুলাল সাহার বসতঘরে প্রবেশ করলে ঘরে থাকা উত্তম চন্দ্র বর্মন তুফান (৭০) ও তার স্ত্রী কাজলী রানি বর্মণ (৫৫) ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং তাদেরকে চিনে ফেলে।
এ সময় তারা ডাক-চিৎকারের চেষ্টা করলে হাত-পা, চোখ বেঁধে বিছানার উপর বালিশ চাঁপা দিয়ে তাদেরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় চোরচক্র। যা আসামি মো. সোহাগ র্যাবের কাছে স্বীকার করে। চুরিকৃত মালামাল ওই দিন রাতেই মিজানের ঘরে রাখা হয় এবং পরে মিজান একটি কাসা/পিতলের মগ রেখে অন্য মালামাল একজন ভ্রাম্যমান হকারের কাছে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করে দেন।
শুক্রবার বিকালে পুলিশ মিজানের ঘর থেকে কাসা বা পিতলের মগটি উদ্ধার করে। এদিকে র্যাব ও পুলিশের হাতে আটককৃতরা হলেন, রাশেদ, রাকিব, আলমাছ, দিদার, মাসুদ, শ্যামল, হারেছ, আলামিন, ফয়সাল, সোহাগ, মিজানুর রহমান, বাবুল, মাসুদ। এর মধ্যে মো. সোহাগ ও মিজানুর রহমান সরাসরি হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত বলে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ সংবাদকর্মীদের জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রীল কেটে দুলাল সাহার দালানঘরে প্রবেশ করে উত্তম চন্দ্র বর্মন তুফান ও তার স্ত্রী কাজলী রানি বর্মনকে শ^াসরোধ করে হত্যা করে এবং পরের দিন শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের শিকার তুফান স্থানীয় রায়চোঁ (নোয়াহাট) বাজারের মাছ বিক্রেতা ছিলেন। তিনি উত্তর বড়কুল গ্রামের দাস বাড়ির মৃত হর্মণ চন্দ্র বর্ধনের ছেলে।
এই ঘটনায় ওই দিন ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিা ও আইসিটি) মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) পংকজ কুমার দে’র নেতৃত্বে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এসময় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশসহ চাঁদপুর থেকে পুলিশের বিশেষ শাখা পিবিআই, ডিবি, সিআইডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেন এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ।
হাজীগঞ্জে জোড়া খুনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন আটককৃত আসামি সোহাগ ও মিজান!
-
ডেস্ক নিউজ - আপডেট : ১০:৪২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
- 44
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ




















