চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের কালির বাজার কলেজের শিক্ষক স্বপন কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ইসরাইলের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় আজ সোমবার সকালে ওই কলেজ ক্যাম্পাসে ও স্থানীয় কালির বাজারে এই বিক্ষোভ-সমাবেশ করা হয়। এতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে কলেজের আইসিটি শিক্ষক স্বপন কুমার দাস তার নিজ নামের ফেসবুক আইডি থেকে বেসরকারি একটি টেলিভিশনের ফেসবুক পেইজে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের যুদ্ধের বিষয়ে ইসরাইলের পক্ষ নিয়ে মন্তব্য করেন।
স্বপন কুমার দাসের নিজ ফেসবুক আইডি থেকে করা মন্তব্য হচ্ছে, ‘হামাস একটা সন্ত্রাসী সংগঠন। ইসরাইল কঠোর হস্তে সন্ত্রাস দমন করবে। সন্ত্রাসীদের সাথে কোনো আপোষ নেই। হামাস ১ দিনে ৭০০ লোক হত্যা করেছে। এবার ইসরাইল প্রতিশোধ নেবে। আমরা শুধু ভিডিও দেখবো। উভয়পক্ষ মানুষ মারার খেলায় মেতে উঠেছে।’
স্বপন কুমার দাস আরেকটি মন্তব্যে লেখেন, ‘মৌমাছির চাকে ঢিল মেরে আল্লাহকে ডাকলে কি লাভ হবে? ইসরাইল চরম প্রতিশোধ নেবে। এটা কোনো দিনও থামবে বলে মনে হয় না।’
তার এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী স্থানীয়দের চোখে পড়ে। পরে মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকে কালির বাজার কলেজ ক্যাম্পাসসহ আশেপাশের এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফরিদগঞ্জ থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌলি মন্ডল, চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রাশেদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ-হাজীগঞ্জ) সার্কেল পংকজ কুমার দে, ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আজ সোমবার সকালে কলেজ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। পরে কলেজ মিলনায়তনে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি শান্তি সমাবেশ হয়।
কালির বাজার কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাফিজ আল মামুন (মাহবুব) বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষক স্বপন কুমার দাস আমার কলেজে আইসিটি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। তার এমন আচরণ সত্যি দুঃখজনক। আমি কলেজের গভর্নিং বডির সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক স্বপন কুমার দাস কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন।




















