ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা – মর্যাদা দিন দিন লোপ পাচ্ছে

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:৪২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
  • 45
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড ।আর সেই মেরুদন্ড গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক । শিক্ষকদের তাই মেরুদন্ড গড়ার কারিগর বলা হয়।‘শিক্ষক’ – যাকে গুরু, পণ্ডিত ও ওস্তাদ বলা হয়। বাবা-মা শিশুর জন্মদাতা জন্মদাত্রী তবে বৈচিত্র্যময় পৃথিবী সম্পর্কে শিশুকে সম্যক ধারণা দেন শিক্ষক-শিক্ষিকা। তার জ্ঞানশূন্য মানব শিশুকে ভিন্ন চোখে বিশ্ব দেখতে শেখান। মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।
শিক্ষক আদর্শ জাতি গঠনের নির্মাতা ,জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে যাদের ভূমিকা অতুলনীয় ,ভুল পথে গমন করা মানুষকে আলোর দিশারী হয়ে সঠিক পথ দেখান একজন শিক্ষক। আধারে ডুবে থাকা যে কোন মানুষ ও শিক্ষকের সান্নিধ্যে এলে সূর্যের আলোর মত আলোকিত হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগের মত মধুরও গভীর সুসম্পর্ক লক্ষ্য করা যায় না। শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধার দৃষ্টিভঙ্গি যেন ক্রমই দূরে সরে যাচ্ছে। যে সমাজে গুনী শিক্ষকদের কদর বা মর্যাদা থাকে না সে সমাজ ধ্বংস হতে আর কোন হাতিয়ারের প্রয়োজন হয় না ।তাই শিক্ষার্থীদের উচিত শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করা।কিন্তু দুঃখের বিষয়, সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থী এবং মানুষের শ্রদ্ধা-মর্যাদা দিন দিন লোপ পাচ্ছে।
কিন্তু একালে তা বিপরীত রূপ ধারণ করেছে। হয়তো বিদ্যা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে অনেকে, তবে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত বা প্রকৃত মানুষাই’বা হচ্ছে ক’জন? এখন শিক্ষক ছাত্রকে কোনো আদেশ বা কাজ দিলে, কখনো বেত্রাঘাত করলে- উল্টো বিচারের সম্মুখীন হতে হয়। অভিভাবকের নালিশ শুনতে হয়। কেন সন্তানকে মেরেছেন, কেন এত শাসন করেছেন, কেন তাকে কাজের আদেশ দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষকদের।
আবার যদি সেকালের কথা ভাবি, বেশি না বিগত কুড়ি বছর আগেও যদি ফিরে যাই, শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভক্তির শেষ ছিল না। রাস্তায় শিক্ষককে দেখলে ছাত্র যদি বাই-সাইকেল বা মোটর সাইকেলে আরোহণ করতো, গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষককে সালাম দিতেন, কুশল বিনিময় করতেন। অভিভাবকরা তাঁর আদরের সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের ওপর সম্পূর্ণ দায়িত্বভার বুঝে দিয়ে তাকে শাসন-বারণ করে আদর্শিক মানুষ গড়ার অনুরোধ করতেন। প্রয়োজনে বেত্রাঘাত করতে বলতেন। ছাত্রের ভেতরে শিক্ষকের প্রতি ভয় থাকলেও শিক্ষক -শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ছিল মধুর। শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রদের খোঁজ-খবর নিতেন। পড়াশোনার গতি পর্যবেক্ষণ করতেন। আর তাই ছাত্র একদিন বড় ধরনের অফিসার হয়েও শিক্ষককে সর্বোচ্চ সম্মান দিতেন এবং গুরুদের দেখামাত্র দাঁড়াতেন। শিক্ষকদের দেখলে ছাত্ররা মাথা নত করে কথা বলতেন, ছাত্র যতবড় ক্ষমতাবান’ই হোন না কেন, তবুও শিক্ষকের কাছে তিনি ছাত্র’ই।
 এখন প্রায়শই শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে সামনে দেখলে মুখ লুকিয়ে চলে যায়। কখনো সামনে পড়লে সালামটাও দেয় না। তাঁদের সামনে মোবাইল দেখতে দেখতে চলে যায়। নিজের ক্যারিয়ারের সফলতার কথা জানতে চাইলে, নিজের কথাটাই বলেন, শিক্ষকের অবদানের কথা স্মরণ করে না ।
শিক্ষক শিক্ষার্থীর সুসম্পর্কের দিনগুলো এখন কাল্পনিক গল্পের মতো। হারিয়ে যাচ্ছে সেই সোনালী অতীতগুলো। কেন হারাচ্ছে মধুর সম্পর্ক? কিন্তু কেন কমে কমে যাচ্ছে শিক্ষকের প্রতি সম্মান? এর কারণ? নির্দিষ্ট কারণ বলা মুশকিল। তবে শিক্ষার্থীরা দিনদিন নৈতিকতা, ভদ্রতা, সভ্যতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। হয়তো প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে, হতে পারে পরিবার থেকে শিক্ষা না পাওয়ার ফলে, ধর্ম জ্ঞান না থাকা কারণে, হতে পারে মনের দূষণ এবং নিজেকে বড় ভাবার গর্ববোধে। তবে কিছু শিক্ষকের জন্যেও শিক্ষক জাতির সম্মান হানি হচ্ছে।
তবুও আমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলবো যে শিক্ষকের খারাপ দিকটা অনুসরণ না করে ভালো দিকটা মেনে যথার্থ সম্মান দেওয়া।এই মহান পেশাকে সম্মান করতে হবে, সম্মান করতে হবে মহান শিক্ষকদেরকে। পৃথবীতে যত বড় বা যোগ্য মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুুলি না কেন, সবই শিক্ষকদের শিক্ষাদানের অবদান। আমাদেরকে শিক্ষকরাই মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। শিক্ষকই জাতি গড়ার কারিগর। তাদের যথার্থ সম্মান দিলে কখনো নিজের মান কমে না।
কিন্তু যুগের পরিক্রমায় আমরা আর এমন দৃষ্টান্ত দেখি না। যত কিছুই ভাবি না কেন, শিক্ষক আমাদের শিক্ষা অর্জনের বাহক। একটি দেশের কারিগর। তাঁরা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেন। তাই তাঁদের স্থান আমরণই মাথার উপরে। তাঁদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রতিটা শিক্ষার্থীর অন্তরে থাকুক। উদারতা, স্নেহ, মায়া, ভালোবাসা আর শাসনের মধ্য দিয়ে একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের ভেতরে স্বপ্নের বীজ বপন করেন।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা – মর্যাদা দিন দিন লোপ পাচ্ছে

আপডেট : ০৭:৪২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড ।আর সেই মেরুদন্ড গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক । শিক্ষকদের তাই মেরুদন্ড গড়ার কারিগর বলা হয়।‘শিক্ষক’ – যাকে গুরু, পণ্ডিত ও ওস্তাদ বলা হয়। বাবা-মা শিশুর জন্মদাতা জন্মদাত্রী তবে বৈচিত্র্যময় পৃথিবী সম্পর্কে শিশুকে সম্যক ধারণা দেন শিক্ষক-শিক্ষিকা। তার জ্ঞানশূন্য মানব শিশুকে ভিন্ন চোখে বিশ্ব দেখতে শেখান। মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।
শিক্ষক আদর্শ জাতি গঠনের নির্মাতা ,জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে যাদের ভূমিকা অতুলনীয় ,ভুল পথে গমন করা মানুষকে আলোর দিশারী হয়ে সঠিক পথ দেখান একজন শিক্ষক। আধারে ডুবে থাকা যে কোন মানুষ ও শিক্ষকের সান্নিধ্যে এলে সূর্যের আলোর মত আলোকিত হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগের মত মধুরও গভীর সুসম্পর্ক লক্ষ্য করা যায় না। শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধার দৃষ্টিভঙ্গি যেন ক্রমই দূরে সরে যাচ্ছে। যে সমাজে গুনী শিক্ষকদের কদর বা মর্যাদা থাকে না সে সমাজ ধ্বংস হতে আর কোন হাতিয়ারের প্রয়োজন হয় না ।তাই শিক্ষার্থীদের উচিত শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শন করা।কিন্তু দুঃখের বিষয়, সময়ের পরিক্রমায় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থী এবং মানুষের শ্রদ্ধা-মর্যাদা দিন দিন লোপ পাচ্ছে।
কিন্তু একালে তা বিপরীত রূপ ধারণ করেছে। হয়তো বিদ্যা অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছে অনেকে, তবে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত বা প্রকৃত মানুষাই’বা হচ্ছে ক’জন? এখন শিক্ষক ছাত্রকে কোনো আদেশ বা কাজ দিলে, কখনো বেত্রাঘাত করলে- উল্টো বিচারের সম্মুখীন হতে হয়। অভিভাবকের নালিশ শুনতে হয়। কেন সন্তানকে মেরেছেন, কেন এত শাসন করেছেন, কেন তাকে কাজের আদেশ দিয়েছেন? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষকদের।
আবার যদি সেকালের কথা ভাবি, বেশি না বিগত কুড়ি বছর আগেও যদি ফিরে যাই, শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভক্তির শেষ ছিল না। রাস্তায় শিক্ষককে দেখলে ছাত্র যদি বাই-সাইকেল বা মোটর সাইকেলে আরোহণ করতো, গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষককে সালাম দিতেন, কুশল বিনিময় করতেন। অভিভাবকরা তাঁর আদরের সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের ওপর সম্পূর্ণ দায়িত্বভার বুঝে দিয়ে তাকে শাসন-বারণ করে আদর্শিক মানুষ গড়ার অনুরোধ করতেন। প্রয়োজনে বেত্রাঘাত করতে বলতেন। ছাত্রের ভেতরে শিক্ষকের প্রতি ভয় থাকলেও শিক্ষক -শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ছিল মধুর। শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রদের খোঁজ-খবর নিতেন। পড়াশোনার গতি পর্যবেক্ষণ করতেন। আর তাই ছাত্র একদিন বড় ধরনের অফিসার হয়েও শিক্ষককে সর্বোচ্চ সম্মান দিতেন এবং গুরুদের দেখামাত্র দাঁড়াতেন। শিক্ষকদের দেখলে ছাত্ররা মাথা নত করে কথা বলতেন, ছাত্র যতবড় ক্ষমতাবান’ই হোন না কেন, তবুও শিক্ষকের কাছে তিনি ছাত্র’ই।
 এখন প্রায়শই শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে সামনে দেখলে মুখ লুকিয়ে চলে যায়। কখনো সামনে পড়লে সালামটাও দেয় না। তাঁদের সামনে মোবাইল দেখতে দেখতে চলে যায়। নিজের ক্যারিয়ারের সফলতার কথা জানতে চাইলে, নিজের কথাটাই বলেন, শিক্ষকের অবদানের কথা স্মরণ করে না ।
শিক্ষক শিক্ষার্থীর সুসম্পর্কের দিনগুলো এখন কাল্পনিক গল্পের মতো। হারিয়ে যাচ্ছে সেই সোনালী অতীতগুলো। কেন হারাচ্ছে মধুর সম্পর্ক? কিন্তু কেন কমে কমে যাচ্ছে শিক্ষকের প্রতি সম্মান? এর কারণ? নির্দিষ্ট কারণ বলা মুশকিল। তবে শিক্ষার্থীরা দিনদিন নৈতিকতা, ভদ্রতা, সভ্যতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। হয়তো প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে, হতে পারে পরিবার থেকে শিক্ষা না পাওয়ার ফলে, ধর্ম জ্ঞান না থাকা কারণে, হতে পারে মনের দূষণ এবং নিজেকে বড় ভাবার গর্ববোধে। তবে কিছু শিক্ষকের জন্যেও শিক্ষক জাতির সম্মান হানি হচ্ছে।
তবুও আমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলবো যে শিক্ষকের খারাপ দিকটা অনুসরণ না করে ভালো দিকটা মেনে যথার্থ সম্মান দেওয়া।এই মহান পেশাকে সম্মান করতে হবে, সম্মান করতে হবে মহান শিক্ষকদেরকে। পৃথবীতে যত বড় বা যোগ্য মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুুলি না কেন, সবই শিক্ষকদের শিক্ষাদানের অবদান। আমাদেরকে শিক্ষকরাই মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। শিক্ষকই জাতি গড়ার কারিগর। তাদের যথার্থ সম্মান দিলে কখনো নিজের মান কমে না।
কিন্তু যুগের পরিক্রমায় আমরা আর এমন দৃষ্টান্ত দেখি না। যত কিছুই ভাবি না কেন, শিক্ষক আমাদের শিক্ষা অর্জনের বাহক। একটি দেশের কারিগর। তাঁরা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেন। তাই তাঁদের স্থান আমরণই মাথার উপরে। তাঁদের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রতিটা শিক্ষার্থীর অন্তরে থাকুক। উদারতা, স্নেহ, মায়া, ভালোবাসা আর শাসনের মধ্য দিয়ে একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের ভেতরে স্বপ্নের বীজ বপন করেন।