চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে নানান প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বানিয়াচোঁ জয়নব বানু উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন।
জানা যায়, আগামী ২৬ জুন বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উক্ত বিদ্যালয়ে অভিভাবক সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ২শত ৪৯ জন ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য এবং ৪টি পদে ৭জন পুরুষ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একমাত্র মহিলা সংরক্ষিত পদটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম বিদ্যালয়টিতে সুষ্ঠু ও শান্তুিপূর্ণ পরিবেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিগত নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যরা সভাপতি নির্বাচিত করার পর উক্ত বিদ্যালয়ে তাদের কার্যকরী কমিটি বিবিধ কারনে আলোর মুখ দেখেনি। যে কারনে ওই নির্বাচনে পুরুষ সদস্যদের মধ্যে প্রথম হওয়া মোহাম্মদ আহম্মদ উল্যাহ বাদী হয়ে হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলা এখনও চলমান রয়েছে।
এবিষয়ে মামলার বাদী মোহাম্মদ আহম্মদ উল্যাহ্ বলেন, ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখের নির্বাচনে সর্বাধিক ১১৯ ভোট পেয়ে আমি প্রথম হই। অবাধ ও শান্তুিপূর্ণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগন প্রথম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে আবদুর রশিদ পাটোয়ারীকে নির্বাচিত করার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটির সীল, স্বাক্ষরিত কাগজপত্রদী কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাঠান স্কুল কর্তৃপক্ষ। তিন দিন পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান ভূঁইয়া নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে উক্ত কমিটি স্থগিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যে কারনে আমি বাদী হয়ে হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করি। উক্ত মামলা চলাকালীন অবস্থায় আরেকটি নির্বাচন প্রহসন ও ব্যর্থ প্রচেষ্টা বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আসন্ন নির্বাচন বন্ধের দাবি জানান।
এলাকাবাসীর পক্ষে বাবুল হোসেন বলেন, বানিয়াচোঁ জেবি উচ্চ বিদ্যালয়টি শুরু থেকে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছিলো। শেষদিকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে আবদুল হান্নান যোগ দেয়ার পর থেকে স্কুলের বিভিন্ন নিয়মনীতি ভাংতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মূখিন হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্নসহ শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমতে থাকে। এক প্রশ্মের তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় সংলগ্নের বসবাসকারীদের মানুষ মনে করেন না প্রধান শিক্ষক। তিনি এবং কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়টিতে রাজনীতির প্লাটফর্ম তৈরী করেছেন। বর্তমান নির্বাচনটি আইনী প্রক্রিয়াগত কতটুকু সঠিক আছে তা আমার জানা নেই। তবে ভোটার তালিকায় যথেষ্ট অসংগতি রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যালয়টি ম্যানেজিং কমিটি ছাড়া দীর্ঘদিন পড়ে রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী সকল প্রক্রিয়া সম্পাদন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিকনির্দেশনায় উক্ত নির্বাচন পরিচালিত করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এবিষয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা চলমান রয়েছে। যা এখনও নিশ্পত্তি হয়নি। তবে এই মামলা উক্ত নির্বাচনে কোন প্রকার প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি জানান।
নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌশিব উদ্দীন বলেন, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে উক্ত নির্বাচন পরিচালনা করছি। এখন পর্যন্ত কেউ উক্ত নির্বাচন বন্ধের দাবিতে আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞাপত্র আমাকে দেননি। যে কারনে উক্ত নির্বাচনটি অবাধ ও শান্তুিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে তিনি বদ্ধপরিকর বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াসির আরাফাত বলেন, শিক্ষা বোর্ডের বিধি মোতাবেক উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
উচ্চ আদালতে মামলা থাকলেও নির্বাচন পরিচালনায় ওই আদালত কর্তৃক কোন নিষেধাজ্ঞাপত্র নেই। কেউ যদি নিষেধাজ্ঞাপত্রটি দেন তাহলে উক্ত নির্বাচন বাতিল করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।




















