ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ কলেজের কমিটিকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব মোর্শেদ কচি নামের এক নেতা। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক, উপজেলা যুবদল,পৌর যুবদল, ছাত্রদলের ১১ জন নেতার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কচি। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেন তিনি।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন, ফরিদগঞ্জ থানার পুুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম।
মামলার অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের গেইটের সামনে রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে হামলার শিকার হন মাহবুব মোর্শেদ কচি। হামলাকারীরা তার সঙ্গে থাকা নগদ ১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা ও ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের আইফোন ব্যান্ডের একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্তরা।
অভিযোগে আরো উল্লেখ্য করা হয়, ওই দিন গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটিবিষয়ক একটি সভায় যোগ দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যাচ্ছিলেন কচিসহ আরো কয়েকজন। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আমানত হোসেন গাজী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু,পৌর যুবদলের সভাপতি ইমাম হোসেনসহ আরো বেশ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। এসময় বেদম মারধর করে তার পরিধানের কাপড়চোপড় ছিড়ে ফেলেন তারা।
কচি অভিযোগ করেন, গত ৬ নভেম্বর আমাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি করে প্রজ্ঞাপন দেয় জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকেই উল্লেখিত অভিযুক্তরা আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ার কারণে আমার ওপর হামলা করা হয়।
মামলায় অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলার বিষয়টি জানতে পেরেছি, এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার যেমনি ভাবে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন মহোদয়কে যেভাবে গল্প রচনা করে মামলা দিয়ে হয়রানী করেছিল, ঠিক তেমনি ভাবে ফরিদগঞ্জে মাহবুব মোরশেদ কচি গংরা একটি চক্র মেতে উঠেছে বিএনপি ও যুবদলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের হয়রানীর উদ্দেশ্যে। স্বৈরাচার সরকারের পতনের জন্য বিএনপি ও যুবদলের যে নেতাকর্মীরা রাজপথে লড়াই করেছে,ত্যাগ শিকার করেছে ওইসব নেতাকর্মীদের নামে তারা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা রচনা করে এ মামলা দায়ের করেছে।
এ বিষয় অভিযুক্ত পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আমানত হোসেন গাজী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কচির ওপর কে বা কারা হামলা করেছে তা জানি না। তবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঘটনার দিন উপস্থিত অনেকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কিছুদিন আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়ন দেয় বিএনপি নেতা সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদের অনুসারী যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী মাহবুব মোর্শেদ কচিকে। তবে তার এই পদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এমএ হান্নানের অনুসারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ও তার সমর্থকরা। এই নিয়ে গত কয়েকদিন উত্তেজনার পর গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাহবুব মোর্শেদ কচির পদটি স্থগিত ঘোষণা করেন।




















