হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে হামলা ও অনলাইনে প্রকাশিত লাইভে শাহাবুদ্দিনের অভিযোগের ব্যাক্ষা দিয়েছেন, বড়কুল পুর্ব ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান (আতিক মেম্বার)। শনিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তিনি উপজেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের কাছে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।
এসময় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আতিক মেম্বারের পক্ষে কয়েকজন সংবাদকর্মীদের কাছে বক্তব্য তুলে ধরেন। তবে একই সময়ে আহত শাহাবুদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, মারধরের ঘটনাটি সত্য। এর আগে শুক্রবার বিকালে আতিক মেম্বারের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের কাছে শাহাবুদ্দিনকে মারধরের অভিযোগ করা হয়।
আতিক মেম্বার বলেন, ২০২২ সালের ৪ মে ইউপি সদস্য জামাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভাই বোনদের মধ্যে আপোষ বন্টন করা হয়। ওই আপোষ বন্টন অনুযায়ী বর্তমানে আমরা সবাই যার যার ভোগ দখলে আছি।
২০২৩ সালে আমার বোন নাছিমা আক্তারের ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ ভূমি ক্রয় করে মহিন উদ্দিন। কিন্তু দলিলে সে তাঁর ইচ্ছে-মতো চৌহুদ্দী দিয়েছে। এরপর মহিন উদ্দিনের মা রহিমা বেগম আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে ১৪৫ ধারা চেয়ে আবেদন করে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।
ঘটনার দিন গত ২২ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে মহিন উদ্দিনের পরিবারের লোকজন জোরপূর্বক আমাদের সম্পত্তি দখল করতে আসে। এসময় আমরা বাধা দিলে দুই পক্ষের তর্ক-বিতর্ক হয়। এই তর্ক-বিতর্কের মধ্যে শাহাবুদ্দিন ইট দিয়ে তার নিজ মাথায় আঘাত করে। পরে সে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ রটায়।
তিনি বলেন, শাহাবুদ্দিন সংবাদকর্মীদের কাছে আমাদের বিরুদ্ধে যা বলেছে, তার সবটুক্ ুমিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রকৃত পক্ষে সে আমাদের ফাঁসানের উদ্দেশ্যে নিজ মাথায় আঘাত করে। যার স্বাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে।
এসময় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. ইউসুফ মুঠোফোনে বলেন, ডাক-চিৎকার শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। দুই পক্ষের ঝগড়া-ঝাটির মধ্যে শাহাবুদ্দিন ইট নিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে আমি তাকে জড়িয়ে ধরি। পরে ধস্তাধস্তিতে তার গায়ের (শরীর) জামা (শার্ট) ছিড়ে যায়।
শাখাওয়াত হোসেন নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আল্লাহ একজন স্বাক্ষী, সে (আহত শাহাবুদ্দিন) নিজেই নিজের মাথা ফাটিয়েছে। আমি নিজে দেখেছি।
অপর এক নারী প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শাহাবুদ্দিন ইট দিয়ে নিজেই মাথা নিজেই ফাটাইছে। আল্লাহ একজন সাক্ষী, আমি নিজে দেখেছি।
এ দিকে আহত শাহাবুদ্দিনের ভাই রাব্বি বলেন, আমরা এখানে বালু ফালাইতে আসছি। তারপর তিনি (আতিক মেম্বার) আমাদের বাধা দিছেন। পরে আমার ভাইয়ের শার্টের কলার ধরে আতিক মেম্বারের বউ টেনে নিয়ে যায়। এবং তিনি ও আতিক মেম্বার ইট দিয়া বাড়ি দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
তাদের পক্ষ হয়ে মিন্টু বলেন, আমি এখানে বালু আনছি। আমি দেখেছি, আতিক মেম্বার ও তার বউ ইট দিয়ে শাহাবুদ্দিনের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















