ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাড়ায় মহল্লায় বাড়ছে বখাটেদের উৎপাত

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৩:১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
  • 25
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে বখাটেদের উৎপাত। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে দুই বা তার অধিক বখাটেরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে বিদ্যালয় গামী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কখনো শিস,কখনো ওপেন সিগারেট খাচ্ছে,কখনো উচ্চ স্বরে অশালীন মন্তব্য করছে। এটা দেখার যেনো কেউ নেই। এমন অবস্থা তৈরি হলেও জানাজানি হলে সামাজিকভাবে পরিবারের উপর নানা অপবাদ আসতে পারে এমন ভয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছেন না।
গত ৩১ মার্চ ঈদের দিন সোমবার বিকেলে  হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ মাঠে বখাটেদের মধ্যে  সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে রান্ধুনীমুড়া গ্রামে দুই ওয়ার্ডের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে,এতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়।
তাই বখাটেদের এমন বিচরণ বন্ধ করতে পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবী সচেতন মহলের।
জানা গেছে,হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাড়ায় মহল্লায় বখাটেদের উৎপতসহ বিচরণ বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার পথে,বিদ্যালয়ে প্রবেশ পথে,আবার বিদ্যালয় ছুটি হলে বখাটেদের আনা গোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বখাটেরা স্কুল কলেজ  গেট ও তার আশপাশের দোকানে রোমিও সেজে অবস্থান করছে। তাদের কেউ কেই নাম মাত্র ছাত্র হলেও ভববো ঘুরে।
বখাটেরা সুযোগ বুঝে স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রীদের অশালীন উক্তি ছুড়ে দিচ্ছে। বখাটেদের এসব অশালীন উক্তি স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা নীরবে সহ্য করে গন্তব্যে যাচ্ছে। বিষয়টি অপরাধ হলেও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিরোধ না থাকায় তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বখাটে দ্বারা উৎপাতের শিকার হলেও লোকলজ্জার ভয়ে কেউ ঘটনা প্রকাশ করছে না। এতে ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রীদের অভিভাবকরা থাকেন দুশ্চিন্তায়।
সম্প্রতি সরেজমিন,বিশেষ করে পৌর এলাকার ১১ নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া গ্রামের রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা,হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আশেপাশে সংলগ্ন এলাকা,৪ নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা,৫ নং ওয়ার্ড ফায়ার সার্ভিস রোড থেকে নিখিল কমিশনারের বাড়ি রোড থেকে করিম বাগান সংলগ্ন এলাকা,৬ নং ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা,হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ রোড থেকে কলেজ সংলগ্ন এলাকা,বলাখাল বাজারের চন্দ্রবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,মকবুল আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজ ও বলাখাল জে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকা, টোরাগড়ে অবস্থিত হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকা,আলীগঞ্জ পি টি আই সংলগ্ন এলাকাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসার আশেপাশে গড়ে ওঠা  চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন এলাকায় বখাটেদের আনা গোনা চোখেপড়ার মতো লক্ষ্য করা গেছে।
সমাজের সচেতন মহল মনে করেন,নিয়মিত পুলিশী টহল ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে এ সব সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছু হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ জানান,আমাদের নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনে অনেক সময় এই অবস্থা বিরাজ করে। দিনদিন বখাটেদের উৎপাত চরমভাবে বেড়েছে। তারা নূন্যতম শিক্ষকদেরও সম্মান করে না। বিষয়টি শিক্ষিত সমাজকে ভাবিয়ে তুলছে। এর প্রতিকার হওয়া দরকার। শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা তারা ইচ্ছা করলেই বখাটেদের সাথে সংঘাতে জড়াতে পারেন না।
এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দীন ফারুক বলেন,বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের নজরে এসেছে। চিহ্নিত স্থান সমূহে নজর রাখা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাড়ায় মহল্লায় বাড়ছে বখাটেদের উৎপাত

আপডেট : ০৩:১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে বখাটেদের উৎপাত। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে দুই বা তার অধিক বখাটেরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে বিদ্যালয় গামী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কখনো শিস,কখনো ওপেন সিগারেট খাচ্ছে,কখনো উচ্চ স্বরে অশালীন মন্তব্য করছে। এটা দেখার যেনো কেউ নেই। এমন অবস্থা তৈরি হলেও জানাজানি হলে সামাজিকভাবে পরিবারের উপর নানা অপবাদ আসতে পারে এমন ভয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছেন না।
গত ৩১ মার্চ ঈদের দিন সোমবার বিকেলে  হাজীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ মাঠে বখাটেদের মধ্যে  সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে রান্ধুনীমুড়া গ্রামে দুই ওয়ার্ডের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে,এতে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়।
তাই বখাটেদের এমন বিচরণ বন্ধ করতে পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবী সচেতন মহলের।
জানা গেছে,হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাড়ায় মহল্লায় বখাটেদের উৎপতসহ বিচরণ বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়ার পথে,বিদ্যালয়ে প্রবেশ পথে,আবার বিদ্যালয় ছুটি হলে বখাটেদের আনা গোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বখাটেরা স্কুল কলেজ  গেট ও তার আশপাশের দোকানে রোমিও সেজে অবস্থান করছে। তাদের কেউ কেই নাম মাত্র ছাত্র হলেও ভববো ঘুরে।
বখাটেরা সুযোগ বুঝে স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রীদের অশালীন উক্তি ছুড়ে দিচ্ছে। বখাটেদের এসব অশালীন উক্তি স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা নীরবে সহ্য করে গন্তব্যে যাচ্ছে। বিষয়টি অপরাধ হলেও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিরোধ না থাকায় তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বখাটে দ্বারা উৎপাতের শিকার হলেও লোকলজ্জার ভয়ে কেউ ঘটনা প্রকাশ করছে না। এতে ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রীদের অভিভাবকরা থাকেন দুশ্চিন্তায়।
সম্প্রতি সরেজমিন,বিশেষ করে পৌর এলাকার ১১ নং ওয়ার্ড রান্ধুনীমুড়া গ্রামের রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা,হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের আশেপাশে সংলগ্ন এলাকা,৪ নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা,৫ নং ওয়ার্ড ফায়ার সার্ভিস রোড থেকে নিখিল কমিশনারের বাড়ি রোড থেকে করিম বাগান সংলগ্ন এলাকা,৬ নং ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা,হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজ রোড থেকে কলেজ সংলগ্ন এলাকা,বলাখাল বাজারের চন্দ্রবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,মকবুল আহম্মেদ ডিগ্রি কলেজ ও বলাখাল জে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকা, টোরাগড়ে অবস্থিত হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকা,আলীগঞ্জ পি টি আই সংলগ্ন এলাকাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে স্কুল, কলেজ,মাদ্রাসার আশেপাশে গড়ে ওঠা  চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন এলাকায় বখাটেদের আনা গোনা চোখেপড়ার মতো লক্ষ্য করা গেছে।
সমাজের সচেতন মহল মনে করেন,নিয়মিত পুলিশী টহল ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে এ সব সামাজিক সমস্যা দূর করা সম্ভব।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছু হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ জানান,আমাদের নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনে অনেক সময় এই অবস্থা বিরাজ করে। দিনদিন বখাটেদের উৎপাত চরমভাবে বেড়েছে। তারা নূন্যতম শিক্ষকদেরও সম্মান করে না। বিষয়টি শিক্ষিত সমাজকে ভাবিয়ে তুলছে। এর প্রতিকার হওয়া দরকার। শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা তারা ইচ্ছা করলেই বখাটেদের সাথে সংঘাতে জড়াতে পারেন না।
এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দীন ফারুক বলেন,বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের নজরে এসেছে। চিহ্নিত স্থান সমূহে নজর রাখা হচ্ছে।