ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে রাতের আঁধারে সরকারি সম্পত্তি দখল, দোকান নির্মাণের লক্ষ্যে বালু দিয়ে ভরাট

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৬:০৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • 24

হাজীগঞ্জে রাতের আঁধারে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে একাধিক দোকানঘর নির্মাণের লক্ষে নদীর উত্তর পাড় হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় অংশে সেতুটির পূর্বপাশে এপ্রোচের উপর বালু দিয়ে ভরাট কাজ শুরু করেন, স্থানীয় আকবর হোসেন নামের এক ব্যক্তি।

এছাড়াও দোকানঘর নির্মাণস্থলে তিনি কয়েক হাজার ইটও মজুদ রেখেছেন। খবর পেয়ে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

এর আগেও একই স্থানের সেতুর এপ্রোচসহ ব্রীজের শুরুর অংশে চারটি দোকানঘর নির্মাণ করে বর্তমানে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা ও দেয়াল তুলে চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় মেন্দু মিয়া ও আকবর মিয়ার পরিবারের লোকজন। তবে তাদের দাবি এটি সরকারি জায়গা নয়, তাদের নিজস্ব জমি।

তবে এবার সরাসরি সরকারি ভূমি দখল করার চেষ্টা করছেন, আকবর হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা দোকানঘর নির্মাণের লক্ষে সেতুর এপ্রোচ দখল করা চেষ্টা করছেন এবং রাতের আঁধারে ব্রীজের এপ্রোচে কংক্রিটের ব্লকের উপর বালু ফেলে ভরাট কাজ শুরু করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, এর আগে সেতুর পাশে দেয়াল তুলে ও চারটি দোকানঘর নির্মাণ করায় তারা উপজেলা প্রকৌশলী, এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। তখন দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার ফলে এখন সরাসরি সেতুর এপ্রোচ দখল করা হচ্ছে।

তারা বলেন, সেতু লাগোয়া দোকানঘর নির্মাণ করায় ভবিষ্যতে ব্রিজের (সেতু) ক্ষয়ক্ষতি হবে এবং সরকারি জায়গা বেদখলে যাবে। এছাড়াও তাদের দখলের কারণে অন্য ব্যক্তিরাও সরকারি সম্পত্তি দখলে উৎসাহিত হচ্ছে। তাই, দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও সরকারি সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।

এদিকে স্থানীয়রা আরো জানান, ওই সময়ে দেয়াল নির্মাণ এবং চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ দেখা দেয়। এতে করে যে কোনো মুহূর্তে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই, ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতনমহল।

এ বিষয়ে কথা আকবর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ ও পরে ফোনব্যাক না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখলের কোন সুযোগ নেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি এবং অভিযুক্তদের বালু ভরাট ও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। যদি তারা নির্দেশনা অমান্য করেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, জনস্বার্থে সরকার ভূমি অধিগ্রহণ করে সেতুটি নির্মাণ করেছে। সুতরাং সরকারি সম্পত্তি বেদখলের সুযোগ নেই।  বিষয়টি দেখার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বলা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে রাতের আঁধারে সরকারি সম্পত্তি দখল, দোকান নির্মাণের লক্ষ্যে বালু দিয়ে ভরাট

আপডেট : ০৬:০৩:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

হাজীগঞ্জে রাতের আঁধারে সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে একাধিক দোকানঘর নির্মাণের লক্ষে নদীর উত্তর পাড় হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন টোরাগড় অংশে সেতুটির পূর্বপাশে এপ্রোচের উপর বালু দিয়ে ভরাট কাজ শুরু করেন, স্থানীয় আকবর হোসেন নামের এক ব্যক্তি।

এছাড়াও দোকানঘর নির্মাণস্থলে তিনি কয়েক হাজার ইটও মজুদ রেখেছেন। খবর পেয়ে সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

এর আগেও একই স্থানের সেতুর এপ্রোচসহ ব্রীজের শুরুর অংশে চারটি দোকানঘর নির্মাণ করে বর্তমানে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা ও দেয়াল তুলে চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছেন স্থানীয় মেন্দু মিয়া ও আকবর মিয়ার পরিবারের লোকজন। তবে তাদের দাবি এটি সরকারি জায়গা নয়, তাদের নিজস্ব জমি।

তবে এবার সরাসরি সরকারি ভূমি দখল করার চেষ্টা করছেন, আকবর হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা দোকানঘর নির্মাণের লক্ষে সেতুর এপ্রোচ দখল করা চেষ্টা করছেন এবং রাতের আঁধারে ব্রীজের এপ্রোচে কংক্রিটের ব্লকের উপর বালু ফেলে ভরাট কাজ শুরু করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, এর আগে সেতুর পাশে দেয়াল তুলে ও চারটি দোকানঘর নির্মাণ করায় তারা উপজেলা প্রকৌশলী, এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। তখন দখলকারীদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার ফলে এখন সরাসরি সেতুর এপ্রোচ দখল করা হচ্ছে।

তারা বলেন, সেতু লাগোয়া দোকানঘর নির্মাণ করায় ভবিষ্যতে ব্রিজের (সেতু) ক্ষয়ক্ষতি হবে এবং সরকারি জায়গা বেদখলে যাবে। এছাড়াও তাদের দখলের কারণে অন্য ব্যক্তিরাও সরকারি সম্পত্তি দখলে উৎসাহিত হচ্ছে। তাই, দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও সরকারি সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।

এদিকে স্থানীয়রা আরো জানান, ওই সময়ে দেয়াল নির্মাণ এবং চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদ দেখা দেয়। এতে করে যে কোনো মুহূর্তে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই, ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতনমহল।

এ বিষয়ে কথা আকবর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ ও পরে ফোনব্যাক না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক বলেন, সরকারি সম্পত্তি দখলের কোন সুযোগ নেই। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি এবং অভিযুক্তদের বালু ভরাট ও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। যদি তারা নির্দেশনা অমান্য করেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, জনস্বার্থে সরকার ভূমি অধিগ্রহণ করে সেতুটি নির্মাণ করেছে। সুতরাং সরকারি সম্পত্তি বেদখলের সুযোগ নেই।  বিষয়টি দেখার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বলা হয়েছে।