চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার এক নিরলস পরিশ্রমীর জীবন থেমে গেল দূরদেশ সৌদি আরবে। পেছনে রেখে গেলেন শোকসাগরে ভাসতে থাকা এক পরিবার, স্মৃতিময় জীবন আর অসমাপ্ত অনেক স্বপ্ন।
মিজানুর রহমান (৪৮)। বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের আদশা গ্রামে। প্রায় ২২ বছর ধরে সৌদি আরবের আবহা শহরে ছিলেন তিনি। নিজের পণ্যবাহী গাড়ি চালিয়ে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছিলেন। পণ্য আনতেন, বাজারে পৌঁছে দিতেন। দিনরাত পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন বুনছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন মাঝপথে থেমে গেল।
সোমবার (২১ এপ্রিল) ভোররাতে মাহাইল এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মিজান। প্রতিদিনের মতো মালামাল লোড করে ফিরছিলেন, কিন্তু ফিরতে পারেননি। দ্রুতগতির এক গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে শেষ হয়ে যায় তার জীবন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও আর বাঁচানো যায়নি।
চাচাতো ভাই মানিক হোসেন জানালেন, “ভোরে হাসপাতালে গিয়ে দেখলাম ভাই নেই… কল্পনাও করিনি এভাবে বিদায় নেবে।”
মিজান ছিলেন পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। কয়েক বছরের ব্যবধানে বাবা, এক ভাই ও এক বোনকে হারিয়েছেন। এবার তিনি নিজেই চলে গেলেন। এখন কেবল দুই ভাইবোন রইলেন জীবিত—জেসমিন ও মাইনুল ইসলাম কালু। এক দশকে চারজনের বিদায়—এই পরিবারের জন্য যেন একটানা ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
মিজানের একমাত্র মেয়ে জেরিন বিবাহিত, আর ছেলে সামির এই মুহূর্তে এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাবার মরদেহ আসার আগেই সন্তানের জীবনে নেমে এল অন্ধকার।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া বলেন, “মিজানুর রহমানের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মরদেহ দেশে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এক প্রজন্মের স্বপ্নের অপমৃত্যু। মিজান ছিলেন একজন প্রতিনিধি—প্রবাসে থাকা লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশির জীবনের, যারা নিঃশব্দে কাজ করেন, সংগ্রাম করেন, এবং অনেক সময় নিঃশব্দেই হারিয়ে যান।




















