ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো “ফ্যাসিস্ট হাসিনার উপহার” — ক্ষোভে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা

oplus_0

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যবহৃত হুইল চেয়ার ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামে এখনো “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপহার” লেখা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এমন প্রতীক ও প্রচার সংবলিত উপকরণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকা অনুচিত।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের হুইলচেয়ারগুলোর গায়ে লেখা রয়েছে, “ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপহার ”বাস্তবায়নে, আলহাজ্ব এড. নূরুল আমিন রুহুল, এমপি।
মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান জিসান অভিযোগ করেছেন, জনগণের করের টাকায় কেনা এসব উপহারকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার বানানো হয়েছিল। “ হাসিনা সরকার পালিয়ে গেলেও হুইল চেয়ারে এখনো তার নাম জ্বলজ্বল করছে— এটা স্বাধীন স্বাস্থ্যসেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে,”।
উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুব সরকার জানান, গত পাঁচ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত নেই ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখনো তাদের নামে কোন কিছু থাকবে সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
একাধিক নেতাকর্মীরা দ্রুত এই নাম ও প্রচার সংবলিত উপকরণ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা সরকারের প্রতিটি সেবাখাতকে নিরপেক্ষ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাসিবুল ইসলাম বলেন, এটা আগের সরকারের সময় রোগীদের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এখনো ব্যবহার যোগ্য, থাকলে সমস্যার কিছু দেখি না।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুব বলেন, আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম দ্বীন বলেন, যদি হুইলচেয়ারের পেছনে এ রকম কিছু লেখা থেকে থাকে এবং তা ব্যবহারের উপযোগী হয়, তাহলে লেখাগুলো মুছে ফেলতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি কোনো চিকিৎসক বাজে বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো “ফ্যাসিস্ট হাসিনার উপহার” — ক্ষোভে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা

আপডেট : ০৮:১৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যবহৃত হুইল চেয়ার ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামে এখনো “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপহার” লেখা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এমন প্রতীক ও প্রচার সংবলিত উপকরণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকা অনুচিত।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের হুইলচেয়ারগুলোর গায়ে লেখা রয়েছে, “ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপহার ”বাস্তবায়নে, আলহাজ্ব এড. নূরুল আমিন রুহুল, এমপি।
মতলব উত্তর উপজেলা ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান জিসান অভিযোগ করেছেন, জনগণের করের টাকায় কেনা এসব উপহারকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার বানানো হয়েছিল। “ হাসিনা সরকার পালিয়ে গেলেও হুইল চেয়ারে এখনো তার নাম জ্বলজ্বল করছে— এটা স্বাধীন স্বাস্থ্যসেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে,”।
উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুব সরকার জানান, গত পাঁচ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত নেই ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এখনো তাদের নামে কোন কিছু থাকবে সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
একাধিক নেতাকর্মীরা দ্রুত এই নাম ও প্রচার সংবলিত উপকরণ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা সরকারের প্রতিটি সেবাখাতকে নিরপেক্ষ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. হাসিবুল ইসলাম বলেন, এটা আগের সরকারের সময় রোগীদের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এখনো ব্যবহার যোগ্য, থাকলে সমস্যার কিছু দেখি না।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুব বলেন, আমি কিছুদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল ইসলাম দ্বীন বলেন, যদি হুইলচেয়ারের পেছনে এ রকম কিছু লেখা থেকে থাকে এবং তা ব্যবহারের উপযোগী হয়, তাহলে লেখাগুলো মুছে ফেলতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি কোনো চিকিৎসক বাজে বা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।