চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলার প্রতিদিন ৪০টি বিয়ের রেজিস্ট্রেশন হলেও এর বিপরীতে গড়ে ২২টি সংসার ভেঙে যাচ্ছে। এক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় মোট ১৪,৪৬৫টি বিয়ে হয়েছে, আর তালাক হয়েছে ৭,৮৯১টি — যা মোট বিবাহের প্রায় ৫৫%। এই অস্বাভাবিক হার সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালাকের পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ—
অল্প বয়সে বিয়ে ও মানসিক অপ্রস্তুতি
সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি ও সন্দেহ
প্রবাসী স্বামীর স্ত্রীর পরকীয়া ও ঘর ছেড়ে যাওয়া
ছাত্রীদের প্রেমঘটিত সম্পর্কের কারণে ঘর ত্যাগ
যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন
একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে স্ত্রী নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন, অনেকে সন্তান রেখে পালিয়ে যাচ্ছেন। আবার স্কুল-কলেজের ছাত্রীরাও পরিবার ছেড়ে ভালোবাসার টানে চলে যাচ্ছে, যা শেষপর্যন্ত রূপ নিচ্ছে ভাঙনে।
সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। সমাজকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে তালাক হবে নতুন সামাজিক মহামারি।
প্রস্তাবিত করণীয়:
বিবাহপূর্ব কাউন্সেলিং বাধ্যতামূলক করা
স্কুল পর্যায়ে নৈতিক শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধ শিক্ষা
প্রবাসী পরিবারকে মানসিক ও সামাজিক সাপোর্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভিভাবকীয় নজরদারি
চাঁদপুরের তালাক প্রবণতা এখন আর শুধু পারিবারিক বিষয় নয় — এটি একটি গভীর সামাজিক সংকেত।




















