চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভা দিন ৮ নং ওয়ার্ড টোরাগড় গ্রামের বেপারী বাড়ির বিএনপি নেতা মো: আব্দুর রহিম ব্যাপারীর সুযোগ্য পিতা টোরাগড় গ্রামের এক হাজারের অধিক কবরের কারিগর মো: আবু মিয়া (৬৫) ওরফে এলাকায় পরিচিত হেঞ্জু মিয়া নামের মানুষটি দুনিয়ার সফর শেষ করে চির বিদায় নেন।
(২১ মে) বুধবার সকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ড টোরাগড় নিজ গ্রামের বেপারী বাড়ির বসত ঘরে হার্ড ইস্ট্রোক করেন। পর পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিক তাকে কুমিল্লা উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।একপর্যায়ে উনার অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায়। সময় যত গনায় ততই তার অবস্থা অবনতি হওয়ার পর দুপুর ১২ টার সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
৬৫ বছরের জীবনে হাজীগঞ্জের আবু মিয়া এক হাজারের অধিক কবরের কারিগর হিসেবে এলাকায় ব্যাপক সুনাম খেতি লাভ করেন। বিনা পরিশ্রমিকে তিনি কবরের কাজ করতেন। তিনি টোরাগড় গ্রামের যেকোনো লোকের মৃত্যুর সংবাদ পেলে তাঁর কবর করার সরঞ্জাম নিয়ে ওই বাড়িতে দ্রুত গতিতে নিজের কাজ শেষ করে কবর খোড়ার প্রস্তুতি নিয়ে পৌঁছে যেতেন।
মৃত ব্যক্তির স্বজনরা কবরের জায়গা শনাক্ত করার পর কবর খোড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতেন। দাফন কাফন ও জানাজার নামাজ সম্পূর্ণ করে বাড়ি ফিরতেন। দীর্ঘ সময় তিনি কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে এলাকায় তার নামে কবরের কারিগর হিসাবে সবাই জানতেন। এলাকাসহ অন্যান্য এলাকায় তিনি কবরের কারিগর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ও হাজীগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: সেলিম সদ্দার (ওরফে মুদি সেলিম) বলেন, এক হাজারের অধিক কবরের কারিগর হাজীগঞ্জের আবু মিয়ার মৃত্যু কালে ৪ ছেলে ও ১ মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। রাত ৯ টায় টোরাগড় দক্ষিণ পাড়া সরদার বাড়ি বাইতুল আমান জামে মসজিদের সম্মুখে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হবে।
আবু মিয়ার মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। কবরের কারিগর আবু মিয়ার সাথে কবরের কাজে সহযোগিতা করা মো: মোস্তফা কামাল সহ কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তার বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে। পরে কবরের কারিগর আবু মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে তার সহচর অন্যান্য কবরের কাজ করা সহযোগী রাই তাঁর কবরের কাজে নিয়োজিত হয়ে যান। এটা যেন বিধাতার এক অসীম মহিমা। একজনের কবর খুঁড়বে আরেকজন এটাই চিরাচরিত নিয়ম।




















