ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জের এনায়েতপুরে চুরি হচ্ছে ভাত, ডিম, বই আর সাবান!

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার এনায়েতপুর গ্রামে চুরির ঘটনা এখন যেন নিত্যদিনের উৎসবে পরিণত হয়েছে! এখানে চুরি হচ্ছে “A to Z”—ডিম, উমে বসা মুরগি, রান্না করা ভাত, সেই ভাতের পাতিলা, হুইল পাউডার, সাবান, এমনকি শিক্ষার্থীদের গাইড বই পর্যন্ত।

এলাকার মানুষের ভাষায়, এনায়েতপুর এখন চুরির পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে!

প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছেই। গতকাল রাতেও এনায়েতপুরের একটি স’মিল থেকে এবং ধোপা বাড়ি থেকে দুটি পানির মোটর চুরি হয়েছে। এর আগেও এই এলাকায় ঘরে ঘরে, দোকানে দোকানে একাধিকবার চুরি হয়েছে।

একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন এখানে রান্না করে রাখলেও নিশ্চিন্ত থাকা যায় না! কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাতিলসহ ভাত উধাও! এমনকি উমে বসা মুরগিও নিরাপদ নয়!”

আরেকজন বলেন, “বাচ্চারা স্কুলে যায় বই রেখে, কিন্তু ফেরার সময় দেখে বই খাতা সব গায়েব! চোরের টার্গেটে এখন শিক্ষার সামগ্রীও।”

এনায়েতপুরে এমনকি মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, অটো ব্যাটারি, পানির মোটর, বৈদ্যুতিক মিটার, দোকানের মালামাল পর্যন্ত নিরাপদ নয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—এই চোরদের অনেকেই চিহ্নিত। কারো নামে ১০টি মামলা, কারো নামে ১৫টি। তবুও তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ তাদের রুখতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “চোর ধরার কেউ নেই! এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় এলাকাবাসীকেই হয়তো নিরাপত্তা টিম গঠন করতে হবে।”

আরও অনেকে মজার ছলে বলেন, “যদি প্রশাসন কিছু না করে, তাহলে অন্তত চোরদের একটা আইডি কার্ড দিয়ে দিক! যেন বোঝা যায়, কে কোনটা চুরি করছে!”

এলাকাবাসীর দাবি, এই চুরির লাগাম টানতে হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে এনায়েতপুর পুরোপুরি অরাজকতায় পরিণত হবে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন,“বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জের এনায়েতপুরে চুরি হচ্ছে ভাত, ডিম, বই আর সাবান!

আপডেট : ১০:৪৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার এনায়েতপুর গ্রামে চুরির ঘটনা এখন যেন নিত্যদিনের উৎসবে পরিণত হয়েছে! এখানে চুরি হচ্ছে “A to Z”—ডিম, উমে বসা মুরগি, রান্না করা ভাত, সেই ভাতের পাতিলা, হুইল পাউডার, সাবান, এমনকি শিক্ষার্থীদের গাইড বই পর্যন্ত।

এলাকার মানুষের ভাষায়, এনায়েতপুর এখন চুরির পুণ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে!

প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছেই। গতকাল রাতেও এনায়েতপুরের একটি স’মিল থেকে এবং ধোপা বাড়ি থেকে দুটি পানির মোটর চুরি হয়েছে। এর আগেও এই এলাকায় ঘরে ঘরে, দোকানে দোকানে একাধিকবার চুরি হয়েছে।

একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন এখানে রান্না করে রাখলেও নিশ্চিন্ত থাকা যায় না! কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাতিলসহ ভাত উধাও! এমনকি উমে বসা মুরগিও নিরাপদ নয়!”

আরেকজন বলেন, “বাচ্চারা স্কুলে যায় বই রেখে, কিন্তু ফেরার সময় দেখে বই খাতা সব গায়েব! চোরের টার্গেটে এখন শিক্ষার সামগ্রীও।”

এনায়েতপুরে এমনকি মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, অটো ব্যাটারি, পানির মোটর, বৈদ্যুতিক মিটার, দোকানের মালামাল পর্যন্ত নিরাপদ নয়।

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো—এই চোরদের অনেকেই চিহ্নিত। কারো নামে ১০টি মামলা, কারো নামে ১৫টি। তবুও তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ তাদের রুখতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “চোর ধরার কেউ নেই! এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় এলাকাবাসীকেই হয়তো নিরাপত্তা টিম গঠন করতে হবে।”

আরও অনেকে মজার ছলে বলেন, “যদি প্রশাসন কিছু না করে, তাহলে অন্তত চোরদের একটা আইডি কার্ড দিয়ে দিক! যেন বোঝা যায়, কে কোনটা চুরি করছে!”

এলাকাবাসীর দাবি, এই চুরির লাগাম টানতে হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে এনায়েতপুর পুরোপুরি অরাজকতায় পরিণত হবে।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন,“বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”