ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলে ছেংগারচর বাজারে খাইট্টার ধুম, রাস্তার পাশেও চলছে বিক্রি

ঈদুল আযহা আর মাত্র দুই দিন বাকি। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছেংগারচর বাজারে এখন চোখে পড়ে ঈদের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। কোরবানির পশু কেনাবেচার পাশাপাশি জমে উঠেছে মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত খাইট্টা (কাঠের গুঁড়ি) বিক্রি।
শুক্রবার (২ জুন) ছেংগারচর বাজারে দেখা যায় দোকানে নয়, রাস্তার পাশেও দেখা যাচ্ছে খাইট্টা সাজিয়ে বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
স’ মিলের কারিগররা দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন এই গুঁড়ি। খাইট্টা তৈরি হয় মূলত তেঁতুল কাঠ দিয়ে, যা মজবুত ও টেকসই বলে জানালেন ছেংগারচর বাজারের স’ মিল মালিক ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম ।
তিনি বলেন, তেঁতুল কাঠের দাম বেড়েছে। তার ওপর চাপ বেশি, তাই খাইট্টার দাম একটু চড়া।
বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন আখন জানান, ঈদ এলে শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত খাইট্টার চাহিদা বেড়ে যায়। আজকে বিক্রি মোটামুটি ভালো হয়েছে, তবে আরও বেশি আশা ছিল।
আরেক বিক্রেতা মাঈনউদ্দিন বলেন, পেশাদার কসাইরা বড় আকারের খাইট্টা কিনেন, যেগুলোর দাম ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ছোট আকারের গুঁড়িও আছে।
এই চাহিদাকে ঘিরেই রাস্তার পাশেও এখন খাইট্টার দোকান বসেছে। বাজারে জায়গা না পেয়ে অনেকেই বাজারের প্রবেশপথ ও আশপাশের রাস্তায় বসেছেন। বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, বাজারে জায়গা পাই না। তাই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে খাইট্টা বিক্রি করছি। হঠাৎ করে ক্রেতার ভিড়ও বেশি হচ্ছে।
তবে দাম নিয়ে আছে ভোক্তাদের অসন্তোষ।
ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর যেটা ২৫০ টাকায় কিনেছিলাম, এখন সেটা ৩৫০ টাকায় দিচ্ছে। প্রান্তিক মানুষের জন্য এটা চাপ হয়ে যায়।
ছেংগারচর পৌর বণিক সমিতির সদস্য রহমতুল্লাহ সরকার জানান, ঈদ এলে চাহিদা বেশি হয়। এবার কাঠের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরাও দাম কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঈদের সময় কসাইখানা থেকে শুরু করে সাধারণ বাড়িতেও খাইট্টার ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে সারা দেশের মতো ছেংগারচরের খাইট্টা বাজারও এখন সরগরম।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

কুরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলে ছেংগারচর বাজারে খাইট্টার ধুম, রাস্তার পাশেও চলছে বিক্রি

আপডেট : ০৮:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

ঈদুল আযহা আর মাত্র দুই দিন বাকি। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছেংগারচর বাজারে এখন চোখে পড়ে ঈদের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। কোরবানির পশু কেনাবেচার পাশাপাশি জমে উঠেছে মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত খাইট্টা (কাঠের গুঁড়ি) বিক্রি।
শুক্রবার (২ জুন) ছেংগারচর বাজারে দেখা যায় দোকানে নয়, রাস্তার পাশেও দেখা যাচ্ছে খাইট্টা সাজিয়ে বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
স’ মিলের কারিগররা দিন-রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন এই গুঁড়ি। খাইট্টা তৈরি হয় মূলত তেঁতুল কাঠ দিয়ে, যা মজবুত ও টেকসই বলে জানালেন ছেংগারচর বাজারের স’ মিল মালিক ইঞ্জিনিয়ার সফিকুল ইসলাম ।
তিনি বলেন, তেঁতুল কাঠের দাম বেড়েছে। তার ওপর চাপ বেশি, তাই খাইট্টার দাম একটু চড়া।
বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন আখন জানান, ঈদ এলে শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত খাইট্টার চাহিদা বেড়ে যায়। আজকে বিক্রি মোটামুটি ভালো হয়েছে, তবে আরও বেশি আশা ছিল।
আরেক বিক্রেতা মাঈনউদ্দিন বলেন, পেশাদার কসাইরা বড় আকারের খাইট্টা কিনেন, যেগুলোর দাম ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত হয়। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ছোট আকারের গুঁড়িও আছে।
এই চাহিদাকে ঘিরেই রাস্তার পাশেও এখন খাইট্টার দোকান বসেছে। বাজারে জায়গা না পেয়ে অনেকেই বাজারের প্রবেশপথ ও আশপাশের রাস্তায় বসেছেন। বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, বাজারে জায়গা পাই না। তাই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে খাইট্টা বিক্রি করছি। হঠাৎ করে ক্রেতার ভিড়ও বেশি হচ্ছে।
তবে দাম নিয়ে আছে ভোক্তাদের অসন্তোষ।
ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর যেটা ২৫০ টাকায় কিনেছিলাম, এখন সেটা ৩৫০ টাকায় দিচ্ছে। প্রান্তিক মানুষের জন্য এটা চাপ হয়ে যায়।
ছেংগারচর পৌর বণিক সমিতির সদস্য রহমতুল্লাহ সরকার জানান, ঈদ এলে চাহিদা বেশি হয়। এবার কাঠের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরাও দাম কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঈদের সময় কসাইখানা থেকে শুরু করে সাধারণ বাড়িতেও খাইট্টার ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে সারা দেশের মতো ছেংগারচরের খাইট্টা বাজারও এখন সরগরম।