নোয়াখালীর সুধারাম থানায় দায়ের করা মানবপাচার ও ধর্ষণ মামলার দুই পলাতক আসামিকে রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং র্যাব-১০, সদর কোম্পানি, কেরানীগঞ্জ এর যৌথ অভিযানে কদমতলীর পূর্ব জুরাইন চেয়ারম্যান বাড়ী মোড়, নবীনবাগ ইদ্রিস আলীর বাড়ির সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মামলার ২নং এজাহারনামীয় আসামী মোঃ সাব্বির হোসেন (২০), পিতা-মোঃ আব্দুল আলিম, মাতা-মোছাঃ সাবিনা বেগম, সাং-জলজলিয়া, থানা-নাচোল, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং তদন্তে প্রাপ্ত আসামী মাহমুদা আক্তার মীম (২০), পিতা-মোহাম্মদ আলী, মাতা-ঝরনা বেগম, স্বামী-ইমরান হোসেন, সাং-মুরিআলী গলি, থানা-সবুজবাগ, ডিএমপি, ঢাকা।
র্যাব জানায়, ভিকটিম একজন নাবালিকা মাদ্রাসা ছাত্রী। ৬ মে ২০২৫ তারিখে তাকে বিয়ের প্রলোভনে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর এক আবাসিক হোটেলে ২০ দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে প্রধান অভিযুক্ত। এরপর সাতক্ষীরায় নিয়ে গেলেও আত্মীয়স্বজনের গ্রহণ না করায় পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসে। পরে ভিকটিমকে মোঃ সাব্বির হোসেনের বাসায় রেখে আসলে, সে মাহমুদা আক্তার মীমের কাছে সর্দারনি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়।
ভিকটিম সুকৌশলে তার বোনকে ঘটনা জানালে, “Protect Our Sister BD” সংস্থার সহায়তায় ১৮ জুন তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই দিন তাকে ভর্তি করা হয় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে।
এ ঘটনায় নোয়াখালীর সুধারাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয় (মামলা নং-৩৩, তারিখ ২২/০৬/২০২৫)। মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোয়াখালী জেলার সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




















