ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনার বুকে অভিযানে আগুনে পুড়লো অবৈধ ৩৫৫ চায়না দুয়ারী চাঁই

মেঘনার বুকজুড়ে ভোরের বাতাসে ছিল সুনসান নীরবতা। হঠাৎ নদীর গর্জন ছাপিয়ে ছুটে চললো একটি অভিযানের দল। উদ্দেশ্য একটাই—নদীর সন্তানদের রক্ষা করা। সোমবার (৩০ জুন) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর দশানী, সটাকী, বাবুরবাজার, ষাটনল ও কালীরচর এলাকায় চালানো হলো এক সম্মিলিত মৎস্য রক্ষা অভিযান।
অভিযানে নদী থেকে একে একে জব্দ করা হয় ৩৫৫টি চায়না দুয়ারী চাঁই এবং ১টি চরঘেরা জাল (গছি)—যা মাছের জন্য এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ হিসেবে পরিচিত। অভিযান শেষে এসব অবৈধ জাল নদীর তীরে এনে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস। তিনি বলেন, নদীর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থাকে রক্ষায় এই অভিযান একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ। এসব চাঁই ও চরঘেরা জাল মাছের ডিম ও পোনা নিধনের প্রধান কারণ। তাই এগুলো নির্মূল করাই আমাদের অগ্রাধিকার।
অভিযানে অংশ নেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মোহনপুর আউটপোস্টের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার নাসির উদ্দিন এবং মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো: আহসান।
কন্টিনজেন্ট কমান্ডার নাসির উদ্দিন জানান, প্রতিদিনই নদীতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। আমরা চাই জেলেরা নিয়ম মেনে মাছ ধরুক, যাতে নদীও বাঁচে, তাদের জীবিকাও নিরাপদ থাকে।
নৌ পুলিশ কর্মকর্তা মো: আহসান বলেন, চাঁই বা চরঘেরা জাল দিয়ে মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের জালের মাধ্যমে মাছের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তাই আমাদের অভিযান চলবে নিয়মিত।
অভিযান চলাকালীন নদীতীরে ভিড় জমে স্থানীয় জনতার। কেউ কেউ কৌতূহলভরে দেখেছেন জব্দ করা জাল ধ্বংসের দৃশ্য, কেউ আবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই পদক্ষেপে। একজন বয়স্ক জেলে বলেন, এখনকার ছেলেরা নদীকে শেষ করে ফেলতেছে। সরকারের এই উদ্যোগে আমরা খুশি।
উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে চায়না দুয়ারী চাঁই ও চরঘেরা জালের ব্যবহার। মাছের প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, নদী রক্ষায় কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

মেঘনার বুকে অভিযানে আগুনে পুড়লো অবৈধ ৩৫৫ চায়না দুয়ারী চাঁই

আপডেট : ০৯:০২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

মেঘনার বুকজুড়ে ভোরের বাতাসে ছিল সুনসান নীরবতা। হঠাৎ নদীর গর্জন ছাপিয়ে ছুটে চললো একটি অভিযানের দল। উদ্দেশ্য একটাই—নদীর সন্তানদের রক্ষা করা। সোমবার (৩০ জুন) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর দশানী, সটাকী, বাবুরবাজার, ষাটনল ও কালীরচর এলাকায় চালানো হলো এক সম্মিলিত মৎস্য রক্ষা অভিযান।
অভিযানে নদী থেকে একে একে জব্দ করা হয় ৩৫৫টি চায়না দুয়ারী চাঁই এবং ১টি চরঘেরা জাল (গছি)—যা মাছের জন্য এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ হিসেবে পরিচিত। অভিযান শেষে এসব অবৈধ জাল নদীর তীরে এনে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস। তিনি বলেন, নদীর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থাকে রক্ষায় এই অভিযান একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ। এসব চাঁই ও চরঘেরা জাল মাছের ডিম ও পোনা নিধনের প্রধান কারণ। তাই এগুলো নির্মূল করাই আমাদের অগ্রাধিকার।
অভিযানে অংশ নেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মোহনপুর আউটপোস্টের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার নাসির উদ্দিন এবং মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো: আহসান।
কন্টিনজেন্ট কমান্ডার নাসির উদ্দিন জানান, প্রতিদিনই নদীতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। আমরা চাই জেলেরা নিয়ম মেনে মাছ ধরুক, যাতে নদীও বাঁচে, তাদের জীবিকাও নিরাপদ থাকে।
নৌ পুলিশ কর্মকর্তা মো: আহসান বলেন, চাঁই বা চরঘেরা জাল দিয়ে মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের জালের মাধ্যমে মাছের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তাই আমাদের অভিযান চলবে নিয়মিত।
অভিযান চলাকালীন নদীতীরে ভিড় জমে স্থানীয় জনতার। কেউ কেউ কৌতূহলভরে দেখেছেন জব্দ করা জাল ধ্বংসের দৃশ্য, কেউ আবার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই পদক্ষেপে। একজন বয়স্ক জেলে বলেন, এখনকার ছেলেরা নদীকে শেষ করে ফেলতেছে। সরকারের এই উদ্যোগে আমরা খুশি।
উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে চায়না দুয়ারী চাঁই ও চরঘেরা জালের ব্যবহার। মাছের প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, নদী রক্ষায় কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।