সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রামীণফোন মোবাইল টাওয়ারের চোরাই যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেছে। সোমবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় সোনাতলা থানায় একটি জিডি দায়েরের পরপরই পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের দিগদাইড় গ্রামে একটি আমবাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মোবাইল টাওয়ারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ।
জিডির সূত্রে অভিযানঃ
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দিগদাইড় গ্রামের মৃত তবিবর আকন্দের ছেলে মো. ছালেক (৬৫) এর মালিকানাধীন আমবাগানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় বাগানের ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা অবস্থায় টাওয়ারের বিভিন্ন সরঞ্জাম খুঁজে পায় পুলিশ।
পুলিশ যে সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১২টি টেলিকমিউনিকেশন রেডিও ইউনিট (RRU),২টি স্মার্ট টুল (ওয়াটার লেভেল)
১টি বেকার মেইন সুইচ
৩২টি ডাল রেঞ্জ
১১টি স্ক্রু-ড্রাইভার
৮টি ছোট-বড় কাটার প্লায়ার্স
১টি ড্রিল মেশিন
২টি কোমর বেল্ট
২টি সিকল (৮ ফুট দৈর্ঘ্য)
৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ডিশ লাইনের তার
১টি ১০০ ফুট টেপ ফিতা
উদ্ধার করা সব মালামাল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিলাদুন নবী জানান:
নওগাঁ জেলার একটি থানায় মোবাইল টাওয়ারে চুরি সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। সেই মামলার সূত্র ধরে আমরা সোনাতলায় করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করি। এরপর দিগদাইড় গ্রামে অভিযান চালিয়ে চোরাই যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “চোরাই মালামাল আমবাগানে রেখে নজর এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়াঃ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি আমবাগানে এত বিপুল পরিমাণ টাওয়ারের যন্ত্রাংশ কীভাবে এল, তা নিয়ে তারা বিস্মিত। অনেকের ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিতভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করে এসব যন্ত্রাংশ গোপনে মজুত করে।
পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা চক্র সম্পর্কে যেকোনো তথ্য দিতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, কেউ যদি মোবাইল টাওয়ারের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ বা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে দ্রুত আইনি সহায়তা গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।




















