ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু এলাকায় তোলপাড়

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৮:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • 23
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মিরপুরের তরফদার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত বাগান থেকে মো. হাসানুর রহমান (৩৭) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে তরফদার বাড়ির বাগানে ড্রেনের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ফরিদগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম, ওসি (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তীসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে যান।
নিহত হাসানুর রহমান পৌরসভার নোয়াগাঁও এলাকার মিজি বাড়ির বাসিন্দা এবং মৃত খোকন মিজির ছেলে। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
রহস্যজনক এই মৃত্যুর খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুকুর চাকমাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে জানা যায়, নিহতের দুই হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো দগদগে চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার কোমরে একটি ছুরি পাওয়া গেছে।
নিহতের মেয়ে তানজিনা বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাবা মাছ ধরতে বের হন। এরপর কিছু লোক তাকে খুঁজতে আসে। পরে তারা বাবাকে মুখ চেপে ধরে মারধর করে হত্যা করে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৯ জুন ছোল্লা বাড়ির খালেকের ছেলে হাছানের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। তখন আমার বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”
নিহতের বড় ভাই শরীফ বলেন, “চুরির ঘটনায় হাছান নামের এক ব্যক্তি বহিরাগত লোক এনে আমার ভাইকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আজ সেই হুমকি বাস্তব হয়ে গেল। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম বলেন, “শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসানুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “মরদেহের হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে নিহতের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ছিনতাই ও মাদকের সাতটি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ ও পেছনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

ফরিদগঞ্জে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু এলাকায় তোলপাড়

আপডেট : ০৮:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মিরপুরের তরফদার বাড়ির একটি পরিত্যক্ত বাগান থেকে মো. হাসানুর রহমান (৩৭) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে তরফদার বাড়ির বাগানে ড্রেনের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ফরিদগঞ্জ থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম, ওসি (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তীসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে যান।
নিহত হাসানুর রহমান পৌরসভার নোয়াগাঁও এলাকার মিজি বাড়ির বাসিন্দা এবং মৃত খোকন মিজির ছেলে। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
রহস্যজনক এই মৃত্যুর খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ-হাজীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুকুর চাকমাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে জানা যায়, নিহতের দুই হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো দগদগে চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার কোমরে একটি ছুরি পাওয়া গেছে।
নিহতের মেয়ে তানজিনা বলেন, “বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাবা মাছ ধরতে বের হন। এরপর কিছু লোক তাকে খুঁজতে আসে। পরে তারা বাবাকে মুখ চেপে ধরে মারধর করে হত্যা করে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “গত ১৯ জুন ছোল্লা বাড়ির খালেকের ছেলে হাছানের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। তখন আমার বাবার বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”
নিহতের বড় ভাই শরীফ বলেন, “চুরির ঘটনায় হাছান নামের এক ব্যক্তি বহিরাগত লোক এনে আমার ভাইকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আজ সেই হুমকি বাস্তব হয়ে গেল। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম বলেন, “শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসানুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “মরদেহের হাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে নিহতের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ছিনতাই ও মাদকের সাতটি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ ও পেছনের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।