ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ১২০ জন ফেল: প্রধান শিক্ষক বললেন ‘ওরা উশৃঙ্খল’

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • 111

 

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল চরম হতাশার রূপ নিয়েছে। এই বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ১৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৫২ জন, আর ফেল করেছে ১২০ জন। ফলস্বরূপ, পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০.৭৭ শতাংশ, যা উপজেলায় সর্বনিম্ন।

উপজেলার গড় পাসের হার ৬৭.২৯ শতাংশ, সেই তুলনায় রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল এক কথায় ভয়াবহ।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে—দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলার ঘাটতি, নিয়ম ভঙ্গ, এবং উগ্র আচরণ ছিল দুঃখজনক বাস্তবতা। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত হয় না, আবার যারা আসে, তারা ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত থাকে।

এক শিক্ষক জানান—“শিক্ষার্থীরা শুধু গালাগাল করে, মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। শিক্ষকের কথা তোয়াক্কা করে না, বরং প্রতিবাদ করে। ক্লাস নেওয়ার সময় অনেক শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। আমরা বহুবার চেষ্টা করেও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষার্থী কিশোর গ্যাং–এর মতো গ্রুপে জড়িত। তারা একাধিকবার মারামারি, দলীয় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি গণিত পরীক্ষার দিন ‘হলে গার্ড কঠোর দেওয়া হয়’—এই অজুহাতে বেঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। শিক্ষকরা জানান, এই শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার চেয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারেই বেশি মনোযোগী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন সরকার বলেন— “যারা পড়াশোনা করে না, তারাই ফেল করেছে। যারা উশৃঙ্খল, তারা পুরো ক্লাসের ক্ষতি করেছে। আমরা আগামীতে যাদের টেস্ট পরীক্ষায় পাস হবে না, তাদের ফরম পূরণ করতে দেব না। যারা পাস করেছে, তারাই প্রকৃত শিক্ষার্থী।”

 

তবে প্রধান শিক্ষকের এই বক্তব্যে জনমনে আরও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এভাবে পুরো দোষ শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তিনি শিক্ষকদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, মনিটরিং, শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনা—এসবই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্য করেন—“একটা স্কুলে শতাধিক শিক্ষার্থী ফেল করল, অথচ কেউ দায় নিচ্ছে না! এটাই কি প্রশাসনের কাজ?”

 

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ অবনতি হচ্ছিল, কিন্তু তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ১২০ জন ফেল: প্রধান শিক্ষক বললেন ‘ওরা উশৃঙ্খল’

আপডেট : ১০:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

 

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল চরম হতাশার রূপ নিয়েছে। এই বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ১৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৫২ জন, আর ফেল করেছে ১২০ জন। ফলস্বরূপ, পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০.৭৭ শতাংশ, যা উপজেলায় সর্বনিম্ন।

উপজেলার গড় পাসের হার ৬৭.২৯ শতাংশ, সেই তুলনায় রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল এক কথায় ভয়াবহ।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে—দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলার ঘাটতি, নিয়ম ভঙ্গ, এবং উগ্র আচরণ ছিল দুঃখজনক বাস্তবতা। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত হয় না, আবার যারা আসে, তারা ক্লাসে মনোযোগ না দিয়ে নিজেদের মতো ব্যস্ত থাকে।

এক শিক্ষক জানান—“শিক্ষার্থীরা শুধু গালাগাল করে, মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। শিক্ষকের কথা তোয়াক্কা করে না, বরং প্রতিবাদ করে। ক্লাস নেওয়ার সময় অনেক শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। আমরা বহুবার চেষ্টা করেও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষার্থী কিশোর গ্যাং–এর মতো গ্রুপে জড়িত। তারা একাধিকবার মারামারি, দলীয় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি গণিত পরীক্ষার দিন ‘হলে গার্ড কঠোর দেওয়া হয়’—এই অজুহাতে বেঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। শিক্ষকরা জানান, এই শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার চেয়ে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারেই বেশি মনোযোগী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির হোসেন সরকার বলেন— “যারা পড়াশোনা করে না, তারাই ফেল করেছে। যারা উশৃঙ্খল, তারা পুরো ক্লাসের ক্ষতি করেছে। আমরা আগামীতে যাদের টেস্ট পরীক্ষায় পাস হবে না, তাদের ফরম পূরণ করতে দেব না। যারা পাস করেছে, তারাই প্রকৃত শিক্ষার্থী।”

 

তবে প্রধান শিক্ষকের এই বক্তব্যে জনমনে আরও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এভাবে পুরো দোষ শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দিয়ে তিনি শিক্ষকদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, মনিটরিং, শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনা—এসবই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ফলাফল প্রকাশের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্য করেন—“একটা স্কুলে শতাধিক শিক্ষার্থী ফেল করল, অথচ কেউ দায় নিচ্ছে না! এটাই কি প্রশাসনের কাজ?”

 

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ অবনতি হচ্ছিল, কিন্তু তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।