চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মজিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার ভোকেশনাল শাখার ২৫ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফলাফলে ফেল করেছে। বিষয়টি জানার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা আর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারণ, তাদের কোনো একাডেমিক দুর্বলতার কারণে নয়—বরং শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার ফলেই এমনটি ঘটেছে।
২০২৫ সালের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা লিখিত ও ব্যবহারিক সব পরীক্ষাতেই অংশ নিয়েছে। তবে বোর্ডে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেইনিং’ বিষয়ের ব্যবহারিক নম্বর সময়মতো না পাঠানোয় ফলাফলে সবাইকে ফেল দেখানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্র মো. মোস্তফা কামাল ও মো. আল-আমিন বলেন, “আমরা সব পরীক্ষা দিয়েছি। শামসুদ্দিন স্যার বলেন, ব্যবহারিকের জন্য কিছু জিনিস কিনতে হবে, আমরা টাকা দিই। কিন্তু এখন দেখি আমরা সবাই ফেল!”
বিষয়টির দায় স্বীকার করে শিক্ষক শামসুদ্দিন বলেন, “ব্যবহারিক নম্বর পাঠানো হয়নি, এজন্য রেজাল্টে সমস্যা হয়েছে। আমরা সংশোধনের চেষ্টা করছি।” তবে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি আনোয়ার মোল্লা জানান, “৮ জুলাই বোর্ডে নম্বর পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, সংশোধিত ফলাফল শিগগিরই আসবে।”
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাউছুল আজম পাটওয়ারী বলেন, “বিষয়টি অস্বাভাবিক। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফরিদগঞ্জ ইউএনও সুলতানা রাজিয়া বলেন, “ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কী কারণে এমন হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের স্বার্থেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”




















