বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কুশারঘোপ গ্রামে আবারও চোরাই বিদেশি জাতের দুটি গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাতলা থানা পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
থানা সূত্রে জানা যায়, কুখ্যাত আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মিনহাজুল ইসলামের (৪২) বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে মালিকবিহীন দুটি বিদেশি ক্রস জাতের গরু উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে গরুগুলো থানায় আনা হয়। অভিযানের সময় মিনহাজুল পলাতক ছিলেন।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রওশন কবীর জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালাই। উদ্ধার করা গরুগুলো থানায় রাখা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও মিনহাজুল ইসলামের বাড়ি থেকে একাধিক চোরাই গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার নামে সোনাতলাসহ আশপাশের বিভিন্ন থানায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গরু চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত মামলা।
গ্রামবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মিনহাজুল ও তার সহযোগীরা এলাকায় ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই চক্রের ভয়ে মুখ খুলতে চান না। তবে পুলিশের সাম্প্রতিক সক্রিয়তায় তারা আশাবাদী। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “মিনহাজুলকে গ্রেপ্তার না করলে এ চক্রের দৌরাত্ম্য কমবে না। তার প্রভাব এতটাই যে সাধারণ মানুষ ভয়ে অভিযোগ করতে সাহস পায় না।
অভিযানে অংশ নেওয়া এসআই মো. সাইফুল, এসআই শামীম ও এসআই আক্কাস জানান, উদ্ধারকৃত গরু দুটি থানার হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান এবং মিনহাজুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সোনাতলার কুশারঘোপ গ্রামজুড়ে এখন একটাই আলোচনার বিষয়—কখন গ্রেপ্তার হবে বহুমামলার আসামি মিনহাজুল ইসলাম? স্থানীয়দের আশা, দ্রুত তার গ্রেপ্তার নিশ্চিত হলে এলাকার চুরি-ছিনতাই ও অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।




















