ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনবল সংকটে ভুগছে হাজীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  • রিয়াজ শাওন
  • আপডেট : ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 156

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর ঘাটতির কারণে প্রতিদিন শত শত রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে সরকারি এই হাসপাতালের ওপর আস্থা হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিক বা দূরবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে মোট ২৪৫টি অনুমোদিত পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ৯৭টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসক থাকার কথা ৩২ জন, বর্তমানে আছেন মাত্র ১০ জন। দ্বিতীয় শ্রেণীর নার্স ৩৮ জনের বিপরীতে আছেন ৩২ জন, তৃতীয় শ্রেণীর ১৪৫ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন এবং চতুর্থ শ্রেণীর ৩০ জনের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৫ জন কর্মচারী।

অর্থাৎ পুরো হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নির্ভর করছে সীমিত কয়েকজন চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীর ওপর। প্রতিদিন হাজীগঞ্জসহ আশপাশের চার উপজেলার ৭০০ থেকে ১০০০ রোগী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় প্রতিদিন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উপচেপড়া ভিড়। ভর্তি বেডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে থাকতে হয়। চিকিৎসা পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় রোগী ও স্বজনদের

একজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডাক্তার কম থাকায় আমরা অনেক সময় সঠিক চিকিৎসা পাই না। ভালো ডাক্তার পাওয়ার আশায় অনেককে অন্য হাসপাতালে যেতে হয়।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীন হাসান বলেন, “আমরা সীমিত জনবল নিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে অতিরিক্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ না হলে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই শূন্য পদ পূরণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া বড় ধরণের চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা অবিলম্বে শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, যথাসময়ে সমাধান না হলে হাজীগঞ্জসহ আশপাশের কয়েক উপজেলার লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

জনবল সংকটে ভুগছে হাজীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট : ০৮:১৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর ঘাটতির কারণে প্রতিদিন শত শত রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে সরকারি এই হাসপাতালের ওপর আস্থা হারিয়ে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিক বা দূরবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে মোট ২৪৫টি অনুমোদিত পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে ৯৭টি। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর চিকিৎসক থাকার কথা ৩২ জন, বর্তমানে আছেন মাত্র ১০ জন। দ্বিতীয় শ্রেণীর নার্স ৩৮ জনের বিপরীতে আছেন ৩২ জন, তৃতীয় শ্রেণীর ১৪৫ জনের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন এবং চতুর্থ শ্রেণীর ৩০ জনের বিপরীতে আছেন মাত্র ১৫ জন কর্মচারী।

অর্থাৎ পুরো হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নির্ভর করছে সীমিত কয়েকজন চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীর ওপর। প্রতিদিন হাজীগঞ্জসহ আশপাশের চার উপজেলার ৭০০ থেকে ১০০০ রোগী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।রোগীর তুলনায় জনবল কম থাকায় প্রতিদিন হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উপচেপড়া ভিড়। ভর্তি বেডে জায়গা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে থাকতে হয়। চিকিৎসা পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় রোগী ও স্বজনদের

একজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডাক্তার কম থাকায় আমরা অনেক সময় সঠিক চিকিৎসা পাই না। ভালো ডাক্তার পাওয়ার আশায় অনেককে অন্য হাসপাতালে যেতে হয়।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীন হাসান বলেন, “আমরা সীমিত জনবল নিয়েই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে অতিরিক্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ না হলে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই শূন্য পদ পূরণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া বড় ধরণের চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা অবিলম্বে শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, যথাসময়ে সমাধান না হলে হাজীগঞ্জসহ আশপাশের কয়েক উপজেলার লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।