আজ জাতি স্মরণ করছে এক অমর সাহসী বীরকে—শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন, এসবিপি। ঠিক এক বছর আগে, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জীবন বাজি রেখে তিনি রক্ত দিয়ে লিখেছিলেন এক অনন্য বীরত্বগাথা। মাত্র ২৩ বছরের এক তরুণ সেনা কর্মকর্তা হয়েও যে সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা যুগে যুগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সমগ্র জাতির জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
গত বছরের এই দিনে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযানে অংশ নেন লেফটেন্যান্ট নির্জন। সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এবং তাদের সম্পদ রক্ষা করতে তিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছিলেন। একাই একাধিক ডাকাতের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। অদম্য সাহসে শত্রুদের পরাস্ত করার সময় তিনি শত্রুর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মাটির বুকে লুটিয়ে পড়লেও তাঁর অদম্য মনোবল কখনও নড়েনি। সেদিন তিনি প্রাণ দিয়ে হলেও দেশের মানুষকে রক্ষা করেছিলেন।
তাঁর অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর সেনাবাহিনী পদক (এসবিপি) প্রদান করা হয়। এই সম্মাননা শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য এক গৌরবের প্রতীক।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন ছিলেন সেনাসদস্যদের কাছে অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা। তাঁর মতো সাহসী সৈনিকরা প্রমাণ করে দেন—দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য জীবন উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত।
প্রথম শাহাদাত বার্ষিকীতে তাঁর প্রতি সেনাবাহিনীর শ্রদ্ধাঞ্জলি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক চিরন্তন অঙ্গীকার—দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি রক্ষায় বীর নির্জনের মতোই সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
জাতির কাছে লেফটেন্যান্ট নির্জন কেবল একজন সেনা কর্মকর্তা নন, তিনি এক কিংবদন্তি। তাঁর রক্তে লেখা গল্প আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে, বুকে জাগাবে অকুতোভয় সাহসের শক্তি।




















