ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়া-১ আসনের উন্নয়নে কর্ণেল (অব.) মোঃ জগলুল আহসানের ৭ দফা ঘোষণা

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আসনের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল (অব.) মোঃ জগলুল আহসান, এসইউপি, পিএসসি, জি। বুধবার  ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় সারিয়াকান্দি পাবলিক লাইব্রেরী হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার আলোকে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য নিজস্ব ৭ দফা পদক্ষেপ ঘোষণা করেন।

সভায় সারিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও সোনাতলা প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দসহ , বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে কর্ণেল (অব.) মোঃ জগলুল আহসান বলেন,
“আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি শুরু করেছি। আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানেই মানুষের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতি। আমার অবস্থান পরিষ্কার—আমি জনগণের পাশে থাকতে চাই। ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবা করাই আমার লক্ষ্য।”

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনারা সত্যকে তুলে ধরেন। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমেই দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়।”

তিনি আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন,
“২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যখন বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে আঘাত করা হলো, তখন আমি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াই। সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার চক্রান্ত প্রতিহত করার জন্যই আমাকে গণ-অভ্যুত্থানের আসামি বানানো হয় এবং মার্শাল ল’তে নেওয়া হয়। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতিকে ধারণ করি। ২০১৬ সালে বিএনপি’র সদস্য পদ গ্রহণ করি এবং পরবর্তীতে নবায়ন করি। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে আমি ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছি। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং একজন সাধারণ রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি নতুনভাবে পথচলা শুরু করি।”

কর্ণেল (অব.) জগলুল আহসান সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-১ আসনের জন্য নিম্নলিখিত ৭ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন—

১. অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন: সারিয়াকান্দি ও সোনাতলাকে কৃষি-শিল্পনির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা।
২. নদী ভাঙন প্রতিরোধ: যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ।
৩. নদী বন্দর স্থাপন: যমুনা নদীর তীরে নদী বন্দর গড়ে তুলে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন।
৪. শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র: এ অঞ্চলে একটি গবেষণা কেন্দ্র বা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
৫. সোলার শক্তি প্রকল্প: গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের ঘাটতি পূরণে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন।
৬. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: যুবসমাজের জন্য শিল্প-কারখানা, আইটি সেন্টার ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি।
৭. সামাজিক উন্নয়ন: নারীর ক্ষমতায়ন, মাদকমুক্ত সমাজ ও স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়ন।

কর্ণেল (অব.) মোঃ জগলুল আহসান বলেন,
“আমার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের জন্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও তারেক রহমানের ৩১ দফার কর্মসূচি মেনে আমি বগুড়া-১ আসনের জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাব। জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বগুড়া-১ আসনের উন্নয়নে কর্ণেল (অব.) মোঃ জগলুল আহসানের ৭ দফা ঘোষণা

আপডেট : ০৭:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আসনের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি নেতা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল (অব.) মোঃ জগলুল আহসান, এসইউপি, পিএসসি, জি। বুধবার  ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় সারিয়াকান্দি পাবলিক লাইব্রেরী হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফার আলোকে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য নিজস্ব ৭ দফা পদক্ষেপ ঘোষণা করেন।

সভায় সারিয়াকান্দি প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দ ও সোনাতলা প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দসহ , বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে কর্ণেল (অব.) মোঃ জগলুল আহসান বলেন,
“আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি শুরু করেছি। আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানেই মানুষের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতি। আমার অবস্থান পরিষ্কার—আমি জনগণের পাশে থাকতে চাই। ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবা করাই আমার লক্ষ্য।”

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,
“সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। আপনারা সত্যকে তুলে ধরেন। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমেই দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়।”

তিনি আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন,
“২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি যখন বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে আঘাত করা হলো, তখন আমি শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াই। সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার চক্রান্ত প্রতিহত করার জন্যই আমাকে গণ-অভ্যুত্থানের আসামি বানানো হয় এবং মার্শাল ল’তে নেওয়া হয়। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতিকে ধারণ করি। ২০১৬ সালে বিএনপি’র সদস্য পদ গ্রহণ করি এবং পরবর্তীতে নবায়ন করি। ২০১৮ সালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে আমি ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছি। একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং একজন সাধারণ রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি নতুনভাবে পথচলা শুরু করি।”

কর্ণেল (অব.) জগলুল আহসান সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-১ আসনের জন্য নিম্নলিখিত ৭ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন—

১. অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন: সারিয়াকান্দি ও সোনাতলাকে কৃষি-শিল্পনির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা।
২. নদী ভাঙন প্রতিরোধ: যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ।
৩. নদী বন্দর স্থাপন: যমুনা নদীর তীরে নদী বন্দর গড়ে তুলে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন।
৪. শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র: এ অঞ্চলে একটি গবেষণা কেন্দ্র বা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
৫. সোলার শক্তি প্রকল্প: গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের ঘাটতি পূরণে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন।
৬. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: যুবসমাজের জন্য শিল্প-কারখানা, আইটি সেন্টার ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি।
৭. সামাজিক উন্নয়ন: নারীর ক্ষমতায়ন, মাদকমুক্ত সমাজ ও স্বাস্থ্যখাতের আধুনিকায়ন।

কর্ণেল (অব.) মোঃ জগলুল আহসান বলেন,
“আমার রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং জনগণের জন্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও তারেক রহমানের ৩১ দফার কর্মসূচি মেনে আমি বগুড়া-১ আসনের জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাব। জনগণের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”