ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • 321

 

 

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়নের স্থানীয় দুই বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় ইউপি সচিব এম এ কুদ্দুছ রোকন, ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহাগ পাটোয়ারী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন মিজির যোগসাজশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, সচিব এম এ কুদ্দুছ রোকন দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে একই ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। ‘উপরের মহলের আশীর্বাদপুষ্ট’ হওয়ায় তিনি একাধিকবার বদলি আদেশ থেকেও রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান।

 

যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, পাইকদী মিজি বাড়ি বায়তুল মামুর জামে মসজিদের অজুখানা নির্মাণ ও মাটি ভরাট প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ টাকা।
৫ নং ওয়ার্ডের ২৮নং পাইকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারে বরাদ্দ ছিল ৭ মেট্রিক টন গম। কিন্তু মাঠে মাত্র তিন ট্রাক বালু ফেলে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে।
পাইকদী ঈদগাহ সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, যা বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব প্রকল্পের কোনো কাজ দৃশ্যমান নয়। বরাদ্দের অর্থ ‘ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে’ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার (চট্টগ্রাম), জেলা প্রশাসক (চাঁদপুর), দুর্নীতি দমন কমিশন (চাঁদপুর) এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব এম এ কুদ্দুছ রোকন বলেন, “অজুখানার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠের কাজও হয়েছে। শুধু ঈদগাহের কাজ বাকি আছে।”

 

ইউপি সদস্য সোহাগ পাটোয়ারী বলেন, “আমি জানি কাজ হয়েছে।”
অন্য সদস্য কামাল মিজিও বলেন, “সবগুলোর কাজই সম্পন্ন হয়েছে।”

 

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়ম চলছে। প্রকল্পের সাইনবোর্ড টানানো হলেও মাঠ পর্যায়ে কোনো কাজ দেখা যায়নি। তারা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ০৭:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

 

 

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়নের স্থানীয় দুই বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় ইউপি সচিব এম এ কুদ্দুছ রোকন, ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহাগ পাটোয়ারী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন মিজির যোগসাজশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, সচিব এম এ কুদ্দুছ রোকন দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে একই ইউনিয়নে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। ‘উপরের মহলের আশীর্বাদপুষ্ট’ হওয়ায় তিনি একাধিকবার বদলি আদেশ থেকেও রেহাই পেয়েছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান।

 

যেসব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, পাইকদী মিজি বাড়ি বায়তুল মামুর জামে মসজিদের অজুখানা নির্মাণ ও মাটি ভরাট প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ টাকা।
৫ নং ওয়ার্ডের ২৮নং পাইকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারে বরাদ্দ ছিল ৭ মেট্রিক টন গম। কিন্তু মাঠে মাত্র তিন ট্রাক বালু ফেলে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে।
পাইকদী ঈদগাহ সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, যা বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব প্রকল্পের কোনো কাজ দৃশ্যমান নয়। বরাদ্দের অর্থ ‘ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে’ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

 

ঘটনার তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার (চট্টগ্রাম), জেলা প্রশাসক (চাঁদপুর), দুর্নীতি দমন কমিশন (চাঁদপুর) এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব এম এ কুদ্দুছ রোকন বলেন, “অজুখানার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠের কাজও হয়েছে। শুধু ঈদগাহের কাজ বাকি আছে।”

 

ইউপি সদস্য সোহাগ পাটোয়ারী বলেন, “আমি জানি কাজ হয়েছে।”
অন্য সদস্য কামাল মিজিও বলেন, “সবগুলোর কাজই সম্পন্ন হয়েছে।”

 

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে অনিয়ম চলছে। প্রকল্পের সাইনবোর্ড টানানো হলেও মাঠ পর্যায়ে কোনো কাজ দেখা যায়নি। তারা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।