লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আলোচিত মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সৌদি প্রবাসী পারভেজ (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে রামগঞ্জ পৌরসভার সোনাপুর মহাদড়বাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সাত ভরি চার আনা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার পারভেজ মৃত আবদুল করীম ও ফেরদৌসি বেগম পাখির ছেলে। তিনি নিহত জুলেখা বেগমের স্বামী মিজানুর রহমানের বোনের ছেলে এবং নিহত তানহা আক্তার মীমের ফুফাতো ভাই।
পুলিশ জানায়, পারভেজ দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবনযাপন করছিলেন। কিছুদিন আগে দেশে ফিরে আর্থিক সংকটে পড়েন। পরে মামী জুলেখা বেগমের কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের লোভে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন রাতে সুযোগ বুঝে একাই মামী জুলেখা বেগম (৫৫) ও মামাতো বোন তানহা আক্তার মীমকে (২০) হত্যা করে পারভেজ। এরপর ঘটনাস্থলকে চুরির মতো সাজিয়ে রাখেন, যাতে ঘটনাটি ডাকাতির আকারে প্রকাশ পায়।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা পারভেজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাত ভরি চার আনা স্বর্ণালঙ্কার।”
তিনি আরও বলেন, “পারভেজ হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পারিবারিক সম্পর্কের ভেতর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো সত্যিই ভয়াবহ।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানুষ বিশ্বাস করতে পারছে না, পারভেজের মতো ঘনিষ্ঠ একজন আত্মীয় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।
নিহত জুলেখা বেগম ও তানহা আক্তার মীমের লাশ দাফনের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসী দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
RK / SAIF




















