চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ১৫ বছর ৫ মাস বয়সী এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন পণ্ড করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ লুধুয়া গ্রামের বাদল মাঝি তার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের (১৫) বিয়ের আয়োজন করছিলেন। বরপক্ষ আসার আগেই বিয়েবাড়ির সাজসজ্জা সম্পন্ন হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়নের প্রস্তুতিও চলছিল।
এসময় বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান মতলব উত্তর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্ল্যাহ। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করে দেন।
আদালত পরিচালনায় সহায়তা করেন মতলব উত্তর থানা পুলিশের একটি টিম। পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এর ৮ ধারায় কনের পিতা বাদল মাঝিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয় যে ভবিষ্যতে তিনি মেয়ের বাল্যবিবাহ দেবেন না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্ল্যাহ বলেন, “বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। মেয়েটির বয়স যাচাই করে দেখা যায়, সে এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়ের বাবা তার অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাই আইন অনুযায়ী জরিমানা ও মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বাল্যবিবাহ সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। আমরা মতলব উত্তর উপজেলাকে বাল্যবিবাহমুক্ত রাখতে সবসময় কাজ করছি। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে, যাতে কোনো মেয়েশিশু অল্প বয়সে বিবাহ বন্ধনে না আবদ্ধ হয়।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।




















