ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সনদের আইনিভিত্তির জন্য সংবিধানের চেয়েও শক্তিশালী মেগনেট হচ্ছে গণভোট : সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মাসুম

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম বলেছেন,

“জাতীয় সনদকে আইনিভিত্তি দিতে হবে। সংবিধানের চেয়েও শক্তিশালী মেগনেট হচ্ছে গণভোট। এর মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটই হবে এই সনদের আসল ভিত্তি।”

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন দেশের সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে। প্রায় ৮০ দফা আলোচনার পর সব রাজনৈতিক দল ঐক্যমতে পৌঁছেছে এবং সেই ভিত্তিতেই একটি জাতীয় সনদ ও এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর শুক্রবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাতীয় সনদ দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

“এই সনদ যদি আইনি ভিত্তি না পায়, তাহলে এর কোনো মূল্য থাকবে না। জনগণের অংশগ্রহণ ও অনুমোদনের মাধ্যমেই এটিকে বৈধতা দিতে হবে — আর সেই পথ হলো গণভোট।”

তিনি বলেন, পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতির মাধ্যমে দেশে প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। অতীতে প্রচলিত সনাতনী পদ্ধতি কোনো কল্যাণ আনতে পারেনি। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে সমাজের শিক্ষিত, মার্জিত ও যোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পাবেন।

“এই ব্যবস্থায় ছোট দলগুলোও ন্যায্য মূল্যায়ন পাবে এবং তাদের মতামত জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিফলিত হবে। নির্বাচন দিবসে কেন্দ্র দখল, কালো টাকার প্রভাব, দলীয় আধিপত্য— এসব অন্যায় চিরতরে দূর হবে।”

গতকাল শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “রোকন সম্মেলন–২০২৫”-এ আল আমিন একাডেমী মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল টিম সদস্য কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলামী বুলবুল।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক আবুল হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, হারুনুর রশীদ, দারসুল কুরআন পেশ করেন মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী।
চাঁদপুর শহর আমীর অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, সদর আমীর মাওলানা আফসার উদ্দিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা এটিএম মাসুম আরও বলেন,

“পিআর পদ্ধতি কোনো জটিল বিষয় নয়। এটি নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে কার্যকর করা সম্ভব। এতে ভোটারদের কোনো বাড়তি ঝামেলা হবে না, বরং তাদের ভোটের মূল্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।”

তিনি দাবি করেন, যারা গত পঞ্চাশ বছর ধরে ভোট ডাকাতি ও জনগণের অধিকার হরণ করেছেন, তারাই এখন এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন। কারণ, এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে আর কেউ জনগণের ম্যান্ডেট কেড়ে নিতে পারবে না।

শেষে তিনি বলেন,

“আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে সব দল, সব মানুষ মিলেমিশে দেশকে গড়ে তুলবে। পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি সুশাসনভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”

 

 

 

RK / SAIF

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

জাতীয় সনদের আইনিভিত্তির জন্য সংবিধানের চেয়েও শক্তিশালী মেগনেট হচ্ছে গণভোট : সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মাসুম

আপডেট : ০৬:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম বলেছেন,

“জাতীয় সনদকে আইনিভিত্তি দিতে হবে। সংবিধানের চেয়েও শক্তিশালী মেগনেট হচ্ছে গণভোট। এর মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেটই হবে এই সনদের আসল ভিত্তি।”

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন দেশের সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে। প্রায় ৮০ দফা আলোচনার পর সব রাজনৈতিক দল ঐক্যমতে পৌঁছেছে এবং সেই ভিত্তিতেই একটি জাতীয় সনদ ও এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর শুক্রবার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাতীয় সনদ দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

“এই সনদ যদি আইনি ভিত্তি না পায়, তাহলে এর কোনো মূল্য থাকবে না। জনগণের অংশগ্রহণ ও অনুমোদনের মাধ্যমেই এটিকে বৈধতা দিতে হবে — আর সেই পথ হলো গণভোট।”

তিনি বলেন, পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতির মাধ্যমে দেশে প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। অতীতে প্রচলিত সনাতনী পদ্ধতি কোনো কল্যাণ আনতে পারেনি। পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে সমাজের শিক্ষিত, মার্জিত ও যোগ্য ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসার সুযোগ পাবেন।

“এই ব্যবস্থায় ছোট দলগুলোও ন্যায্য মূল্যায়ন পাবে এবং তাদের মতামত জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিফলিত হবে। নির্বাচন দিবসে কেন্দ্র দখল, কালো টাকার প্রভাব, দলীয় আধিপত্য— এসব অন্যায় চিরতরে দূর হবে।”

গতকাল শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “রোকন সম্মেলন–২০২৫”-এ আল আমিন একাডেমী মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল টিম সদস্য কাজী নজরুল ইসলাম খাদেম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট মাসুদুল ইসলামী বুলবুল।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক আবুল হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, হারুনুর রশীদ, দারসুল কুরআন পেশ করেন মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী।
চাঁদপুর শহর আমীর অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, সদর আমীর মাওলানা আফসার উদ্দিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা এটিএম মাসুম আরও বলেন,

“পিআর পদ্ধতি কোনো জটিল বিষয় নয়। এটি নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে কার্যকর করা সম্ভব। এতে ভোটারদের কোনো বাড়তি ঝামেলা হবে না, বরং তাদের ভোটের মূল্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।”

তিনি দাবি করেন, যারা গত পঞ্চাশ বছর ধরে ভোট ডাকাতি ও জনগণের অধিকার হরণ করেছেন, তারাই এখন এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছেন। কারণ, এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে আর কেউ জনগণের ম্যান্ডেট কেড়ে নিতে পারবে না।

শেষে তিনি বলেন,

“আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে সব দল, সব মানুষ মিলেমিশে দেশকে গড়ে তুলবে। পিআর পদ্ধতির নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে একটি সুশাসনভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”

 

 

 

RK / SAIF