অসহনীয় ঋণের বোঝা আর জীবনের অনিশ্চয়তায় দিশেহারা হয়ে অবশেষে মৃত্যুকে বেছে নিলেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার জসীমউদ্দীন (৪৫)। এনজিও ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে তিনি কীটনাশক পান করেন। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত জসীমউদ্দীন উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের মতে, তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। কিন্তু গত কয়েক মাসে বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় দুই লাখ টাকার ঋণই তার জীবনের সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতি সপ্তাহে কিস্তির চাপে তিনি দিন দিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একদিকে কাজের অভাব, অন্যদিকে পাওনাদারদের নিরন্তর চাপ—সব মিলিয়ে তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন। রবিবার বিকেলে পরিবারের অগোচরে তিনি বিষাক্ত কীটনাশক পান করেন।
অচেতন অবস্থায় তাকে দ্রুত বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জসীমউদ্দীনের স্ত্রী মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“সে খুব পরিশ্রমী ছিল। কিন্তু ঋণের কিস্তির চাপ আর মানুষের কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমি তাকে অনেকবার বুঝিয়েছি, কিন্তু সে আর সহ্য করতে পারেনি।”
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলেও তদন্ত চলছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এনজিও ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছে বহু দরিদ্র পরিবার। সময়মতো কিস্তি দিতে না পারলে তারা সামাজিক ও মানসিক চাপে ভুগছেন। কেউ কেউ ঘরছাড়া হচ্ছেন, আবার কেউ চরম হতাশায় এমন মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এনজিও ঋণ ব্যবস্থায় নজরদারি ও মানবিক নীতি প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। ঋণগ্রহীতাদের মানসিক সহায়তা ও বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
RK / SAIF




















