ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধী কার্ডের যাচাই-বাছাইয়ে ভোগান্তি : ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় ভুক্তভোগীরা

  • সুমন আহমেদ
  • আপডেট : ০৭:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • 157

মতলব উত্তর উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী কার্ডের আবেদনের যাচাই-বাছাই করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।

সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রতিবন্ধী ও তাদের অভিভাবকদের ফোন করে জানানো হয়, যাচাই-বাছাই ও চিকিৎসক কর্তৃক শারীরিক পরীক্ষা সরাসরি উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করতে হবে। সেই অনুযায়ী অনেকেই সকাল সকাল অফিসে এসে পৌঁছান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাচাই-বাছাই শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিতরা।

দক্ষিণ রামপুর গ্রামের রেশমা খাতুন তার ৯ বছরের নাতনী ইভাকে নিয়ে সকাল ৯টায় আসেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে রোদে বসে আছি, কেউ ঠিকমতো জানায় না কবে ডাকবে। ছোট মেয়েটা কষ্টে আছে।
নেদামদী জামতলা গ্রামের মো. রাসেল (২৫) বলেন, আমাদের সময় মতো ডাকা হয়, কিন্তু অফিসারদের দেখা মিললো ১১টার পরে। এভাবে হয়রানি ঠিক না।
হাফানিয়া গ্রামের সাহেব আলী জানান, আমার ছেলে মনছুর আলমকে (২৩) নিয়ে সকালেই এসেছিলাম, ৫ ঘণ্টা পরও এখনো ভিতরে ঢুকতে পারছি না।
মোহনপুর গ্রামের মনির হোসেন (৫০) বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য করা কার্যক্রমে যদি এমন হয়রানি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
অভিযোগ ও ব্যাখ্যা মিলিয়ে দেখা যায়, পর্যাপ্ত জনবল ও স্থান সংকুলানের অভাবে মতলব উত্তরের সমাজসেবা কার্যালয়ের এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এমন কার্যক্রমে আরও শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা সঠিক সময়ে এসে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছি। উপজেলা হলরুম না পাওয়ায় অফিসে কাজ শুরু করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনের যাচাই-বাছাই শেষ করেছি। একসঙ্গে অনেকেই চলে আসায় সামান্য জটিলতা তৈরি হয়েছে। একজন প্রতিবন্ধীর সঙ্গে ৩-৪ জন করে আসায় লোকসমাগম বেড়ে যায়।

 

 

 

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

প্রতিবন্ধী কার্ডের যাচাই-বাছাইয়ে ভোগান্তি : ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় ভুক্তভোগীরা

আপডেট : ০৭:৫৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

মতলব উত্তর উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী কার্ডের আবেদনের যাচাই-বাছাই করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।

সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রতিবন্ধী ও তাদের অভিভাবকদের ফোন করে জানানো হয়, যাচাই-বাছাই ও চিকিৎসক কর্তৃক শারীরিক পরীক্ষা সরাসরি উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করতে হবে। সেই অনুযায়ী অনেকেই সকাল সকাল অফিসে এসে পৌঁছান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও যাচাই-বাছাই শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিতরা।

দক্ষিণ রামপুর গ্রামের রেশমা খাতুন তার ৯ বছরের নাতনী ইভাকে নিয়ে সকাল ৯টায় আসেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে রোদে বসে আছি, কেউ ঠিকমতো জানায় না কবে ডাকবে। ছোট মেয়েটা কষ্টে আছে।
নেদামদী জামতলা গ্রামের মো. রাসেল (২৫) বলেন, আমাদের সময় মতো ডাকা হয়, কিন্তু অফিসারদের দেখা মিললো ১১টার পরে। এভাবে হয়রানি ঠিক না।
হাফানিয়া গ্রামের সাহেব আলী জানান, আমার ছেলে মনছুর আলমকে (২৩) নিয়ে সকালেই এসেছিলাম, ৫ ঘণ্টা পরও এখনো ভিতরে ঢুকতে পারছি না।
মোহনপুর গ্রামের মনির হোসেন (৫০) বলেন, প্রতিবন্ধীদের জন্য করা কার্যক্রমে যদি এমন হয়রানি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?
অভিযোগ ও ব্যাখ্যা মিলিয়ে দেখা যায়, পর্যাপ্ত জনবল ও স্থান সংকুলানের অভাবে মতলব উত্তরের সমাজসেবা কার্যালয়ের এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এমন কার্যক্রমে আরও শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা সঠিক সময়ে এসে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করেছি। উপজেলা হলরুম না পাওয়ায় অফিসে কাজ শুরু করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জনের যাচাই-বাছাই শেষ করেছি। একসঙ্গে অনেকেই চলে আসায় সামান্য জটিলতা তৈরি হয়েছে। একজন প্রতিবন্ধীর সঙ্গে ৩-৪ জন করে আসায় লোকসমাগম বেড়ে যায়।

 

 

 

আরকে/ সাইফ