দীর্ঘ ৫ বছর পূর্ব থেকে শুরু হয় পারিবারিক বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুকসহ নানান অভিযোগ তুলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বিজ্ঞ আদালতে করেন মামলা। আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে দুই শিশু কন্যা সন্তানকে রেখে চলে যায় সুখের ঠিকানায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের গৃহবধূ জোৎসা আক্তার। মায়ের অবর্তমানে পরম মায়া মমতা দিয়ে নিধারুন কষ্ট সহ্যকরে সন্তানদের আগলে রাখলেন পিতা ইকবাল হোসেন। ৫ বছর পূর্বের সেই শিশু সন্তানরা এখন বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ করে এখন এসে সন্তানদের দাবীতে সাবেক স্বামীর বাড়িতে এসে হট্টগোল করছেন পাষানী মা জোৎসা আক্তার। কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থা ছাড়া এ গৃহবধূর আগমনে জীবনের ঝুঁকি আর আতঙ্কে দিন কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের।
সরেজমিনে জানা যায়, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. ইকবাল হোসেনের সাথে প্রায় ১৫ বছর পূর্বে ইসলামী শরিয়াহ মতে ১ লক্ষ টাকা দেন মহরে নারায়নগঞ্জ জেলাধীন ফতুল্লা থানার ভূঁইগড় এলাকার শুক্কর আলীর মেয়ে জোৎসা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যা সন্তানের জনক-জননী তারা। গত ৫ বছর পূর্বে এ দম্পতির জীবনে শুরু হয় বিরোধ, গৃহবধূর অবাধ্য আচরণ, পরকিয়াসহ নানান কর্মকাণ্ডে শুরু হয় বিরোধের তীব্রতা। এক পর্যায়ে আদালতের মাধ্যমে ২০২১ সালে স্ত্রী জোৎসা কে তালাক দেন স্বামী ইকবাল হোসেন। সেই থেকে নিরুদ্দেশ স্ত্রী জোৎসা বেগম। গত ১৭ই অক্টোবর ২০২৫ হঠাৎ করে ইকবাল হোসেনের বাড়িতে এসে হাজির হন জোৎসা বেগম। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবারের লোকজন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একই ছাদের তলায় গত ৫-৬ দিন বসবাস করে আছেন পরিবারটি। জীবনে নিরাপত্তা চেয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেয়নি থানা পুলিশ। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি ইকবাল হোসেনের পরিবারের লোকজনের। বড় ধরনের অপৃতিকর ঘটনার আগে বিষয়টির সমাধান চান তারা।
স্ত্রী জোৎসা বেগম ও মো. ইকবাল হোসেন দম্পত্তির মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে ৬ ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মায়ের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ৫ বছর পূর্বে যখন আমার মায়ের প্রয়োজন ছিল, তখন মা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। এখন ৫ বছরপর আসছে আমাদের প্রতি দরদ দেখাতে। মায়ের কাছে আমরা নিরাপদ নই।
জোৎসা বেগম বলেন, আমি স্বামীর বাড়িতে থাকার জন্য আসিনি, এসেছি আমার সন্তানদের নিয়ে যেতে। আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এতো আইনের দোহাই দিয়েন না।
এদিকে প্রবাসে থাকা ইকবাল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমার কলিজার টুকরা সন্তানদের রেখে আমার স্ত্রী ৫ বছর পূর্বে যখন চলে যায়, অনেক চেষ্টা করেছি বিরোধ সমাধান করতে। সে উল্টো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও আদালতে নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছে। আমি তখন আইনকে সম্মান জানিয়েছি। কিন্তু জোৎসা বেগম বাদী হয়েও আদালতের সাথে প্রতারণা করেছে, তাই রায় আমার পক্ষে এসেছে। আদালতের মাধ্যমে আমি জোৎসা বেগমের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করেছি, যা আইনকানুনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সকল নিয়ম কানুন মেনে হয়েছে। এখন সে কোন অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য আমার বাড়িতে এসে সমস্যা সৃষ্টি করছে। আমি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিচার প্রার্থনা করছি। আমাদের পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কে আছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। জোৎসা বেগমমে বলেছি চলে যেতে, কিন্তু সে কাউকে তোয়াক্কা করছে না। তবে সে বেআইনীভাবে এ বাড়িতে অবস্থান করার কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করা যাচ্ছে, তাই বিষয়টি আইনানুগ ভাবে সমাধান করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এ.এস.আই) আরিফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















