ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জের বাকিলায় সরকারি গুদাম এখন ব্যক্তিগত কারখানা — প্রশাসন কি ঘুমিয়ে?

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের সরকারি খাদ্য গুদামটি কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মাসুদ। সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ব্যবসার কাজে ব্যবহার হলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পর্যন্ত বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি ওই খাদ্য গুদামটি এখন লেপ-তোষক ব্যবসার গুদামে রূপ নিয়েছে। গুদামের ভেতরে শত শত জুটের বস্তা ও তুলা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে লেপ-তোষকের জুট অটোরিকশায় করে আশপাশের বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে মাসুদ গুদামটি দখলে রেখেছেন। এলাকার মানুষ বহুবার বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

বাকিলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন,
“এটা তো সরকারি খাদ্য গুদাম। এখানে চাল, গম সংরক্ষণ হওয়ার কথা। কিন্তু এখন সেখানে বাণিজ্য চলছে। এটা প্রশাসনের চোখে পড়ে না কেন?”

 

দখলদার ব্যবসায়ী মাসুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আপনারা আমাদের সঙ্গে দেখা করুন।” তবে কীভাবে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করছেন বা এর অনুমতি কে দিয়েছেন—সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।

 

এ বিষয়ে বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন,
“কে এটা ব্যবহার করে, তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন সে কীভাবে ব্যবহার করে। আমি কোনো ভাড়া দেই না।”

 

চেয়ারম্যানের এমন উদাসীনতা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন—“চেয়ারম্যান না জানলে জানবে কে?”

 

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবলে আল জায়েদ হোসেন বলেন,
“সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সম্পদের এমন অপব্যবহার শুধু আইনের প্রতি অবজ্ঞাই নয়, এটি দুর্নীতিরও এক রূপ। দ্রুত তদন্ত ও দখলমুক্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরকে/ সাইফ

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জের বাকিলায় সরকারি গুদাম এখন ব্যক্তিগত কারখানা — প্রশাসন কি ঘুমিয়ে?

আপডেট : ১২:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের সরকারি খাদ্য গুদামটি কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মাসুদ। সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ব্যবসার কাজে ব্যবহার হলেও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পর্যন্ত বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি ওই খাদ্য গুদামটি এখন লেপ-তোষক ব্যবসার গুদামে রূপ নিয়েছে। গুদামের ভেতরে শত শত জুটের বস্তা ও তুলা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে লেপ-তোষকের জুট অটোরিকশায় করে আশপাশের বাজারে পাঠানো হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে মাসুদ গুদামটি দখলে রেখেছেন। এলাকার মানুষ বহুবার বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

বাকিলা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন,
“এটা তো সরকারি খাদ্য গুদাম। এখানে চাল, গম সংরক্ষণ হওয়ার কথা। কিন্তু এখন সেখানে বাণিজ্য চলছে। এটা প্রশাসনের চোখে পড়ে না কেন?”

 

দখলদার ব্যবসায়ী মাসুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“আপনারা আমাদের সঙ্গে দেখা করুন।” তবে কীভাবে সরকারি সম্পদ ব্যবহার করছেন বা এর অনুমতি কে দিয়েছেন—সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।

 

এ বিষয়ে বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন বলেন,
“কে এটা ব্যবহার করে, তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন সে কীভাবে ব্যবহার করে। আমি কোনো ভাড়া দেই না।”

 

চেয়ারম্যানের এমন উদাসীনতা নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন—“চেয়ারম্যান না জানলে জানবে কে?”

 

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবলে আল জায়েদ হোসেন বলেন,
“সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি সম্পদের এমন অপব্যবহার শুধু আইনের প্রতি অবজ্ঞাই নয়, এটি দুর্নীতিরও এক রূপ। দ্রুত তদন্ত ও দখলমুক্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরকে/ সাইফ