ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৩:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • 145

জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। একই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারিক প্যানেল রায়ের ৪৫৩ পৃষ্ঠার প্রথম অংশ পাঠ শুরু করেন বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার এবং অপর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন মামলার আইনজীবীরা এবং জুলাই–আগস্টে নিহতদের কয়েকটি পরিবারের সদস্য।

ট্রাইব্যুনাল জানায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত। এর মধ্যে একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করেছিল—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ছিলেন পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা এবং সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা।

 

মামলার বাকি দুই আসামি হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল,সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন এদের মধ্যে মামুনই ছিলেন একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি। পরে তিনি রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দেন।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে পূর্ববর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা দায়ের হয়।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর এই মামলার প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় এবং সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এ বছরের মার্চে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপিকে মামলায় যুক্ত করতে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

 

১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। সেগুলো হলো—

1. উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া

2. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ

3. রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাইদ হত্যা—উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সম্পৃক্ততা

4. গত বছরের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুলে গুলি করে ছয়জনকে হত্যা

5. আশুলিয়ায় মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা

 

মামলায় আন্দোলনকারীদের, আহত ব্যক্তি, চিকিৎসকসহ ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন।
শেখ হাসিনার অডিও–ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং জব্দকৃত গুলিও প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়।

১২ অক্টোবর যুক্তি–তর্ক শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

অবশেষে আজ রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ০৩:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। একই মামলায় দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারিক প্যানেল রায়ের ৪৫৩ পৃষ্ঠার প্রথম অংশ পাঠ শুরু করেন বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার এবং অপর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন মামলার আইনজীবীরা এবং জুলাই–আগস্টে নিহতদের কয়েকটি পরিবারের সদস্য।

ট্রাইব্যুনাল জানায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত। এর মধ্যে একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ করেছিল—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ছিলেন পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা এবং সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা।

 

মামলার বাকি দুই আসামি হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল,সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন এদের মধ্যে মামুনই ছিলেন একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি। পরে তিনি রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দেন।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে পূর্ববর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা দায়ের হয়।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর এই মামলার প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় এবং সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এ বছরের মার্চে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক আইজিপিকে মামলায় যুক্ত করতে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সময়কাল ধরা হয়েছে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত।

 

১০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। সেগুলো হলো—

1. উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া

2. হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ

3. রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাইদ হত্যা—উসকানি, ষড়যন্ত্র ও সম্পৃক্ততা

4. গত বছরের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুলে গুলি করে ছয়জনকে হত্যা

5. আশুলিয়ায় মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা

 

মামলায় আন্দোলনকারীদের, আহত ব্যক্তি, চিকিৎসকসহ ৫৪ জন সাক্ষ্য দেন।
শেখ হাসিনার অডিও–ভিডিও, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং জব্দকৃত গুলিও প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়।

১২ অক্টোবর যুক্তি–তর্ক শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

অবশেষে আজ রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।