ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জৌলুস ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনার পাড় ঘেঁষে একসময় দাঁড়িয়ে ছিল মোহনপুর পর্যটন লিমিটেড। শান্ত নদীর ঢেউ আর বাতাসে মিশে থাকা পাখির ডাক যেন প্রতিদিন নতুন করে আহ্বান জানাতো পর্যটকদের। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে মানুষ ছুটে আসতো এখানে প্রশান্তির খোঁজে।
২০২০ সালে প্রায় ৬০ একর জমির ওপর পর্যটন কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র। এখানকার নদীভ্রমণ, থিম পার্ক, কটেজ, দ্য সিপ ইন ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট মিলিয়ে মোহনপুর ছিল পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অভয়ারণ্য।
কিন্তু স্বপ্নের এই ঠিকানায় কালো ছায়া নামে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি। একদল দুষ্কৃতিকারী হামলা চালায় কেন্দ্রটির ওপর। মুহূর্তেই ভেঙে যায় কাঠামো, ছিন্নভিন্ন হয় বিনোদনের প্রাণ। কোটি টাকার অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে পড়ে স্তূপে স্তূপে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার হামলা চালানো হয়। আতঙ্কে পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেন, নিস্তব্ধ হয়ে যায় একদা মুখর সেই এলাকা।
সব হারিয়ে থেমে থাকেননি মোহনপুরের উদ্যোক্তারা। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই শুরু হয় নতুন করে দাঁড়ানোর লড়াই। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর যখন দেশে পরিবর্তনের হাওয়া বয়; তখনই নতুন করে সংস্কারের কাজ হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ। ধীরে ধীরে পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করে কেন্দ্রটি।
এখন মোহনপুরে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু নতুন আকর্ষণ। স্পিড বোট ও নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য থিম পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, ফুলের বাগান, সৌদি খেজুর গাছের বাগান এবং নদীপাড়ে পাথরের রাস্তা ধরে হাঁটার সৌন্দর্য।
মোহনপুরের এলাকার গোলাম মোর্তজা বলেন, ‘একটা সময় সারাদেশ থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসতো। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। এখন আবার সংস্কার চলছে, চালু হয়েছে ঠিকই কিন্তু আগের মতো কোলাহল আর নেই।’
অন্যদিকে পর্যটক মায়মুনা আক্তার, যিনি তৃতীয়বার এসেছেন মোহনপুরে। তিনি বলেন, ‘আগে পরিবার নিয়ে এখানে দারুণ সময় কাটতো। এখন অনেক জায়গা ভাঙাচোরা। তবে শুনেছি আবার চালু হয়েছে। খবর শুনেই চলে এলাম। পুরোনো দিনের মতো না হলেও এখানে এখনো সেই নদীর বাতাস আছে।’
মোহনপুর পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটা আমাদের একদল স্বপ্নবাজ মানুষের পরিশ্রমের ফসল। শুরুর পর থেকেই চ্যালেঞ্জ ছিল কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে হামলায় আমরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ি। এখন আর সেই কথা বলে লাভ নেই। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। ক্ষতি নিয়ে এখন আর কোনো কথা বলতে চাই না। এখন নতুন করে শুরু করেছি, ধীরে ধীরে সব ফিরিয়ে আনবো।’
তিনি যোগ করেন, ‘বর্তমানে ৮-১০ জন কর্মচারী পুরো কেন্দ্রটির দেখাশোনা করছেন। সংস্কারের জন্য বড় পরিসরে অর্থের প্রয়োজন। কেউ যদি পাশে আসেন, তবে মোহনপুরকে আবারও সেই পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনতে পারবো।’
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

জৌলুস ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে মোহনপুর পর্যটন কেন্দ্র

আপডেট : ০৫:১২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মেঘনার পাড় ঘেঁষে একসময় দাঁড়িয়ে ছিল মোহনপুর পর্যটন লিমিটেড। শান্ত নদীর ঢেউ আর বাতাসে মিশে থাকা পাখির ডাক যেন প্রতিদিন নতুন করে আহ্বান জানাতো পর্যটকদের। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে মানুষ ছুটে আসতো এখানে প্রশান্তির খোঁজে।
২০২০ সালে প্রায় ৬০ একর জমির ওপর পর্যটন কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র। এখানকার নদীভ্রমণ, থিম পার্ক, কটেজ, দ্য সিপ ইন ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্ট মিলিয়ে মোহনপুর ছিল পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অভয়ারণ্য।
কিন্তু স্বপ্নের এই ঠিকানায় কালো ছায়া নামে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি। একদল দুষ্কৃতিকারী হামলা চালায় কেন্দ্রটির ওপর। মুহূর্তেই ভেঙে যায় কাঠামো, ছিন্নভিন্ন হয় বিনোদনের প্রাণ। কোটি টাকার অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে পড়ে স্তূপে স্তূপে। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি আবার হামলা চালানো হয়। আতঙ্কে পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেন, নিস্তব্ধ হয়ে যায় একদা মুখর সেই এলাকা।
সব হারিয়ে থেমে থাকেননি মোহনপুরের উদ্যোক্তারা। ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই শুরু হয় নতুন করে দাঁড়ানোর লড়াই। ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর যখন দেশে পরিবর্তনের হাওয়া বয়; তখনই নতুন করে সংস্কারের কাজ হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ। ধীরে ধীরে পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করে কেন্দ্রটি।
এখন মোহনপুরে যুক্ত হয়েছে আরও কিছু নতুন আকর্ষণ। স্পিড বোট ও নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য থিম পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, ফুলের বাগান, সৌদি খেজুর গাছের বাগান এবং নদীপাড়ে পাথরের রাস্তা ধরে হাঁটার সৌন্দর্য।
মোহনপুরের এলাকার গোলাম মোর্তজা বলেন, ‘একটা সময় সারাদেশ থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসতো। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। এখন আবার সংস্কার চলছে, চালু হয়েছে ঠিকই কিন্তু আগের মতো কোলাহল আর নেই।’
অন্যদিকে পর্যটক মায়মুনা আক্তার, যিনি তৃতীয়বার এসেছেন মোহনপুরে। তিনি বলেন, ‘আগে পরিবার নিয়ে এখানে দারুণ সময় কাটতো। এখন অনেক জায়গা ভাঙাচোরা। তবে শুনেছি আবার চালু হয়েছে। খবর শুনেই চলে এলাম। পুরোনো দিনের মতো না হলেও এখানে এখনো সেই নদীর বাতাস আছে।’
মোহনপুর পর্যটনকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটা আমাদের একদল স্বপ্নবাজ মানুষের পরিশ্রমের ফসল। শুরুর পর থেকেই চ্যালেঞ্জ ছিল কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে হামলায় আমরা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ি। এখন আর সেই কথা বলে লাভ নেই। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। ক্ষতি নিয়ে এখন আর কোনো কথা বলতে চাই না। এখন নতুন করে শুরু করেছি, ধীরে ধীরে সব ফিরিয়ে আনবো।’
তিনি যোগ করেন, ‘বর্তমানে ৮-১০ জন কর্মচারী পুরো কেন্দ্রটির দেখাশোনা করছেন। সংস্কারের জন্য বড় পরিসরে অর্থের প্রয়োজন। কেউ যদি পাশে আসেন, তবে মোহনপুরকে আবারও সেই পুরোনো রূপে ফিরিয়ে আনতে পারবো।’