ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে আজ হানাদারমুক্ত দিবস: ৩৬ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের গৌরবগাঁথা

 

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ আজ ৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস পালন করছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত হয় পুরো হাজীগঞ্জ উপজেলা। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে এই এলাকার মানুষ পেয়েছিল স্বাধীনতার প্রথম আলো। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ত্যাগ ও বীরত্বের মধ্য দিয়ে হাজীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা লিখেছিলেন এক অনন্য ইতিহাস।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ৭ ডিসেম্বর লাকসাম ও মুদাফফরগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর যৌথ বাহিনী চাঁদপুর-মুন্সিরহাট হয়ে হাজীগঞ্জের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা হাজীগঞ্জ হয়ে চাঁদপুরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পাকিস্তানি সেনারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এলাকার কৌশলগত গুরুত্বের কারণে হানাদাররা এখানে শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, যা যৌথ বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি চাপা উত্তেজনায় রূপ নিলে ভারতের মাউন্টেন ব্রিগেড এবং ইস্টার্ন সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা যৌথভাবে আক্রমণে যোগ দেয়। হাজীগঞ্জ-চাঁদপুর মহাসড়ক, আশপাশের গ্রামাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি। প্রায় ৩৬ ঘণ্টাব্যাপী এই যুদ্ধ ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কঠিন ও সংঘাতপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি।

যুদ্ধের প্রতিটি ঘণ্টা অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনী ক্রমেই দুর্বল হতে থাকে। যৌথ বাহিনীর সুসমন্বিত আক্রমণ, রণকৌশল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য মনোবলের মুখে হানাদাররা দিশেহারা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাকিস্তানের ৩৯ অস্থায়ী ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসার মেজর জেনারেল রহিম খান তাঁর সেনাদের নিয়ে চাঁদপুর হয়ে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

এই পিছু হটা ছিল হাজীগঞ্জের স্বাধীনতার সংকেত। ৮ ডিসেম্বর সকালে নিশ্চিত হয় হাজীগঞ্জ হানাদারমুক্ত হওয়ার ঘোষণা। বহু শহীদের রক্তে রঙিন সেই বিজয়ের দিনে সৃষ্টি হয় এক নতুন অধ্যায়, যা আজও গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করে এই অঞ্চলের মানুষ।

হাজীগঞ্জের মুক্তি কেবল একটি ভূখণ্ডের মুক্তি ছিল না, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা, তাদের সাহস, ত্যাগ এবং যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অসামান্য অবদান রেখে গেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জে আজ হানাদারমুক্ত দিবস: ৩৬ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের গৌরবগাঁথা

আপডেট : ১১:৩৩:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

 

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ আজ ৮ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস পালন করছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত হয় পুরো হাজীগঞ্জ উপজেলা। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে এই এলাকার মানুষ পেয়েছিল স্বাধীনতার প্রথম আলো। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ত্যাগ ও বীরত্বের মধ্য দিয়ে হাজীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা লিখেছিলেন এক অনন্য ইতিহাস।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ৭ ডিসেম্বর লাকসাম ও মুদাফফরগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর যৌথ বাহিনী চাঁদপুর-মুন্সিরহাট হয়ে হাজীগঞ্জের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা হাজীগঞ্জ হয়ে চাঁদপুরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পাকিস্তানি সেনারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এলাকার কৌশলগত গুরুত্বের কারণে হানাদাররা এখানে শক্ত ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, যা যৌথ বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি চাপা উত্তেজনায় রূপ নিলে ভারতের মাউন্টেন ব্রিগেড এবং ইস্টার্ন সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা যৌথভাবে আক্রমণে যোগ দেয়। হাজীগঞ্জ-চাঁদপুর মহাসড়ক, আশপাশের গ্রামাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি। প্রায় ৩৬ ঘণ্টাব্যাপী এই যুদ্ধ ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কঠিন ও সংঘাতপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি।

যুদ্ধের প্রতিটি ঘণ্টা অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনী ক্রমেই দুর্বল হতে থাকে। যৌথ বাহিনীর সুসমন্বিত আক্রমণ, রণকৌশল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য মনোবলের মুখে হানাদাররা দিশেহারা হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাকিস্তানের ৩৯ অস্থায়ী ডিভিশনের কমান্ডিং অফিসার মেজর জেনারেল রহিম খান তাঁর সেনাদের নিয়ে চাঁদপুর হয়ে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

এই পিছু হটা ছিল হাজীগঞ্জের স্বাধীনতার সংকেত। ৮ ডিসেম্বর সকালে নিশ্চিত হয় হাজীগঞ্জ হানাদারমুক্ত হওয়ার ঘোষণা। বহু শহীদের রক্তে রঙিন সেই বিজয়ের দিনে সৃষ্টি হয় এক নতুন অধ্যায়, যা আজও গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করে এই অঞ্চলের মানুষ।

হাজীগঞ্জের মুক্তি কেবল একটি ভূখণ্ডের মুক্তি ছিল না, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা, তাদের সাহস, ত্যাগ এবং যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অসামান্য অবদান রেখে গেছে।