ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাকিলায় কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: কোথায় রাস্তা হয়েছে জানেন প্রকল্পের সভাপতি ! বরাদ্দের চাল তুললো কে?

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ—অস্তিত্বহীন “মজুমদার বাড়ির রাস্তা” দেখিয়ে কাগজকলমে প্রকল্প দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো কাজই হয়নি। বরাদ্দের সাড়ে ৯ টন চালের সরকারি মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হলেও চেয়ারম্যানের দাবি কাজ হয়েছে। সরজমিনে গিয়র মাত্র ১০–১৫ হাজার টাকার কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে “বাকিলা রেললাইন থেকে মজুমদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার” শীর্ষক প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৯ টন ৬১৮ কেজি চাল। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় “মজুমদার বাড়ি” নামে কোনো সড়ক নেই। স্থানীয়দের কেউই এমন কোনো বাড়ি বা রাস্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেন না।

চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান দাবি করেছেন—বিসমিল্লাহ কফি হাউসের পাশে মজুমদার বাড়িতে ওই কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই এলাকায় বা আশেপাশে “মজুমদার বাড়ি” নামের কোনো বাড়িই নেই। শুধু রেললাইনের পাশে কালো মিয়ার পরিবার বংশপরিচয়ে মজুমদার হলেও তারা জানিয়েছেন, তাদের রাস্তায় কখনো সরকারি অর্থে কোনো প্রকল্প হয়নি।

বাসিন্দা খুকি বেগম বলেন, “আমাদের রাস্তায় কোনোদিন সরকারি কাজ হয়নি। আমরা নিজেরা টাকা দিয়ে যা করি তাই করি।”
উল্লেখিত স্থানের পাশে দুই পরিবার—রেদওয়ান মিজি ও জসিম মিজি—বসবাস করেন। তারা জানান, গত বছর তাদের বাড়ির ছোট একটি রাস্তায় অল্প কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল।

রেদওয়ান মিজি বলেন, “আমরা নিজের টাকায় রাস্তা করি। চেয়ারম্যান-মেম্বার খুব অল্প কিছু মাটি ফালাইছে। প্রথম দিন ১১ জন ৫ ঘণ্টা, পরদিন ৫ জন, আরেকদিন ২ জন কাজ করছে। সব মিলিয়ে ৯৫ ঘণ্টা কাজ—সাড়ে ৯ হাজার টাকার মতো কাজ করিছে।”

তাদের মতে, রাস্তাটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৭০–৮০ ফুট। সেখানে প্রকল্পের সাড়ে ৯ টন চালের বরাদ্দ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন— “অস্তিত্বহীন মজুমদার বাড়ি দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া অর্থ কোথায় গেল? আর মজুমদার বাড়ির প্রকল্পের টাকা দিয়ে কি মিজি বাড়ির অল্প কিছু মাটি ফেলা যায়?”

এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য নার্গিস বেগম বলেন, “আমি প্রকল্প কোথায় হয়েছে জানি না। আমাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। শুধু পিআইও অফিসে গিয়ে সাইন করেছি।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, প্রকল্পের কোথাও সাইনবোর্ড টানানো হয়নি—যা ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করার অংশ হতে পারে।

চেয়ারম্যান মিজান বলেন, “মাটি কাটা হয়েছে।” কিন্তু প্রতিবেদকের সরেজমিন পরিদর্শনে কাগজের সাথে মাঠপর্যায়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশেকুর রহমান বলেন, “ফাইল দেখে বিষয়টি যাচাই করব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

উল্লেখ্য: বরাদ্দকৃত ৯ টন ৬১৮ কেজি চালের সরকারি মূল্য ≃ ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। মাঠপর্যায়ের কাজের মূল্য ≃ ৯–১০ হাজার টাকা। ফলে প্রকল্পের বাকি অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে—এমন প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বাকিলায় কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: কোথায় রাস্তা হয়েছে জানেন প্রকল্পের সভাপতি ! বরাদ্দের চাল তুললো কে?

আপডেট : ০৭:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ—অস্তিত্বহীন “মজুমদার বাড়ির রাস্তা” দেখিয়ে কাগজকলমে প্রকল্প দেখানো হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো কাজই হয়নি। বরাদ্দের সাড়ে ৯ টন চালের সরকারি মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা হলেও চেয়ারম্যানের দাবি কাজ হয়েছে। সরজমিনে গিয়র মাত্র ১০–১৫ হাজার টাকার কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে “বাকিলা রেললাইন থেকে মজুমদার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার” শীর্ষক প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৯ টন ৬১৮ কেজি চাল। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় “মজুমদার বাড়ি” নামে কোনো সড়ক নেই। স্থানীয়দের কেউই এমন কোনো বাড়ি বা রাস্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানেন না।

চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান দাবি করেছেন—বিসমিল্লাহ কফি হাউসের পাশে মজুমদার বাড়িতে ওই কাজ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই এলাকায় বা আশেপাশে “মজুমদার বাড়ি” নামের কোনো বাড়িই নেই। শুধু রেললাইনের পাশে কালো মিয়ার পরিবার বংশপরিচয়ে মজুমদার হলেও তারা জানিয়েছেন, তাদের রাস্তায় কখনো সরকারি অর্থে কোনো প্রকল্প হয়নি।

বাসিন্দা খুকি বেগম বলেন, “আমাদের রাস্তায় কোনোদিন সরকারি কাজ হয়নি। আমরা নিজেরা টাকা দিয়ে যা করি তাই করি।”
উল্লেখিত স্থানের পাশে দুই পরিবার—রেদওয়ান মিজি ও জসিম মিজি—বসবাস করেন। তারা জানান, গত বছর তাদের বাড়ির ছোট একটি রাস্তায় অল্প কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল।

রেদওয়ান মিজি বলেন, “আমরা নিজের টাকায় রাস্তা করি। চেয়ারম্যান-মেম্বার খুব অল্প কিছু মাটি ফালাইছে। প্রথম দিন ১১ জন ৫ ঘণ্টা, পরদিন ৫ জন, আরেকদিন ২ জন কাজ করছে। সব মিলিয়ে ৯৫ ঘণ্টা কাজ—সাড়ে ৯ হাজার টাকার মতো কাজ করিছে।”

তাদের মতে, রাস্তাটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৭০–৮০ ফুট। সেখানে প্রকল্পের সাড়ে ৯ টন চালের বরাদ্দ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন— “অস্তিত্বহীন মজুমদার বাড়ি দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া অর্থ কোথায় গেল? আর মজুমদার বাড়ির প্রকল্পের টাকা দিয়ে কি মিজি বাড়ির অল্প কিছু মাটি ফেলা যায়?”

এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য নার্গিস বেগম বলেন, “আমি প্রকল্প কোথায় হয়েছে জানি না। আমাকে কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। শুধু পিআইও অফিসে গিয়ে সাইন করেছি।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, প্রকল্পের কোথাও সাইনবোর্ড টানানো হয়নি—যা ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করার অংশ হতে পারে।

চেয়ারম্যান মিজান বলেন, “মাটি কাটা হয়েছে।” কিন্তু প্রতিবেদকের সরেজমিন পরিদর্শনে কাগজের সাথে মাঠপর্যায়ের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আশেকুর রহমান বলেন, “ফাইল দেখে বিষয়টি যাচাই করব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

উল্লেখ্য: বরাদ্দকৃত ৯ টন ৬১৮ কেজি চালের সরকারি মূল্য ≃ ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। মাঠপর্যায়ের কাজের মূল্য ≃ ৯–১০ হাজার টাকা। ফলে প্রকল্পের বাকি অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে—এমন প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।