ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন পেলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির কাসেমী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলা) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে জমিয়তের প্রার্থীকেই সমর্থন দিচ্ছে দলটি। ফলে এ আসনে বিএনপি নিজেদের কোনো প্রার্থী দেবে না।
অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সমঝোতা হওয়া চারটি আসন ছাড়া বাকি সব আসনে বিএনপির প্রার্থীদের জন্য তারা নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন। দলটির সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলা) আসন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এই আসনটিতে একচেটিয়া কর্তৃত্ব ছিল এ কে এম শামীম ওসমানের। তবে সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে স্বপরিবারে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি। ফলে এবারের নির্বাচনে আসনটিতে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। কিন্তু দলটির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও সকল জল্পনা-কল্পনার অনসান ঘটিয়ে অবশেসে দলটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য দলগুলোতে রয়েছে একক প্রার্থী।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় থাকা ফতুল্লার এনায়েতনগর, বক্তাবলী, কাশীপুর, কুতুবপুর, গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৫, যা জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আসনটিতে ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে আবদুস সাত্তার, ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সিরাজুল ইসলাম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মোহাম্মদ আলী, ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে শামীম ওসমান, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী জয়লাভ করেন। এরপর ২০১৪ সাল থেকে টানা ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই আসন দখলে রাখেন আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ২০ দলীয় জোটের উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০০৮ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ শাহ আলম আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ২ হাজার ১০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন পেলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির কাসেমী

আপডেট : ০৮:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলা) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে জমিয়তের প্রার্থীকেই সমর্থন দিচ্ছে দলটি। ফলে এ আসনে বিএনপি নিজেদের কোনো প্রার্থী দেবে না।
অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সমঝোতা হওয়া চারটি আসন ছাড়া বাকি সব আসনে বিএনপির প্রার্থীদের জন্য তারা নিজেদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন। দলটির সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলা) আসন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে এই আসনটিতে একচেটিয়া কর্তৃত্ব ছিল এ কে এম শামীম ওসমানের। তবে সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে স্বপরিবারে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি। ফলে এবারের নির্বাচনে আসনটিতে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। কিন্তু দলটির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও সকল জল্পনা-কল্পনার অনসান ঘটিয়ে অবশেসে দলটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য দলগুলোতে রয়েছে একক প্রার্থী।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় থাকা ফতুল্লার এনায়েতনগর, বক্তাবলী, কাশীপুর, কুতুবপুর, গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৫, যা জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আসনটিতে ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে আবদুস সাত্তার, ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সিরাজুল ইসলাম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মোহাম্মদ আলী, ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে শামীম ওসমান, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী জয়লাভ করেন। এরপর ২০১৪ সাল থেকে টানা ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই আসন দখলে রাখেন আওয়ামী লীগের শামীম ওসমান।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি থেকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ২০ দলীয় জোটের উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এর আগে ২০০৮ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ শাহ আলম আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ২ হাজার ১০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।