হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং বড়কূল ইউনিয়নের এন্নাতলী উত্তরপাড়ায় সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঈদগাঁও থেকে উত্তর বড়কূলের খোরশেদের দোকান পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২৩০ মিটার দীর্ঘ সড়কে কার্পেটিং কাজ চলমান থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এন্নাতলীর মঞ্জু মুন্সীর দোকানের সামনে সড়ক নির্মাণের জন্য রাখা ইট অত্যন্ত নিম্নমানের। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইট হাতে ধরলেই ভেঙে যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও একই সড়কের পাশে নির্মাণাধীন গাইডওয়াল নির্মাণে চরম অনিয়ম করা হয়েছে। গাইডওয়ালে পর্যাপ্ত সিমেন্ট ব্যবহার না করে ইট বসানো হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী মাটির নিচে অন্তত এক ফুট গভীর ভিত্তি নির্মাণ করা হয়নি। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে একাধিকবার স্থানীয়রা বাধা দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যায়।
উপজেলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উত্তর বড়কূল খোরশেদের দোকান থেকে এন্নাতলী উত্তরপাড়া ঈদগাহ সড়কের ১ হাজার ২৩০ মিটার কার্পেটিং উন্নয়ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ৫৩২ টাকা। একই সড়কের ২৯০ মিটার রক্ষণাবেক্ষণ কাজে বরাদ্দ রয়েছে ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮১ টাকা। এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হলো মেসার্স এম আই ট্রেডিং।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “এন্নাতলীর এই রাস্তাটি আমাদের স্বপ্নের রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্ণা দিয়েছি। অবশেষে কাজ শুরু হলেও এখন যদি নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই রাস্তা কখনোই টেকসই হবে না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার সুযোগ নিয়েই ঠিকাদার এসব অনিয়ম করছে। একাধিকবার অনিয়মের বিষয় জানানো হলেও তিনি মৌখিক আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। তবে অভিযোগের পরও তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের গাইডওয়াল নির্মাণেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ৬নং বড়কূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি এবং উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।”
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয়রা বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে। ঠিকাদারকে নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




















