ঢাকা ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেয়ামতের আগে দাজ্জাল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করবে: আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী

 

 

কেয়ামতের আগে দাজ্জাল মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য জান্নাতের টিকিট বিক্রি করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, আওলাদে রাসূল (দ.), আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আল আবেদী।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ধেররা এলাকায় অবস্থিত ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফে বিশ্ববিখ্যাত ওলিয়ে কামেল, আওলাদে রাসূল (দ.) আল্লামা সৈয়দ আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) প্রতিষ্ঠিত ৬২তম ওরছে নববী (দ.) ও সুন্নী মহাসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাদীস শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লামা বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী বলেন,
“দাজ্জাল এক হাতে জান্নাত এবং অন্য হাতে জাহান্নাম প্রদর্শন করবে। কিন্তু যা দেখতে জান্নাত মনে হবে, প্রকৃতপক্ষে সেটিই হবে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ড।” তিনি মুসলমানদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে কোরআন-সুন্নাহ ও আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান।

সমসাময়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, প্রতারণা ও জুলুম ছড়িয়ে পড়েছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে রাসূলে পাক ﷺ-এর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ রাজনীতিকে ধর্মের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, আবার কেউ ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানাচ্ছে। এর ফলে ইসলামের প্রকৃত শক্তি সুফিবাদ ও সুন্নীয়্যত আড়ালে চলে যাচ্ছে। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সুন্নীয়্যতের বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা কেউ ভাবছে না।

জানা যায়, কাইউমে জামান, মুজাদ্দিদে জামান, ইমামে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত হযরত আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে আগমন করে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর হাত ধরেই দেশে ওরছে নববী (দ.) উদযাপনের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব ও মোনাজাত পরিচালনা করেন— ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আল আবেদী।

ওরছের সঞ্চালনায় ছিলেন—খলিফা মুফতী আবুল হাশেম শাহ্ মিয়াজী আল আবেদী, মাদরাসায়ে আবেদীয়া মোজাদ্দেদীয়ার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ আলী নকশবন্দী।

অনুষ্ঠানে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আলোচনা করেন— মাওলানা আবু সুফিয়ান খাঁন আবেদী আল কাদেরী, আল্লামা মোশাররফ হোসেন হেলালী, মুফতী আলাউদ্দিন জিহাদী, মুফতী শহীদুল্লাহ বাহাদুর, মাওলানা মোঃ মনির হোসাইন মোজাদ্দেদীসহ দেশবরেণ্য অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ।

প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রবাস থেকে লাখো মুসল্লী ও ভক্তবৃন্দ ওরছে নববীতে অংশগ্রহণ করেন, যা এক বিশাল ধর্মীয় মিলনমেলায় রূপ নেয়।

ওরছ উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়—খতমে কোরআন,খতমে খাজেগান,খতমে গাউছিয়া,নসীহতমূলক আলোচনা,রওজা শরীফে গিলাফ চাদর প্রদান, রাতব্যাপী আলোচনা শেষে ফজরের নামাজের পর বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাতের পূর্বে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ কমপ্লেক্সের দ্বীনী প্রতিষ্ঠান হযরত খাজা বেগম উম্মে কুলসুম (রহ.) হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ১২ জন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ হাফেজ হওয়ায় তাদের পাগড়ি, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষে দরবার শরীফের বড় সাহেবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ আলমগীর শাহ্ মোজাদ্দেদী, ছোট সাহেবজাদা সৈয়দ মাহমুদ শাহ্ মোজাদ্দেদীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আগত মুসল্লী, ভক্ত ও মুরিদান-মুহীব্বানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

কেয়ামতের আগে দাজ্জাল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করবে: আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী

আপডেট : ০৮:২৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

কেয়ামতের আগে দাজ্জাল মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য জান্নাতের টিকিট বিক্রি করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান, আওলাদে রাসূল (দ.), আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আল আবেদী।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভার ধেররা এলাকায় অবস্থিত ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফে বিশ্ববিখ্যাত ওলিয়ে কামেল, আওলাদে রাসূল (দ.) আল্লামা সৈয়দ আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) প্রতিষ্ঠিত ৬২তম ওরছে নববী (দ.) ও সুন্নী মহাসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাদীস শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লামা বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী বলেন,
“দাজ্জাল এক হাতে জান্নাত এবং অন্য হাতে জাহান্নাম প্রদর্শন করবে। কিন্তু যা দেখতে জান্নাত মনে হবে, প্রকৃতপক্ষে সেটিই হবে জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ড।” তিনি মুসলমানদেরকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে কোরআন-সুন্নাহ ও আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের পথ অনুসরণের আহ্বান জানান।

সমসাময়িক রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি, প্রতারণা ও জুলুম ছড়িয়ে পড়েছে। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে রাসূলে পাক ﷺ-এর আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কেউ রাজনীতিকে ধর্মের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, আবার কেউ ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার বানাচ্ছে। এর ফলে ইসলামের প্রকৃত শক্তি সুফিবাদ ও সুন্নীয়্যত আড়ালে চলে যাচ্ছে। কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক সুন্নীয়্যতের বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা কেউ ভাবছে না।

জানা যায়, কাইউমে জামান, মুজাদ্দিদে জামান, ইমামে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত হযরত আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেদী আল মাদানী (রা.) বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যে আগমন করে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর হাত ধরেই দেশে ওরছে নববী (দ.) উদযাপনের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

বিকেল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব ও মোনাজাত পরিচালনা করেন— ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী আল আবেদী।

ওরছের সঞ্চালনায় ছিলেন—খলিফা মুফতী আবুল হাশেম শাহ্ মিয়াজী আল আবেদী, মাদরাসায়ে আবেদীয়া মোজাদ্দেদীয়ার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ আলী নকশবন্দী।

অনুষ্ঠানে কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক আলোচনা করেন— মাওলানা আবু সুফিয়ান খাঁন আবেদী আল কাদেরী, আল্লামা মোশাররফ হোসেন হেলালী, মুফতী আলাউদ্দিন জিহাদী, মুফতী শহীদুল্লাহ বাহাদুর, মাওলানা মোঃ মনির হোসাইন মোজাদ্দেদীসহ দেশবরেণ্য অসংখ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখগণ।

প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রবাস থেকে লাখো মুসল্লী ও ভক্তবৃন্দ ওরছে নববীতে অংশগ্রহণ করেন, যা এক বিশাল ধর্মীয় মিলনমেলায় রূপ নেয়।

ওরছ উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়—খতমে কোরআন,খতমে খাজেগান,খতমে গাউছিয়া,নসীহতমূলক আলোচনা,রওজা শরীফে গিলাফ চাদর প্রদান, রাতব্যাপী আলোচনা শেষে ফজরের নামাজের পর বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাতের পূর্বে ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ কমপ্লেক্সের দ্বীনী প্রতিষ্ঠান হযরত খাজা বেগম উম্মে কুলসুম (রহ.) হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ১২ জন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ হাফেজ হওয়ায় তাদের পাগড়ি, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।

এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষে দরবার শরীফের বড় সাহেবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ আলমগীর শাহ্ মোজাদ্দেদী, ছোট সাহেবজাদা সৈয়দ মাহমুদ শাহ্ মোজাদ্দেদীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই আগত মুসল্লী, ভক্ত ও মুরিদান-মুহীব্বানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।