ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জের মৈশামুড়ায় সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে তরুণীর উপর নৃশংস হামলা, স্বর্ণালংকার ছিনতাই

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ১০:২৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • 305

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ ও তার মেয়ের উপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তরুণী গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধব্যপুর (উত্তর) ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মৈশামুড়া এলাকার ইয়াছিন বেপারীবাড়ীতে।

আহত গৃহবধূ বিউটি বেগম (৫০) জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার দেবর আক্তার হোসেন (৫৫) ও জা কাজল বেগম (৪০)-এর সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। পূর্ব বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার দখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তাকে লাঠি, কিল ও ঘুষি দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে আক্তার হোসেন তার পরনের কাপড় ও মাথার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন।

এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার মেয়ে আখী আক্তার (২০)-কে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আক্তার হোসেন ধারালো দা দিয়ে আখী আক্তারের মাথার বাম পাশে কোপ দিলে মাথার হাড় কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে চিকিৎসকরা তার মাথায় চারটি সেলাই দেন।

এছাড়া কাজল বেগম আখী আক্তারের গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন এবং তার গলায় থাকা ১৭ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগীদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আখী আক্তারকে সিএনজি যোগে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছেন, এ ঘটনায় মামলা করলে পুনরায় হামলা চালিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে।

চিকিৎসাজনিত কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও পরে হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার হোসেন বলেন, “সে আগে আমার উপর হামলা করেছে। পরে আমি আত্মরক্ষার্থে বাঁশ দিয়ে আঘাত করেছি।”

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল জব্বার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হাজীগঞ্জের মৈশামুড়ায় সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে তরুণীর উপর নৃশংস হামলা, স্বর্ণালংকার ছিনতাই

আপডেট : ১০:২৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ ও তার মেয়ের উপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তরুণী গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার সময় শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৯নং গন্ধব্যপুর (উত্তর) ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মৈশামুড়া এলাকার ইয়াছিন বেপারীবাড়ীতে।

আহত গৃহবধূ বিউটি বেগম (৫০) জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার দেবর আক্তার হোসেন (৫৫) ও জা কাজল বেগম (৪০)-এর সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। পূর্ব বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার দখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তাকে লাঠি, কিল ও ঘুষি দিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে আক্তার হোসেন তার পরনের কাপড় ও মাথার চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন।

এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার মেয়ে আখী আক্তার (২০)-কে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আক্তার হোসেন ধারালো দা দিয়ে আখী আক্তারের মাথার বাম পাশে কোপ দিলে মাথার হাড় কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে চিকিৎসকরা তার মাথায় চারটি সেলাই দেন।

এছাড়া কাজল বেগম আখী আক্তারের গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন এবং তার গলায় থাকা ১৭ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগীদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত আখী আক্তারকে সিএনজি যোগে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার আরও অভিযোগ করে জানায়, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছেন, এ ঘটনায় মামলা করলে পুনরায় হামলা চালিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে।

চিকিৎসাজনিত কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও পরে হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার হোসেন বলেন, “সে আগে আমার উপর হামলা করেছে। পরে আমি আত্মরক্ষার্থে বাঁশ দিয়ে আঘাত করেছি।”

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল জব্বার বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”