ঢাকা ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেলে পরিবারে ঈদ আনন্দ নিয়ে সংশয়

জাটকা সংরক্ষণে চলছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। তাই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ। এতে জেলেরা কর্মহীন হয়ে বেকার সময় পার করছেন। তারমধ্যে কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। আয়ের পথ বন্ধ থাকায় এই ঈদে পরিবারের মুখে হাসি ফুটানো নিয়ে এখনই জেলে এবং তাদের পরিবারে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ।

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন জেলের সংখ্যা অর্ধলক্ষ। তারমধ্যে জেলে নৌকাতে মজুরি দেন, প্রান্তিক এমন জেলের সংখ্যা ৩০ হাজার।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিভিন্ন জেলে পল্লী ঘুরে দেখা যায়, খালে অলস পড়ে আছে সারি সারি মাছ ধরার নৌকা। এসব নৌকা নদীতে নামতে মানা। কারণ, চলছে জাটকা সংরক্ষণে ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা। এরমধ্যে পেরিয়েছে এক মাস। সামনে রয়েছে আরও এক মাস। ফলে মাছ ধরতে না পেরে কর্মহীন জেলেরা। মাছ ধরা যাবে না। তাই নদীপাড়ে বসে নীরব চাহনি তাদের।

জেলার মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত সেই একই চিত্র। শুধু তাই নয়, নদীপাড়ের জেলেপল্লীতেও সুনশান নিরবতা। আয় বন্ধ থাকায় প্রান্তিক জেলে পরিবারগুলোতে অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। চুলোতে হাড়ি, কিন্তু তাতে নেই জৌলুস। তার ওপর ধারদেনায় কোনো মতে দিন কাটছে তাদের।

এখলাছপুর জেলেপল্লীর গৃহবধূ রোকেয়া বেগমের কপালে এখন দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ। সামনে ঈদুল ফিতর। এতে চাই পরিবারে নতুন পোশাক আর ভালো খাবার।  কিন্তু চাহিদা থাকলেও সামর্থ্য নেই তাদের।

গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত একমাস আমাদের পরিবারের কোনো আয় নেই। আমার স্বামী বাড়িতে বসে বেকার সময় পার করছেন। আমরা তো দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ। এতদিন পরিবারের একমাত্র মানুষ উপার্জনক্ষম মানুষ কর্মহীন হয়ে বসে থাকলে তো না খেয়ে মরতে হবে।

শুধু তাই নয়, তাদের শিশু সন্তানরাও মুখিয়ে আছে ঈদে নতুন পোশাকের জন্য। কিন্তু আয়ের পথবন্ধ। তাই নতুন পোশাকের সঙ্গে ভালো খাবারও মিলবে কী না, এই সংশয় চোখে ও মুখে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার কারণে দুমাসের জন্য বেকার হয়ে পড়া প্রান্তিক জেলেদের দুর্ভোগের যেনো কমতি নেই। তারমধ্যে ঈদ আনন্দ সমাগত। তাই এসব জেলে এবং তাদের পরিবারের প্রতি সরকারের সদয় হওয়ার আহ্বান জানান জেলে প্রতিনিধি ইমাম হোসেন।

অন্যদিকে, সরকারি প্রণোদনার চাল দেওয়া হলেও তার সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপনে জেলেদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আরেকটু মানবিক সহায়তার দাবি জানান মতলব উত্তরের এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

জেলে পরিবারে ঈদ আনন্দ নিয়ে সংশয়

আপডেট : ০৯:৪০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

জাটকা সংরক্ষণে চলছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। তাই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ। এতে জেলেরা কর্মহীন হয়ে বেকার সময় পার করছেন। তারমধ্যে কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। আয়ের পথ বন্ধ থাকায় এই ঈদে পরিবারের মুখে হাসি ফুটানো নিয়ে এখনই জেলে এবং তাদের পরিবারে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ।

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন জেলের সংখ্যা অর্ধলক্ষ। তারমধ্যে জেলে নৌকাতে মজুরি দেন, প্রান্তিক এমন জেলের সংখ্যা ৩০ হাজার।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিভিন্ন জেলে পল্লী ঘুরে দেখা যায়, খালে অলস পড়ে আছে সারি সারি মাছ ধরার নৌকা। এসব নৌকা নদীতে নামতে মানা। কারণ, চলছে জাটকা সংরক্ষণে ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা। এরমধ্যে পেরিয়েছে এক মাস। সামনে রয়েছে আরও এক মাস। ফলে মাছ ধরতে না পেরে কর্মহীন জেলেরা। মাছ ধরা যাবে না। তাই নদীপাড়ে বসে নীরব চাহনি তাদের।

জেলার মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত সেই একই চিত্র। শুধু তাই নয়, নদীপাড়ের জেলেপল্লীতেও সুনশান নিরবতা। আয় বন্ধ থাকায় প্রান্তিক জেলে পরিবারগুলোতে অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। চুলোতে হাড়ি, কিন্তু তাতে নেই জৌলুস। তার ওপর ধারদেনায় কোনো মতে দিন কাটছে তাদের।

এখলাছপুর জেলেপল্লীর গৃহবধূ রোকেয়া বেগমের কপালে এখন দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ। সামনে ঈদুল ফিতর। এতে চাই পরিবারে নতুন পোশাক আর ভালো খাবার।  কিন্তু চাহিদা থাকলেও সামর্থ্য নেই তাদের।

গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত একমাস আমাদের পরিবারের কোনো আয় নেই। আমার স্বামী বাড়িতে বসে বেকার সময় পার করছেন। আমরা তো দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষ। এতদিন পরিবারের একমাত্র মানুষ উপার্জনক্ষম মানুষ কর্মহীন হয়ে বসে থাকলে তো না খেয়ে মরতে হবে।

শুধু তাই নয়, তাদের শিশু সন্তানরাও মুখিয়ে আছে ঈদে নতুন পোশাকের জন্য। কিন্তু আয়ের পথবন্ধ। তাই নতুন পোশাকের সঙ্গে ভালো খাবারও মিলবে কী না, এই সংশয় চোখে ও মুখে।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার কারণে দুমাসের জন্য বেকার হয়ে পড়া প্রান্তিক জেলেদের দুর্ভোগের যেনো কমতি নেই। তারমধ্যে ঈদ আনন্দ সমাগত। তাই এসব জেলে এবং তাদের পরিবারের প্রতি সরকারের সদয় হওয়ার আহ্বান জানান জেলে প্রতিনিধি ইমাম হোসেন।

অন্যদিকে, সরকারি প্রণোদনার চাল দেওয়া হলেও তার সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপনে জেলেদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আরেকটু মানবিক সহায়তার দাবি জানান মতলব উত্তরের এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী।