ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিগত দিনে শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে : খাদ্য সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠান।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মুক্ত আকাশে কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে উক্ত বিদ্যালয়ের ১৯৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল বাশার এবং ১৯৯১ ব্যাচের শিক্ষার্থী জিসান আহাম্মেদ রুবেল-এর প্রাণবন্ত যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার।
তিনি শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। খাদ্য সচিব বলেন, একজন উন্নত বিত্তশালী মানুষ না হয়ে একজন ভালো মানুষ হওয়া জরুরী। আমাদের সেই ছাত্রজীবনের কথা মনে পড়ে, তখনকার শিক্ষকরা ছিলেন খুবই শাসনপরায়ণ। আমাদের অনেক শাসন করতেন। এখনকার ছাত্রদের শাসন করা যায় না। অথচ তখন আমাদের কাছ থেকে পড়ালেখা আদায় করে নিতেন শিক্ষাগুরুরা। আজ প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে সেই ছাত্রজীবনের কথা মনে পড়ে গেল।
ফিরোজ সরকার আরো বলেন, বিগত দিনে শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া আরো বিকল্প তেমন কিছুই নেই। আমি প্রতিটি শিক্ষককে অনুরোধ করবো যাতে শিক্ষার্থীদের সেই ভাবে গড়ে তোলা হয়, যেভাবে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারবে এবং জাতির জন্য কিছু করার সুযোগ তৈরি হয়।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি’সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও সামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কামরুল হাসানসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শৈশবে বন্ধুদের সাথে কাটানোর দিনগুলো কথা স্মরণ করেন এবং প্রাণপ্রিয় শিক্ষকদের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর পুরনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। আড্ডা, সেলফি আর স্মৃতিচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পরবর্তীতে দুপুরের খাবারের পর বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঢাকা থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশিত গান পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। প্রাক্তন বন্ধুরা মিলে নেচে-গেয়ে মুহূর্তের জন্য যেন সেই শৈশবে স্মৃতিতে হারিয়ে গিয়েছে। এসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বিশাল জনসমাবেশে রূপ নেয়। সবশেষে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজক কমিটি জানান, ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধন অটুট রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

বিগত দিনে শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে : খাদ্য সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার

আপডেট : ০৬:৫৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নন্দলালপুর ছামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠান।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মুক্ত আকাশে কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে উক্ত বিদ্যালয়ের ১৯৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল বাশার এবং ১৯৯১ ব্যাচের শিক্ষার্থী জিসান আহাম্মেদ রুবেল-এর প্রাণবন্ত যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় সচিব মোঃ ফিরোজ সরকার।
তিনি শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। খাদ্য সচিব বলেন, একজন উন্নত বিত্তশালী মানুষ না হয়ে একজন ভালো মানুষ হওয়া জরুরী। আমাদের সেই ছাত্রজীবনের কথা মনে পড়ে, তখনকার শিক্ষকরা ছিলেন খুবই শাসনপরায়ণ। আমাদের অনেক শাসন করতেন। এখনকার ছাত্রদের শাসন করা যায় না। অথচ তখন আমাদের কাছ থেকে পড়ালেখা আদায় করে নিতেন শিক্ষাগুরুরা। আজ প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে সেই ছাত্রজীবনের কথা মনে পড়ে গেল।
ফিরোজ সরকার আরো বলেন, বিগত দিনে শিক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া আরো বিকল্প তেমন কিছুই নেই। আমি প্রতিটি শিক্ষককে অনুরোধ করবো যাতে শিক্ষার্থীদের সেই ভাবে গড়ে তোলা হয়, যেভাবে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারবে এবং জাতির জন্য কিছু করার সুযোগ তৈরি হয়।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি’সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও সামাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কামরুল হাসানসহ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শৈশবে বন্ধুদের সাথে কাটানোর দিনগুলো কথা স্মরণ করেন এবং প্রাণপ্রিয় শিক্ষকদের গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর পুরনো বন্ধুদের কাছে পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। আড্ডা, সেলফি আর স্মৃতিচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। পরবর্তীতে দুপুরের খাবারের পর বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ও বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঢাকা থেকে আগত জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশিত গান পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। প্রাক্তন বন্ধুরা মিলে নেচে-গেয়ে মুহূর্তের জন্য যেন সেই শৈশবে স্মৃতিতে হারিয়ে গিয়েছে। এসময় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বিশাল জনসমাবেশে রূপ নেয়। সবশেষে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজক কমিটি জানান, ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধন অটুট রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।