ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামে বিপর্যস্ত চাঁদপুর: ২৮ শি”শু হাসপাতালে, তিনজনের মৃ”ত্যু

  • ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট : ০৭:০১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • 128

চাঁদপুর জেলায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া হাজীগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কয়েকজন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে জ্বর, সর্দি-কাশি ও ফুসকুড়ির উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা থাকলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে বেড না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর শ্বাসকষ্ট, খেতে না পারা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পরও কিছু শিশুর পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত: বিনামূল্যে টিকা ও কৃমিনাশক প্রদান

হামে বিপর্যস্ত চাঁদপুর: ২৮ শি”শু হাসপাতালে, তিনজনের মৃ”ত্যু

আপডেট : ০৭:০১:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

চাঁদপুর জেলায় হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই চাঁদপুর সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া হাজীগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কয়েকজন শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে জ্বর, সর্দি-কাশি ও ফুসকুড়ির উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা থাকলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে বেড না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর শ্বাসকষ্ট, খেতে না পারা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পরও কিছু শিশুর পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।